kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঢাকাসহ সারা দেশে শতাধিক ক্যাসিনোর ফাঁদ

বিদেশে পাচার শত শত কোটি টাকা!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিদেশে পাচার শত শত কোটি টাকা!

সিলগালা : বুধবার অভিযানের পর গতকাল সিলগালা করে দেওয়া হয় অনেক অবৈধ ক্যাসিনোর দরজা। ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবটিও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন সিলগালা করে দেয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অন্তত ৬০টি ক্যাসিনো বা জুয়ার আসর নিয়মিত বসে আসছিল। সারা দেশে এমন আরো কমপক্ষে ৪০টি জুয়ার আসরের খোঁজ মিলেছে। ক্ষমতাসীন দলসংশ্লিষ্টদের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতার প্রত্যক্ষ ছত্রচ্ছায়ায় চলা এসব জুয়ার আসর থেকে তুলে নেওয়া কয়েক শ কোটি টাকা এরই মধ্যে দেশের বাইরে পাচার হয়ে গেছে। বিশেষ করে এসব জুয়ার আসর থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে নেপালের একটি চক্র। সে সঙ্গে চীন, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরেও টাকা পাচার হয়েছে।

গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে পরিচালিত অভিযানে ঢাকা দক্ষিণের প্রভাবশালী যুবলীগ নেতা খালেদসহ ২০১ জনকে আটক করার পর তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে র‌্যাব ও গোয়েন্দারা।

সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সব ধরনের জুয়া খেলা নিষিদ্ধ। এর পরও প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় ক্যাসিনো বা জুয়ার কারবার চলছে। এসব জুয়াড়িচক্রের সদস্যরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদেরও টাকার বিনিময়ে হাতে রেখে তৎপরতা চালিয়ে গেছেন নির্বিঘ্নে। জুয়া ছাড়াও এসব ক্যাসিনো পরিণত হয়েছিল মদ, ইয়াবাসহ নানা মাদক সেবনের আখড়ায়। বেশ কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর পাশাপাশি আন্ডারওয়ার্ল্ভ্র সন্ত্রাসীদের একটি বড় অংশ এর নেপথ্যে রয়েছে। এসব ক্যাসিনোতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল চিহ্নিত ও দাগী এমনকি ভাড়াটে কিলারদেরও।

জুয়ার এই জমজমাট কারবার নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অন্তঃকোন্দলও ছিল চরমে। আটটি অত্যাধুনিক একে-টু টু রাইফেলসহ অন্তত ৭০টি ক্ষুদ্র অস্ত্র রয়েছে এই চক্রের গডফাদারদের নিয়ন্ত্রণে। এসব অস্ত্রের মাধ্যমে হত্যা, টেন্ডারবাজির পাশাপাশি মাদকের কারবার নিয়ন্ত্রণ হতো। এর আগে

যুবলীগ নেতা মিল্কিসহ আরো বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডে এসব অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে। দেশের বাইরে এই চক্রের অন্যতম সদস্য নেপালের দিনেশ শর্মা। তাঁর হাত ধরেই ঢাকায় ক্যাসিনো ব্যবসায় আড়াই শতাধিক এবং সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরগুলোতে দেড় শ নেপালি এই কারবার নিয়ন্ত্রণ করতেন। অথচ তাঁদের কোনো বৈধ কাগজপত্র পর্যন্ত নেই।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, দেশে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসায় প্রভাবশালী রাজনীতিবদরা জড়িত কি না তা তদন্তের বিষয়। তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনের কেউ এই কারবারে প্রশ্রয় দিয়ে থাকলে তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যুবলীগ নেতার অবৈধ ক্যাসিনোতে অভিযান প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনুমতি ছাড়া ক্যাসিনো চালানোর কারণে অভিযান চালানো হয়েছে। প্রশাসন যখন জেনেছে, তখনই অভিযান চালানো হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক আগেই ক্যাসিনো বা জুয়ার আসর সম্পর্কে একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। সেই প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরেও পাঠানো হয়। তবে গোয়েন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিগত বিএনপি সরকারের সময় থেকেই দেশে ক্যাসিনো কারবার চলছে। ২০১৭ সাল থেকে দেশে ক্যাসিনো বা জুয়া কারবার ব্যাপক হারে বিস্তার লাভ করতে থাকে। ওই বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তর থেকে রাজধানীর রমনা, লালবাগ, ওয়ারী, মতিঝিল, মিরপুর, তেজগাঁও, উত্তরা ও গুলশান এলাকায় ব্যাপক হারে ক্যাসিনো কারবার শুরু হয়।

ওইসব ক্যাসিনোর কারবার সম্পর্কে খোঁজ নিতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তর ও দক্ষিণ-পূর্ব-পশ্চিম এবং সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেওয়া হয়। ডিএমপি সদর দপ্তরের ওই চিঠিতে জুয়ার আসর বসে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম-ঠিকানা তুলে ধরা হয়। ডিএমপির সাবেক কমিশনার এসব অবৈধ ক্যাসিনো বন্ধে উদ্যোগও নিয়েছিলেন। তবে বাস্তবে সেই পদক্ষেপের কোনো অগ্রগতি ছিল না।

ডিএমপির বর্তমান কমিশনার শফিকুল ইসলাম গতকাল সকালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাজধানীতে অবৈধ জুয়ার আড্ডা ও ক্যাসিনো চলতে দেওয়া হবে না। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার জুয়ার আসর ও ক্যাসিনোর তালিকা করা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে একটি জোনের তালিকা পেয়ে গেছি।’

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা