kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষায় অনীহা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষায় অনীহা

সরকার মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়ার পর রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ডেঙ্গু পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার চারটি চিকিৎসাকেন্দ্রের পাঁচটি শাখায় গিয়ে এ অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।

গত ২৮ জুলাই রাজধানীর সব বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ডেঙ্গু পরীক্ষার মূল্য নির্ধারণ করে দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সে হিসাবে ডেঙ্গুর মূল পরীক্ষা এনএসওয়ানের (NS1) জন্য সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা, আইজিজি (IGG) ও আইজিএম (IGM) পরীক্ষার মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৫০০ টাকা। সিবিসি (CBC) পরীক্ষার মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৪০০ টাকা। এ ছাড়া সরকারি হাসপাতালগুলোতে এই পরীক্ষাগুলো বিনা মূল্যে করার কথা বলা হয়।

গত শুক্রবার রাজধানীর মহাখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকার মেট্রোপলিটন মেডিক্যাল সেন্টার লিমিটেড হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে ডেঙ্গু রোগের মূল পরীক্ষা এনএসওয়ান, আইজিজি, আইজিএম ও সিবিসি পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এসব পরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত উপকরণ শেষ হয়ে যাওয়ায় এ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

তবে কয়েকজন রোগী ও একজন নার্স জানালেন, ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি সরকার নির্ধারণ করে দেওয়ায় এসংক্রান্ত মুনাফা কমে গেছে। এ কারণে হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মেডিসিন শেষ, ল্যাব সহকারী নেই—এ রকম নানা অজুহাতে পরীক্ষা করতে আসা ব্যক্তিদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এ প্রতিবেদক নিজে রোগী সেজে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে চাইলে হাসপাতালের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘মেডিসিন শেষ। অন্য হাসপাতাল থেকে পরীক্ষা করে নিন।’

মেট্রোপলিটন মেডিক্যালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ডেঙ্গু পরীক্ষা করার মেডিসিন নিয়ে কিছুটা সংকটে আছি। তার পরও বিভিন্ন জায়গা থেকে মেডিসিন নিয়ে এসে ডেঙ্গু পরীক্ষার কাজ করছি। মেডিসিনের ব্যবস্থা করতে অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। আজ (শুক্রবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত পরীক্ষাগুলো চলার পর বন্ধ করে দেওয়া হয়।’ দুপুরের দিকে এ প্রতিবেদককে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আসলে আমি বিষয়টি জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখব।’

স্ত্রীর ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে ইংলিশ রোডের মেডিনোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও পুরান ঢাকার রায় সাহেব বাজার মোড়ে ল্যাবএইডে যান পুলিশ কর্মকর্তা দেওয়ান লালন আহমেদ। কিন্তু মেডিনোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পক্ষ থেকে এনএসওয়ানের কিট শেষ হওয়ার কথা বলা হয়। লালন বলেন, ‘আমার স্ত্রী খুব অসুস্থ, ডেঙ্গুর উপসর্গ আছে, নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডাক্তার টেস্ট করতে দিয়েছেন; কিন্তু এ টেস্ট নিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই। আমার বাসার (পুরান ঢাকার ওয়ারীতে) কাছে ইংলিশ রোডের মেডিনোভা ও ল্যাবএইডে গিয়ে শুনতে হলো যে তারা ডেঙ্গুর পরীক্ষা করে না। কারণ এই পরীক্ষাতে তাদের লাভ হয় না।’

ইংলিশ রোডে অবস্থিত পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দেখা গেল ডেঙ্গু পরীক্ষা বন্ধের আনুষ্ঠানিক বার্তা। সেখানে কর্তৃপক্ষের টাঙানো নোটিশে বলা হয়, ‘রি-এজেন্ট শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে ডেঙ্গু আইজিজি, আইজিএম ও এনএসওয়ান পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকেই ডেঙ্গুর পরীক্ষা বন্ধ রাখা হয় পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ইংলিশ রোডের ওই শাখাতে। ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে এসে ফিরে যাওয়া জুয়েল রানা বলেন, ‘ডেঙ্গু যখন মহামারির আকার ধারণ করেছে, সেখানে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর উদাসীনতা মেনে নেওয়া যায় না।’

যোগাযোগ করা হলে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ইংলিশ রোড শাখার জনসংযোগ কর্মকর্তা আবুল হাশেম হীরা বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ডেঙ্গু পরীক্ষা বন্ধ থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘মূলত প্রধান শাখা থেকে আমাদের জন্য মেডিসিন সরবরাহ করা হয়। শুনেছি মেডিসিন পাওয়া যাচ্ছে না।’

আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ’র (এআইইউবি) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড  ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসিব তিন দিন ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছেন। মাঝেমধ্যে বমি হচ্ছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় অবস্থিত পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এসেছিলেন ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে। সঙ্গে ছিলেন খালাতো ভাই আবু জাহিদ। ‘কীট নেই’ অজুহাতে তাঁদেরও ফিরিয়ে দেওয়া হয় পপুলারের উত্তর বাড্ডার ওই শাখা থেকে।

আবু জাহিদ বলেন, ‘খুব অসুস্থ হওয়ায় ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য আমার খালাতো ভাইকে (মেহেদী হাসিব) উত্তর বাড্ডার পপুলারে নিই। অভ্যর্থনা কক্ষ থেকে দোতলায় যেতে বলে। এরপর দোতলায় গিয়ে শুনি, পরীক্ষা হবে না। এখানে কবে নাগাদ পরীক্ষা করাতে পারব, তারও উত্তর মেলেনি। রোগীদের এভাবে কষ্ট দেওয়ার কোনো মানে হয় না।’

এ বিষয়ে জানতে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের উত্তর বাড্ডা শাখায় ফোন করা হলে অন্য প্রান্ত থেকে লাইন কেটে দেওয়া হয়। পরে বেশ কয়েকবার টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো সাড়া মেলেনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা