kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

প্যারোলের বিষয়ে নমনীয় খালেদা!

ওমর ফারুক   

২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্যারোলের বিষয়ে নমনীয় খালেদা!

বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়া শক্ত অবস্থান থেকে সরে আসছেন। প্যারোল (শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি) নিয়ে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে কিছুটা নমনীয় হয়েছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, কয়েক দিন আগ পর্যন্ত খালেদা জিয়া প্যারোল নিতে একেবারেই রাজি হচ্ছিলেন না। তবে গত দু-তিন দিন ধরে তাঁকে এ বিষয়ে খানিকটা নমনীয় দেখা যাচ্ছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি হওয়ার পর থেকে তাঁর সম্পর্কে খোঁজখবর রাখেন—এমন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খালেদা জিয়া কখন নমনীয় হন আবার কখন শক্ত হন, সেটি বোঝা মুশকিল। প্যারোলের বিষয়টি অলোচনায় আসার পর এত দিন তাঁকে বেশ শক্ত দেখা গেছে। তবে দু-তিন দিন ধরে কিছুটা নমনীয়তা লক্ষ করা যাচ্ছে। আবার কখন শক্ত হয়ে যান, সেটি বলা মুশকিল।’

গত ১ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার পুরনো কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে পাঠানোর পর থেকেই তাঁর প্যারোলের বিষয়টি আলোচনায় আসে। গত ১৪ এপ্রিল বিএনপির মহাসচিবসহ কয়েকজন নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন হাসপাতালে গিয়ে। সেখানে তাঁরা অনেকক্ষণ কথা বলেন। বিএনপি নেতারা পরে সাংবাদিকদের জানান, প্যারোলের বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা হয়নি। তবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, প্যারোলের বিষয়টি দলের নয়, এটি খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিবারের বিষয়। তাই এ নিয়ে দলীয় চেয়ারপারসনের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়নি।

এ বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেছে, খালেদা জিয়া এত দিন প্যারোল নিয়ে বিদেশে যাওয়ার পক্ষে ছিলেন না মোটেই। তবে দু-তিন ধরে তিনি মনে করছেন, দেশে তাঁর সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে না। যে উপায়েই  হোক এই বয়সে তিনি সঠিক চিকিৎসা পেতে চান। আর সে কারণেই তিনি কিছুটা নমনীয় হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সূত্রটির অনুমান, খালেদা জিয়া সবুজ সংকেত দিলেই তাঁর পরিবার থেকে প্যারোলের আবেদন করা হবে। আবার এমনও হতে পারে, বিএনপি নেত্রী নিজেও কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন।

প্যারোলের বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত আইজি প্রিজনস কর্নেল আবরার হোসেন গতকাল শনিবার রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কারাবিধি অনুযায়ী বন্দি নিজে প্যারোলের আবেদন করতে পারেন। অথবা তাঁর স্বজনদের যে কেউ আবেদন করতে পারেন।’

খালেদা জিয়ার প্যারোল নিয়ে রাজনীতির মাঠে চলছে নানা গুঞ্জন। এর সঙ্গে বিএনপি থেকে নির্বাচিত ছয় সংসদ সদস্যের শপথ নেওয়া না নেওয়ার সম্পর্ক নিয়েও দেশে ব্যাপক আলোচনা চলছে। জানা গেছে, নির্বাচিত ছয়জন সংসদে যেতে চান। আর দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা বলছেন, বিএনপি সংসদে যাবে না। এ অবস্থায় সৃষ্টি হয়েছে ধূম্রজাল। আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় রয়েছে শপথ নেওয়ার। এ অবস্থায় বিষয়টি আরো জোরালো হয়েছে।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। বিএনপির পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হচ্ছে, তাদের নেত্রী বেশ অসুস্থ। তাঁকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য বারবার সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে বিএনপি। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তিনি নতুন কোনো রোগে নয়, পুরনো রোগে ভুগছেন। সরকার খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে নিতে চাইছিল। গত ৫ মার্চ বিএনপি নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে দেখা করার পর সরকারের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নিয়ে চেকআপ করানোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। পরে ১০ মার্চ তাঁকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেয় কারা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সেদিন খালেদা জিয়া রাজি না হওয়ায় তাঁকে নেওয়া যায়নি। অবশেষে গত ৩১ মার্চ তিনি নিজেই বিএসএমএমইউ হাসপাতালে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরদিন ১ এপ্রিল তাঁকে ওই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

মন্তব্য