kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

‘শিবির সন্দেহে’ বুয়েট ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা

ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মীর নিষ্ঠুরতায় হতবাক সবাই

নিজস্ব প্রতিবেদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



‘শিবির সন্দেহে’ বুয়েট ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা

একটি ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে শিবির সন্দেহে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী। আবরার ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। গতকাল সোমবার ভোরে বুয়েটের শেরেবাংলা হল থেকে উদ্ধার করা হয় তাঁর লাশ। ঘটনার পর থেকে বুয়েটে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা আবরার হত্যার বিচারের দাবিতে শেরেবাংলা হলে অবস্থান নিয়েছেন। এমনকি উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১৯ জনকে শনাক্ত ও ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গতকাল রাত ৮টার দিকে আবরার ফাহাদকে হত্যার ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। চকবাজার থানার ওসি আলী হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওসি কালের কণ্ঠকে বলেন, আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। এরই মধ্যে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ ও প্রাথমিক তদন্ত শেষে অন্যদেরও শনাক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া বুয়েট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে চকবাজার থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সিনিয়র শিক্ষকদের নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে বুয়েটের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কৃষ্ণপদ রায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত চলছে। ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’

আটকরা হলেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহতাসিম ফুয়াদ, সহসম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু, উপদপ্তর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ, উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, উপ-আইন সম্পাদক অমিত সাহা, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিওন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার এবং গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ মুন্না।

গতকাল রাতেই আবরার হত্যার একটি ভিডিও ফুটেজ গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, আবরারকে মারধরের পর কক্ষ থেকে বের করা হয়। প্রথমে একজনকে বারান্দা দিয়ে কিছুটা দৌড়ে এসে দাঁড়াতে দেখা যায়। এরপর তিনি একই পথে ফিরে যান। কিছুক্ষণ পর আবরারকে তিনজন ধরাধরি করে নিয়ে আসেন। তাঁদের পেছনে একজনকে হেঁটে আসতে দেখা যায়, তাঁর পেছনে আরেকজন হেঁটে আসেন। এর পরপরই আরো পাঁচজন ওই বারান্দা দিয়ে হেঁটে আসেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আবরার গত শনিবার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। পরে সেটি ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল ডিপার্টমেন্টের ১৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী ইশতিয়াক মুন্নার নজরে আসে। তিনি একই হলের শিক্ষার্থী বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু, উপদপ্তর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ, উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, উপ-আইন সম্পাদক অমিত সাহা, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকারকে বিষয়টি জানিয়ে আবরারকে ডেকে আনার নির্দেশ দেন। তাঁরা সবাই ১৬ ও ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী।

সেখানে নেওয়ার পর আবরারের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নেওয়া হয়। তার ফেসবুক মেসেঞ্জার চেক করাসহ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর শুরু হয় মারধর। একপর্যায়ে আবরার অচেতন হয়ে পড়লে কোলে করে মুন্নার ২০০৫ নম্বর কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার আরো অবনতি হলে দোতলা ও নিচতলার সিঁড়ির মধ্যবর্তী জায়গায় অচেতন আবরারকে নিয়ে যান তাঁরা। এরপর হল প্রভোস্ট ও চিকিৎসককে খবর দেওয়া হয়। চিকিৎসক এসে আবরারকে মৃত ঘোষণা করেন। তখন কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দেয়।

বুয়েট ছাত্রলীগের সহসম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু আটক হওয়ার আগে গতকাল সকালে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আবরারকে শিবির সন্দেহে রাত ৮টার দিকে ১৭ ব্যাচের ছাত্রলীগের সদস্য মুন্তাসির আল জেমি ও এহতেশামুল রাব্বি তানিম ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে আনেন। সেখানে তাঁর মোবাইলে ফেসবুক ও মেসেঞ্জার চেক করে বিতর্কিত কিছু পেইজে তাঁর লাইক দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।’

তবে আবরারের ফেসবুক আইডিতে গিয়ে দেখা যায়, গত ৫ অক্টোবর বিকেল ৫টা ৩২ মিনিটে তিনি একটা পোস্ট দেন। সেখানে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর ভারত আমাদের কলকাতা বন্দর ব্যবহার করতে দেয়নি। অথচ এখন ভারতকে মোংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য হাত পাততে হচ্ছে বলে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বর্তমানে ভারতে পানি দেওয়া ও গ্যাস রপ্তানির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বরের অন্য পোস্টে ভারতকে ইলিশ দেওয়া ও তাদের ফারাক্কার বাঁধ খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সূত্র জানায়, শেরেবাংলা হলে প্রায়ই শিবির সন্দেহে ছাত্রলীগের মারধরের শিকার হতেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গত দু-তিন দিন আগে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৫ ব্যাচের এহতেশামুল আজিম নামে এক শিক্ষার্থীকে ফেসবুকের বিভিন্ন বিতর্কিত পেইজে লাইক দেওয়ার অপরাধে মারধর করে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়। আবরার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীরাই আজিমকে বের করে দেন বলে হলের একাধিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। এ ছাড়া গত এক মাসে বিভিন্ন অভিযোগ এনে ৮-১০ জন শিক্ষার্থীকে মারধর করে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ২০১১ নম্বর কক্ষে প্রায়ই মদের আড্ডা বসত বলে জানান শিক্ষার্থীরা। প্রায়ই কক্ষ থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির কথাও শোনা যেত।

আবরার ফাহাদের (২১) ময়নাতদন্ত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে গতকাল দুপুরেই সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তকালে তাঁর দেহে অসংখ্য জখমের চিহ্ন এবং হাত-পায়ের বিভিন্ন স্থানে কালচে দাগের চিহ্ন পেয়েছেন চিকিৎসকরা। বেশ কয়েকটা আঘাত ও রক্তক্ষরণে তিনি মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন ময়না তদন্তকারি চিকিৎসক।

তবে গতকাল খুব সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আবরার যেই রুমে থাকতেন সেই ১০১১ নম্বর রুমে কেউ নেই। ওই রুমের বাকি তিন শিক্ষার্থী ১০১০ নম্বর রুমে অবস্থান নিয়েছেন। আবরারের টেবিলে একটি খাতা খোলা রয়েছে। খাতার ওপর একটি কলম রয়েছে। একটি অঙ্ক অর্ধেক করে রাখা হয়েছে। আর যেই রুমে আবরারকে হত্যা করা হয়েছে সেই ২০১১ নম্বর রুমে একটি বিছানার ওপর দড়ি পাওয়া যায়। এরপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে স্ট্যাম্প, লাঠি ও মদের কিছু খালি বোতল। পরে পুলিশ সেগুলো উদ্ধার করে নিয়ে যায়। ওই রুমে থাকতেন ছাত্রলীগ নেতা অমিত সাহা, মুজতবা রাফিদ, ইফতি মোশাররফ সকালসহ আরো একজন।

তবে শেরেবাংলা হলের প্রতিটি ফ্লোরেই সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। এমনকি আবরারকে যেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়, আবার যেখানে ফেলে রাখা হয় সেখানেও সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। আবরারকে যেখানে ফেলে রেখে যাওয়া হয় সেখানে গত রবিবার রাতে দায়িত্ব পালন করছিলেন সিকিউরিটি গার্ড মোস্তফা ও ডাইনিং বয় শামসু।

নাম প্রকাশ না করে আবরারের একজন রুমমেট ঘটনার বিষয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘টিউশনি শেষে রুমে রাত ৯টার দিকে আসি। তখন আবরার রুমে ছিল না। রাত ২টায় খবর পাই আবরারের লাশ সিঁড়িতে পড়ে আছে। তার সঙ্গে জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা আছে বলে কখনো মনে হয়নি। তবে সে নামাজ পড়ত। দু-একবার তাবলিগ জামাতেও গিয়েছে।’

বুয়েটের ডাক্তার মাসুক এলাহী বলেন, ‘রাত ৩টার দিকে হলের শিক্ষার্থীরা আমাকে ফোন দেয়। আমি হলে গিয়ে সিঁড়ির পাশে ছেলেটিকে শোয়ানো অবস্থায় দেখতে পাই। ততক্ষণে ছেলেটি মারা গেছে। তার সারা শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাই।’

শেরেবাংলা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাফর ইকবাল খান বলেন, ‘ডাক্তারের ফোন পেয়ে হলে আসি। এসে দেখি ছেলেটির লাশ পড়ে আছে। ডাক্তার জানান ছেলেটি আর নেই। পরে তাকে পুলিশের সহায়তায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাটি খতিয়ে দেখছেন। হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের সব ধরনের সহায়তা করা হবে।’

উত্তাল বুয়েট : দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার হত্যার খবরে উত্তাল হয়ে উঠেছে বুয়েট। সাধারণ শিক্ষার্থীরা শেরেবাংলা হলে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁরা গতকাল সকাল থেকেই সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছেন। দফায় দফায় তাঁরা আবরার হত্যার বিচারের দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন। গতকাল বিকেল ৫টার দিকে আরবারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ বুয়েটে এসে পৌঁছান।

গতকাল সকালে আবু তালহা নামে আরবারের ফুফাতো ভাই কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সে খুবই শান্তশিষ্ট ও মেধাবী ছিল। তার পরিবার আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আরবারের পরিবার মাহবুবউল আলম হানিফের নির্বাচনী প্রচারণায় ছিলেন।’

এদিকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি যতটুকু বুঝি, এখানে ভিন্নমতের জন্য একজন মানুষকে মেরে ফেলার অধিকার কারো নেই। কাজেই এখানে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। ভারত সফরে দেশ বিক্রিও তো বলে ফেলছে বিএনপি। তাই বলে কি বিএনপিকে আমরা মেরে ফেলব?’

এদিকে আরবার হত্যাকাণ্ডে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

বুয়েট ছাত্রলীগ সভাপতি খন্দকার জামিউশ সানি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এমন একটি ঘটনায় ছাত্রলীগের কর্মীরা জড়িত থাকতে পারে—এমন ভাবাও কষ্টের। এটা খুবই ন্যক্কারজনক। এখানে ছাত্রলীগের ছেলে হিসেবে নয়, অপরাধী যে-ই হোক তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’

১১ জনকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার : আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ছাত্রলীগের ১১ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাঁদের ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃতরা হলেন মেহেদি হাসান রাসেল (সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা), মুহতাসিম ফুয়াদ (সহসভাপতি, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা), মেহেদি হাসান রবিন (সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা), অনিক সরকার (তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা), মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (ক্রীড়া সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা), মনিরুজ্জামান মনির (সাহিত্য সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা), ইফতি মোশাররফ সকাল (উপসমাজসেবা সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা), মুজতবা রাফিদ (উপদপ্তর সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা), মুনতাসির আল জেমি (সদস্য, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা), এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সদস্য, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা) মুজাহিদুর রহমান (সদস্য, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা)।

হত্যার ঘটনায় গঠন করা ছাত্রলীগের তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

সবাইকে তদন্তে সহায়তা করতে কর্তৃপক্ষের আহ্বান : এদিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আবরার ফাহাদের মৃত্যুকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক বলে মন্তব্য করে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তদন্ত কার্যক্রমে সহায়তা করার অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

গতকাল রাতে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আবরার ফাহাদের মৃত্যুর ঘটনায় চকবাজার থানায় জিডি করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় পুলিশ এরই মধ্যে তাদের তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। পুলিশ হলের ঘটনায় আশপাশের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। এই ঘটনায় শিক্ষা উপমন্ত্রীর সঙ্গে উপাচার্যের সকাল থেকে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। উপমন্ত্রী দোষীদের যথাযথ শাস্তির বিষয়ে কঠোর মনোভাব ব্যক্ত করেছেন।

জানাজা শেষে মরদেহ হস্তান্তর : গতকাল রাত পৌনে ১০টায় বুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদে আবরারের জানাজা শেষে মরদেহ তাঁর বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাঁর মরদেহ দাফনের উদ্দেশ্যে কুষ্টিয়ায় গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।

জানাজা শেষে আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ ছেলে হত্যায় জড়িত সবার ফাঁসির দাবি জানান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দাবি রাখেন, ‘আমার ছেলের হত্যাকারীদের যেন দ্রুত গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রের কাছেও আমার দাবি থাকবে, আর যেন কোনো বাবাকে এভাবে ছেলেহারা হতে না হয়।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা