kalerkantho

উপায়ান্তর না পেয়ে ভোক্তারা কিনছে আগের মজুদ দুধ

এম সায়েম টিপু ও মাসুদ রানা   

৩১ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উপায়ান্তর না পেয়ে ভোক্তারা কিনছে আগের মজুদ দুধ

দেশের পাস্তুরিত তরল দুধে বিষাক্ত সিসা ও অ্যান্টিবায়োটিক রয়েছে— এমন আলোচনায় ভোক্তারা বেশ কিছুদিন ধরেই বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছিল। তাদের অভিযোগ—দীর্ঘদিন ধরে এমন আলোচনা-প্রচারণা চললেও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোনো দিকনির্দেশনা দেয়নি। তবে অন্যান্য অনেক বিষয়ের মতো এ ক্ষেত্রেও আদালত এগিয়ে এসে তরল দুধ সরবরাহকারী বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানকেই পাঁচ সপ্তাহের জন্য উৎপাদন ও বিপণন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এতে প্রতিষ্ঠানগুলো সরবরাহ বন্ধ করলেও পাড়া-মহল্লার দোকানদাররা আগে মজুদ রাখা দুধ বিক্রি করে যাচ্ছে। উপায়ান্তর না পেয়ে ভোক্তারাও তা কিনছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে এমনটাই দেখা যায়। দোকানিরা বলছে, আগের পণ্য বিক্রিতে আদালতের কোনো বিধিনিষেধ নেই। অন্যদিকে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও বলছে, আগের সরবরাহ করা পণ্য প্রত্যাহারের কোনো নির্দেশনা দেননি আদালত। তবে ইতিমধ্যে আদালত দেশের বৃহত্তম পাস্তুরিত তরল দুধ ব্র্যান্ড মিল্ক ভিটা এবং প্রাণ ও ফার্মফ্রেশের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তবে গতকাল পাড়া-মহল্লার কয়েকটি দোকানে গিয়ে দেখা যায়, আদালতের এই নির্দেশনা না জানায় তারা এই তিন ব্র্যান্ডের দুধ সংগ্রহ করেনি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোক্তারা কী ভাবছে জানতে চাইলে রাজধানীর দক্ষিণ শাহজাহানপুরের বাসিন্দা মমতাজ লিপি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানো বন্ধ করে দিয়েছি বেশ কিছুদিন ধরে। কেননা দুধে ভেজাল নিয়ে পত্রপত্রিকায় প্রচারণা চললেও সরকার নির্বিকার। কোনো দিকনির্দেশনা নেই। এমন পরিস্থিতিতে বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানো বন্ধ করে দিয়েছি।’ 

দক্ষিণ শাহজাহানপুরের রাইয়ান স্টোরের কর্মী লিটন আহমেদ বলেন, পাস্তুরিত তরল দুধের চাহিদা অনেক কমেছে। কেউ কেউ বেশি দামে বিকল্প হিসেবে কিনছেন গুঁড়া দুধ অথবা স্থানীয়ভাবে খামারের সরবরাহ করা দুধ। আবার কেউ কেউ অপেক্ষা করছে সরকারের পক্ষ থেকে কী দিকনির্দেশনা আসে তা দেখতে।’ তিনি জানান, সোমবার আদালত মিল্ক ভিটার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছেন এটা জানা না থাকায় আজ (গতকাল) কোনো দুধ রাখেনি। 

তবে শহীদবাগের ভূঁইয়া এন্টারপ্রাইজ দোকানের কর্মী মাহবুব বলেন, ‘দুধে কি ভেজাল আছে তা নিয়ে ক্রেতাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। আমাদের দুধ বিক্রি বন্ধ নেই। সরবরাহও পর্যাপ্ত। আজ সকালেও মিল্ক ভিটা দুধ সরবরাহ করেছে। ইতিমধ্যে সরবরাহকৃত দুধের অধিকাংশই বিক্রি হয়ে গেছে।’ এই দোকানে দুধ কিনতে আসেন শহীদবাগের বাসিন্দা মিথিলা বেগম। প্রশ্নের জবাবে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ভেজাল খেতে খেতে প্রুফ হয়ে গেছি। এখন আর ভেজাল নিয়ে ভাবি না; কেননা ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্যের কাটতি বাড়াতে নানা কৌশলের আশ্রয় নেয়। এটা তেমন একটা কৌশল হতে পারে। তা ছাড়া সরকারও তো এখনো বলছে না, এই দুধ খাওয়া যাবে না।’ 

রাজধানীর বড় বড় সুপার শপগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, কোনো ধরনের তরল দুধ নেই তাদের আউটলেটে। কর্মকর্তারা জানান, কর্তৃপক্ষ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা কোনো তরল পাস্তুরিত দুধ তাঁদের আউলেটে ওঠাবেন না।

পুরান ঢাকার রায় সাহেব বাজার, লক্ষ্মীবাজার, ওয়ারী, নারিন্দা, দয়াগঞ্জ, ধূপখোলা এলাকার অধিকাংশ দোকানে গতকালও বিক্রির জন্য বিভিন্ন কম্পানির পাস্তুরিত দুধ দেখা যায়। দোকানদাররা জানায়, কম্পানিগুলো এ দুধ বিক্রিসংক্রান্ত কোনো তথ্য তাদের জানায়নি। নারিন্দার ইব্রাহিম জেনারেল স্টোরের মালিক বিল্লাল বলেন, ‘কম্পানি দুধ বিক্রিতে কোনো নিষেধাজ্ঞার কথা জানায়নি। তাই আমরা এ দুধ বিক্রি করছি। তা ছাড়া ক্রেতারা এ দুধ নিয়েও কোনো অভিযোগ দেয়নি।’

ভাই ভাই স্টোরের মালিক মো. জসীম উদ্দীন বলেন, আমার দোকানে মিল্ক ভিটা দুধ ছাড়া অন্য কম্পানির কোনো দুধ নেই। পাস্তুরিত দুধ কিনতে আসা এক নারী বলেন, ‘আমরা এত কিছু বুঝি না, কোন কম্পানির দুধ ভালো আর কোনটা ভালো না। দোকানে যে কম্পানির দুধ পাই সেটাই কিনে নিয়ে যাই।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা