kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মন্ত্রিসভায় আইনের খসড়া অনুমোদন

স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অলস টাকা চায় সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অলস টাকা চায় সরকার

স্বায়ত্তশাসিত ও স্বশাসিত ৬৮টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকে থাকা প্রয়োজন অতিরিক্ত টাকা দেশের উন্নয়নকাজে লাগাতে চায় সরকার। এমন বিধান রেখে নতুন একটি আইন আসছে। সরকার বলছে, আর্থিক সংকটে থাকা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে এ টাকা কাজে লাগানো হবে। অন্যদিকে সড়ক পরিবহন আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে মন্ত্রিসভায়।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ‘স্বায়ত্তশাসিত, আধাস্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশনসহ স্বশাসিত সংস্থাগুলোর উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান আইন, ২০১৯’ নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। একই বৈঠকে ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন আইন ২০১৯’-এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি টাকা হাতে রয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) ২১ হাজার ৫৮০ কোটি, পেট্রোবাংলার ১৮ হাজার ২০৪ কোটি, ডিপিডিসির ১৩ হাজার ৪৫৪ কোটি, চট্টগ্রাম বন্দরের ৯ হাজার ৯১৩ কোটি এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চার হাজার ৩০ কোটি। এ ছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ৪২৫ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই হাজার ২৩২ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত রয়েছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজনীয় পরিচালন ব্যয়সহ অন্যান্য খরচ রাখার পর যে টাকা অবশিষ্ট থাকে, আইন হলে সেটিই সরকারকে দিতে হবে। এক প্রশ্নের বাবে তিনি বলেন, এর জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিপদে ফেলা হবে না। তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, সরকারের হিসাবে ৬৮টি সরকারি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যাংকে স্থায়ী আমানতের পরিমাণ দুই লাখ ১২ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এ টাকাগুলো বিনিয়োগ হচ্ছে না। এ কারণে সরকার চাচ্ছে আইনের মাধ্যমে এগুলো সরকারের কোষাগারে নিয়ে জনকল্যাণমূলক কাজ করা।

মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলো তাদের পরিচালন ব্যয়, নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বার্ষিক ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জমা রাখবে। আপৎকালীন ব্যয় নির্বাহের জন্য পরিচালন ব্যয়ের ২৫ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থ সংরক্ষণ করতে পারবে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের বিধি মোতাবেক যদি পেনশন, প্রভিডেন্ড ফান্ড থাকে সেটিও রেখে দেবে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) আইন সম্পর্কে শফিউল আলম বলেন, ১৯৬১ সালের অধ্যাদেশ দিয়ে বিআরটিসি চলছে। এই অধ্যাদেশকে ঘষামাজা করে আইনে পরিণত করা হয়েছে। এটির খুব বেশি পরিবর্তন নেই। তিনি বলেন, হরতাল, পরিবহন ধর্মঘট, জরুরি অবস্থা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশ্ব ইজতেমা ইত্যাদি উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটি আগে থেকেই সেবা দিচ্ছিল। এখন এসব বিষয় আইনে যুক্ত করা হয়েছে।

জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশ সবার ওপরে

এদিকে ইউএনবি জানায়, ১০ বছর ধরে জিডিপিতে চলতি বাজারমূল্যে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি সারা বিশ্বে সবার ওপরে রয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত দ্য স্পেক্টেটর ইনডেক্সে বিশ্বের শীর্ষ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশের তথ্যের ভিত্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত ২৯ আগস্ট প্রকাশিত এ তথ্যে এক দশকে বাংলাদেশের জিডিপি ১৮৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে গত ১০ বছরে আমরা বিশ্বে চলতি বাজারমূল্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ১ নম্বর স্থান নিশ্চিত করেছি।’ দ্য স্পেক্টেটর ইনডেক্সের বরাত দিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘এ সময় অন্যান্য দেশের মধ্যে চীন ১৭৭, ভারত ১১৭, ইন্দোনেশিয়া ৯০, মালয়েশিয়া ৭৮, অস্ট্রেলিয়া ৪১ এবং ব্রাজিল ১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা