kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

কালের কণ্ঠকে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর

এমপিপুত্রকে বাঁচাতেই মিন্নিকে ফাঁসাচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল   

২২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এমপিপুত্রকে বাঁচাতেই মিন্নিকে ফাঁসাচ্ছে

আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেছেন, তাঁর মেয়ে জীবন বাজি রেখে স্বামী রিফাত শরীফকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও তাঁকেই এখন ফাঁসানো হচ্ছে। মূলত স্থানীয় সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলেকে বাঁচাতেই মিন্নিকে ফাঁসানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

গতকাল রবিবার কালের কণ্ঠের সঙ্গে সাক্ষাতকারে মোজাম্মেল হোসেন এ দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে জীবন বাজি রেখে স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছে। দেশবাসী সেই ভিডিও দেখেছে। সেই চেষ্টাই কী তার অপরাধ? সেই অপরাধেই তাকে সাক্ষী থেকে আসামী করা হল? টানা ১২ ঘন্টা পুলিশ মিন্নিকে নির্যাতন করেছে। তাতেই তারা ক্ষান্ত হয়নি, তাকে রিমান্ডে নিল। যেখানে আমি আইনি লড়াইয়ে আইনজীবিদের সাহায্য পাইনি। রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করে তার স্টেটমেন্ট নেওয়া হল।’ তিনি আরো বলেন, ‘স্বামী হারা মেয়েটি ঘটনার পরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। কয়েকমাস আগেও মিন্নিকে মানসিক রোগের জন্য চিকিত্সকের কাছে নিয়েছিলাম। তারপরেও ওকে নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায় করা হল। কেন হল? কারণ একটাই। আর সেটা হচ্ছে তার (এমপি ধীরেন্দ  দেবনাথ শম্ভু) ছেলে সুনাম দেবনাথ (জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক), মাদক সম্রাট। ছেলেকে সেইভ করার জন্য আমার মেয়েহয়ে যাচ্ছে। আমি মেয়ের জন্য একজন আইনজীবীও পেলাম না।’

তবে গতকাল মিন্নির জামিন আবেদনের শুনানিতে তাঁর পক্ষে আদালতে আইনজীবী ছিলেন।

শনিবার রাতে মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলামের সঙ্গে সংসদ সদস্য শম্ভুর বৈঠক হয়েছে। এ ব্যাপারে মিন্নির বাবা বলেন, ‘রাতেই বিষয়টি সাংবাদিকরা আমাকে অবহিত করেছিলেন। তখনই ভেবেছি, মেয়ের জামিন হবে না। প্রভাবশালীরা যদি মামলায় প্রভাব বিস্তার করে, তাহলে আমাদের মতো পরিবারগুলো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে।’ মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘এমনিতেই এমপির বিরুদ্ধে আদালত চত্বরে কথা বলে ঝামেলার মধ্যে রয়েছি। নতুন করে ঝামেলা আর বাড়াতে চাই না।’

মিন্নির বাবা বলেন, ‘শম্ভুবাবুর পক্ষে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট চেয়েছি। কিন্তু তাঁর ছেলে রিফাত খুনের পরদিন মিন্নিকে ইঙ্গিত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখে জনগণের নজর পাল্টে ফেলেন। কারণ এলাকায় তাঁর বেশ পরিচিতি। তিনি যা বলেন, বেশির ভাগ জনগণই তা মেনে নেয়। এখানেই শেষ নয়, তিনি মানববন্ধনে গিয়ে মিন্নিকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। এর আগে নয়ন বন্ডের (মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহমেদ নয়ন) মা শাহিদা বেগম, যিনি ছেলের লাশটি পর্যন্ত নিতে এলেন না জনরোষের ভয়ে। বন্দুকযুদ্ধের পর ছিলেন আত্মগোপনে। সেই শাহিদা বেগমকে আমার মেয়ের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য প্রভাবশালীরা উসকে দিলেন। যাদের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে নয়ন ছিঁচকে চোর থেকে নয়ন বন্ডে পরিণত হলো। তাদের পরোক্ষ প্রশ্রয়ে নয়নের মা আমার মেয়েকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করলেন।’

মোজাম্মেল বলেন, ‘শাহিদা বেগমের সেই মন্তব্যের সূত্র ধরেই মিন্নির শ্বশুর তাকে জড়িয়ে সংবাদ সম্মেলন করলেন। আমরা জেনেছি, রিফাতের বন্ধু মঞ্জুরুল আলম জনের মাধ্যমে প্রভাবশালীরা মিন্নির শ্বশুরকে চাপ দিয়ে মিন্নির বিরুদ্ধে বলতে বাধ্য করেছে।’

প্রভাবশালী কারা—এমন প্রশ্নের জবাবে মিন্নির বাবা বলেন, ‘শনিবার রাতে দুলাল শরীফ এমপির ব্যক্তিগত কার্যালয়ে কেন গিয়েছিলেন। শুনেছি, সুনাম তাঁর সঙ্গে গোপনে কথা বলেছেন।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা