kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১                       

সংসদে প্রধানমন্ত্রী

ঘুষদাতাও ছাড় পাবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ঘুষদাতাও ছাড় পাবে না

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা তুলে ধরে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঘুষ গ্রহণকারীর পাশাপাশি ঘুষ প্রদানকারীও ছাড় পাবে না। ঘুষ দেওয়া ও নেওয়া, দুটিই অপরাধ। তাই সব অপরাধীকেই শাস্তি পেতে হবে। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত অর্থশালী-বিত্তশালীদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে  তিনি এ কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘যদি কোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে আমাদের দলেরও কেউ সম্পৃক্ত থাকে, আমি তাদেরও ছাড় দিচ্ছি না, ছাড় দেব না। শাসনটা ঘর থেকেই করতে হবে, আমিও তাই করছি। এমনকি আইন-শৃঙ্খলা সংস্থার কেউ এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলে সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং এটা অব্যাহত থাকবে। কারণ এটা সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

বিরোধী দল জাতীয় পার্টির বেগম রওশন আরা মান্নানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রিত্বটা হলো একটা সুযোগ মানুষের জন্য কাজ করার। আমি সার্বক্ষণিক চেষ্টা করি সেই সুযোগটুকু কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের কতটা উন্নয়ন করা যায়। অন্যায়-অবিচারের হাত থেকে দেশের মানুষকে কিভাবে রক্ষা করা যায়।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘শুধু আমাদের দেশেই নয়, সব দেশেই দেখা যায়—যখন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে অগ্রযাত্রা শুরু হয় তখন কিছু ক্ষেত্রে একধরনের টাউট-বাটপার বা বিভিন্ন ধরনের লোক সৃষ্টি হয়। তাদের দমন করা শুধু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে সম্ভব নয়। এটা সামাজিকভাবেও করতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জঙ্গি-সন্ত্রাস-মাদক ও দুর্নীতি দমনে জনসচেতনতা সৃষ্টির বিষয়ে ইতিমধ্যে গুরুত্ব দিয়েছি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী, গোয়েন্দা সংস্থা সবাইকে কাজে লাগাচ্ছি। পাশাপাশি বিশিষ্টজন, জনপ্রতিনিধিদের বলব, আমাদের সমাজের বিভিন্ন মানুষ যেমন শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে যাঁরা আছেন তাঁদের সবাইকে নিয়ে প্রত্যেক এলাকায় একটা কমিটি করার। যাতে এ ধরনের কোনো অন্যায়কে কেউ প্রশ্রয় না দেয়।’ তিনি আরো বলেন, দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত রাখতে হবে। সমাজ থেকে অন্যায়-অবিচার দূর করতে হবে। শুধু বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল তা নয়, সামাজিকভাবে সচেতন করতে হবে। ‘দুর্নীতি আমরা করব না, কাউকে দুর্নীতি করতে দেব না। ঘুষ যে গ্রহণ করবে, ঘুষ যে দেবে—তারা উভয়ই অপরাধী। দুজনকেই ধরা হবে।’ 

সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর-উত্তমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, ‘কেউ বলতে পারবেন না সবাই এক শ ভাগ সৎ হবে।

ঈদের আগে যখন দেশের বাইরে ছিলাম, তখন কিছু বড় জায়গায় হাত দেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলো। এটা আমার কাছে মোটেও গ্রহণযোগ্য ছিল না। মনে হয়, এমন অনেক বড় জায়গা আছে, যাতে হাত দিলেই হাতটা পুড়ে যাচ্ছে। যারা ধরতে যায়, তারাই অপরাধী হয়ে যায়। আবার কিছু পত্র-পত্রিকা লেখালেখি শুরু করে। তবে আমাদের সচেতন থাকতে হবে, কে কী বলল তাতে কান দেওয়ার দরকার নেই।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণ ছোটখাটো চোর ধরতে পারবে, আর বড় অর্থশালী-বিত্তশালী হলেই তাদের হাত দেওয়া যাবে না। তাদের অপরাধ অপরাধ না, এটা তো হয় না। আমার চোখে যে অপরাধী সে অপরাধীই। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

জাতীয় পার্টির সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষটা ছিল পরিকল্পিত। ওই ঘটনার যিনি মূল হোতা ছিলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী জেনারেল জিয়াউর রহমান তাঁকে খাদ্যমন্ত্রী করেছিলেন। তাঁর পুত্র বিএনপির এখনো বড় নেতা।’

রওশন আরা মান্নানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার টানা তৃতীয়বার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের জনগণের কল্যাণে এবং দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। দুর্নীতি প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করা, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার এবং আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দুর্নীতির পরিধি ক্রমান্বয়ে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার বিশেষ পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার দুর্নীতির বিষবৃক্ষ সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলে দেশের প্রকৃত আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণে একটি সুশাসনভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামো ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন করতে বদ্ধপরিকর।’

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকারের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষকরা যাতে ধানসহ সব ধরনের ফসলের নায্য মূল্য পায় এবং মধ্যস্বত্বভোগীরা যাতে কৃষকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে সে লক্ষ্যে আমরা কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। কৃষকরা যাতে ধানের ন্যায্য মূল্য পায় সে লক্ষ্যে সরকার চলতি মৌসুমে দেড় লাখ মেট্রিক টন ধান কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি প্রতি কেজি ২৬ টাকা দরে ক্রয় করছে। বাজারদর বৃদ্ধির মাধ্যমে পরোক্ষভাবে কৃষকের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে ৩৫ টাকা কেজি দরে দেড় লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল এবং ৩৬ টাকা কেজি দরে ১০ লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। গত ২৫ এপ্রিল থেকে সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা