kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

সাক্ষাৎকার

সমস্যা ধরিয়ে দেওয়ার জন্য জনস্বার্থেই পরীক্ষা করেছি

অধ্যাপক আ ব ম ফারুক

২২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সমস্যা ধরিয়ে দেওয়ার জন্য জনস্বার্থেই পরীক্ষা করেছি

পাস্তুরিত তরল দুধে (প্যাকেটজাত) অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি কাজ করছে। আদালতের আদেশ, বিএসটিআইয়ের পরীক্ষা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের তত্ত্বাবধানে একদল গবেষকের গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে এ বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। আলোচিত এ বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে কথা বলেছেন অধ্যাপক আ ব ম ফারুক। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন কালের কণ্ঠ’র নিজস্ব প্রতিবেদক জহিরুল ইসলাম।

 

কালের কণ্ঠ : আপনাদের গবেষণায় পাস্তুরিত তরল (প্যাকেটজাত) দুধে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে। গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর তা নিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি কি একটু খুলে বলবেন?

আ ব ম ফারুক : সমস্যা ধরিয়ে দেওয়ার জন্য জনস্বার্থেই আমরা পরীক্ষাটা করেছি। আমরা ৯ জন মিলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ আটটি বিষয়ে পরীক্ষা করেছি। একবার নয়, বারবার করেছি। পাস্তুরিত তরল দুধের বিষয়টি যেহেতু খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তাই এটি সামনে এসেছে। আমি আবারও বলছি, আমরা যে দুধে অ্যান্টিবায়োটিক পেয়েছি এতে কোনো ভুল নেই। চাইলে যে কাউকে আমরা প্রমাণ দিতে পারি।

 

কালের কণ্ঠ : জানা মতে আপনারা পাস্তুরিত তরল দুধের ১৯ ধরনের পরীক্ষা করেছিলেন। আর বিএসটিআই যেকোনো পণ্যের ৯ ধরনের পরীক্ষা করে থাকে। সে ক্ষেত্রে কী কী পরীক্ষা বাড়ালে সঠিক ফলাফল আসা করা যায়?

আ ব ম ফারুক : আমরা সাধারণত ১৯টি পেরামিটারের মাধ্যমে পরীক্ষার কাজটি করি। বিএসটিআইয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা যে খারাপ, তা কিন্তু নয়। তারা যদি আমাদের ১৯টি পরীক্ষা তাদের ৯টি পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত করে তবে খুব ভালো হয়। তা না হলে অন্তত আর দুটি পরীক্ষা যদি বাড়ায় তাতেও হয়। এর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক পরীক্ষা আর ডিটারজেন (সাবান) আছে কি না তা দেখা। পরীক্ষা বাড়াতে বললে হয়তো তাঁরা বাড়তি খরচ বা মেশিনের কথা বলবেন, কিন্তু আমি বলতে চাই, খরচ বাড়বে না। পাস্তুরিত তরল দুধে কী পরিমাণ অ্যান্টিবায়োটিক আছে সেটা বের করতে খরচ হয়তো বেশি হয়, কিন্তু আছে কি না তা পরীক্ষা করতে বেশি খরচ হয় না।

 

কালের কণ্ঠ : প্যাকেটজাত তরল দুধে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়ার পর কম্পানি, সরকার তথা বিএসটিআইয়ের কী করণীয় বলে মনে করেন?

আ ব ম ফারুক : প্রথম কাজটি কিন্তু কম্পানিগুলোর। কম্পানির লোকজন যেখান থেকে দুধ সংগ্রহ করছেন সেখান থেকেই সচেতনতা শুরু করতে হবে। দুধে মূল সমস্যাটা হচ্ছে কিন্তু ব্যবস্থাপনা। বিভিন্ন জায়গা থেকে যখন তরল দুধ কেনা হচ্ছে তখন অ্যান্টিবায়োটিক মিশ্রিত দুধ চলে আসছে। কারণ গরুর মালিকরা গরুকে অ্যান্টিবায়োটিক দিচ্ছে মোটাতাজা করতে। যার কারণে গরুর মাংস এবং দুধে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া যাচ্ছে।

গরু অসুস্থ হলে পরিমাণ মতো অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো যেতে পারে। তবে ওষুধ খাওয়ানোর পর অন্তত ২১ দিন গরুর মাংস বা দুধ বিক্রি করা যাবে না। এ ছাড়া কিছু কিছু কম্পানি খামারিদের উদ্বুদ্ধ করে গরুকে সরাসরি অ্যান্টিবায়োটিক না খাইয়ে গরু খাদ্যের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়াতে। এভাবে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানোর ফলে দুধে তা পাওয়া যাচ্ছে। কম্পানিগুলোকে এসব বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

আর সরকার বা বিএসটিআইয়ের সম্পর্কে বলব, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার যদি ঘোষণা দেয়, কোনো ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক, ডিটারজেন বা যেকোনো ধরনের ক্ষতিকারক উপাদান পাওয়া গেলে বড় ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, তাহলেই সমস্যার সমাধান শুরু হবে। সে ক্ষেত্রে বিএসটিআইকে পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা বাড়াতে হবে।

 

কালের কণ্ঠ : এ বিষয়ে আদালতের সর্বশেষ নির্দেশনা সম্পর্কে কিছু বলুন।

আ ব ম ফারুক : এখন থেকে ডাক্তারি প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনো ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি ও ব্যবহার করা যাবে না। করলে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

 

কালের কণ্ঠ : সাধারণ মানুষের মনে বাজারের পাস্তুরিত তরল দুধ নিয়ে যে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়েছে, তা থেকে নিষ্কৃতির উপায় কী? 

আ ব ম ফারুক : এত চিন্তার কিছু নেই। বাজারের দুধ খাওয়া যাবে। তবে সেটি ভালোভাবে ফুটিয়ে খেতে হবে। রাজধানীর মানুষ যেভাবে পানি ফুটিয়ে খায় ঠিক তেমনি করে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা