kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

‘ছাত্রলীগের পর এবার ধরেছি যুবলীগকে’

ছাত্রলীগ নেতাদের সততা নিয়ে চলার পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘ছাত্রলীগের পর এবার ধরেছি যুবলীগকে’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রজীবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এখন তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী। আর এ জন্যই হয়তো ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর প্রধানমন্ত্রীর আবেগ একটু বেশিই। ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্বকে পাশে পেয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা প্রাণবন্ত আড্ডা ও স্মৃতিচারণা করলেন তিনি। নেতাদের দিলেন ছাত্রলীগকে সাজানোর নানা দিকনির্দেশনা।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণভবনে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যসহ ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। গত শনিবার ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে অপসারণ করে এক নম্বর সহসভাপতি জয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সর্বস্ব না হয়ে সংগঠন পরিচালনায় সিনিয়র ও সবার পরামর্শ নিয়ে সংগঠন পরিচালনার নির্দেশনা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রলীগের অতীত ঐতিহ্য আছে, অর্জন আছে। এটাকে ম্লান হতে দেওয়া যাবে না। সংগঠনের কেউ অপরাধ করলে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। নেতাকে হতে হবে বিনয়ী। কোনো বিষয়ে লোভ করা চলবে না।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে প্রাণবন্ত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নানা স্মৃতি, ছাত্রলীগের অর্জন ও ঐতিহ্য, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পাকিস্তানের গোয়েন্দা প্রতিবেদন, ছাত্রনেতাদের বিনয়ী হওয়া, শো-অফ না করা এবং সততা ও আদর্শ নিয়ে চলার নির্দেশনা দেন।

সভা সূত্র জানায়, সন্ধ্যা ৭টার দিকে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ মিললে প্রথমে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে ছাত্রলীগের প্রতিনিধিদলে যাওয়া নেতারা নিজ নিজ পরিচয় ও পদ প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। এরপরই ঘরোয়া পরিবেশের মতোই প্রধানমন্ত্রী নিজের মতামত তুলে ধরেন।

‘দুই বছর মেয়াদি কমিটি প্রায় ১২ মাস পার করলেও মাত্র দুটি জেলা কমিটি করা সম্ভব হয়েছে। আর কয়েকটি সম্মেলন হলেও কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি, আমরা আপনার নির্দেশনা চাই’—ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আল ইমরানের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী জেলা ছাত্রলীগের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে সাংগঠনিক ট্যুর ও কেন্দ্রীয় নেতাদের জেলায় জেলায় যাওয়ার পরামর্শ দেন।

ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে প্রতি শুক্রবার প্রতিটি সাংগঠনিক ইউনিটে স্টাডি সার্কেল করা ও এতে বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে বই পড়া কার্যক্রম চালুর পরামর্শ চাইলে প্রধানমন্ত্রী তাতে সম্মতি দেন। এই কর্মসূচি কেন্দ্রীয় নেতাদের তত্ত্বাবধান বা মনিটরিংয়ে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি শুক্রবার সাংগঠনিক ইউনিটে এই কর্মসূচি চলবে।

ছাত্রনেতাদের বিনয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘শো-অফের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। কোনো শো-অফ চলবে না। ছাত্রনেতাদের বিনয়ী হয়েই চলতে হবে।’ সংগঠনকে ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, ‘ছাত্রনেতাদের কোনো বিষয়ে লোভ করলে চলবে না। লোভ সংবরণ করেই এগিয়ে যেতে হবে। ছাত্রলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের অতীত ঐতিহ্য আছে সেটা সমুন্নত রাখতে হবে।’

ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্বকে সততা ও আদর্শ নিয়ে চলার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোনো নালিশ শুনতে চাই না। আমি ছাত্রলীগের পর এবার যুবলীগকে ধরেছি। ছাত্রলীগের নিজের ইমেজ বাড়াতে হবে। নীতি-আদর্শ নিয়ে চলতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমাজের অসংগতি এখন দূর করব। একে একে এসব ধরতে হবে। আমি করব, জানি এটা কঠিন কাজ, কিন্তু করব। সবার মাঝে আস্থা, বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। ছাত্রলীগকে সততা, আদর্শ নিয়ে সংযমের সঙ্গে চলতে হবে।’ পাশাপাশি ছাত্রদলের মতো আচরণ না করার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ছাত্রলীগের ২৩ সদস্যের প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। যাতে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সহসভাপতি পাঁচজন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পাঁচজন ও দুজন সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এই প্রতিনিধিদলে তিনজন নারী নেত্রীও ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা