kalerkantho

সোমবার । ২৪ জুন ২০১৯। ১০ আষাঢ় ১৪২৬। ২০ শাওয়াল ১৪৪০

৭ই মার্চের আলোচনায় শেখ হাসিনা

ষড়যন্ত্রকারীরা দাবায়ে রাখতে পারে নাই পারবেও না

বিশেষ প্রতিনিধি    

৮ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ষড়যন্ত্রকারীরা দাবায়ে রাখতে পারে নাই পারবেও না

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ এখনো আবেদন সৃষ্টি করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, তাদের কাছে এই ভাষণ ভালো লাগে না। এ কারণেই  জিয়াউর রহমান এই ভাষণ নিষিদ্ধ করেছিল। যারা ৭ই মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ করতে চেয়েছিল, তারা নিঃশেষ হয়ে গেছে। টিকে আছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি। আসলে যেটা সত্য সেটাই টিকে থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্রকারী খুনিরা আমাদের দাবায়ে রাখতে পারে নাই, আর পারবেও না।’

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ ১৯৭১-এর ভাষণের ওপর আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনাসভায় দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।  

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ই মার্চের ভাষণ আইয়ুব, ইয়াহিয়া নিষিদ্ধ করেছিল বলে জিয়াও এ ভাষণ বাজাতে দেয়নি। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা থেমে থাকেনি। তারা নানা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভাষণ বাজিয়েছে। এ জন্য অনেককে অনেক নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। অনেকের জীবনও চলে গেছে। তিনি বলেন, তারা এ ভাষণ নিষিদ্ধ করলেও জাতিসংঘ ভাষণটি গ্রহণ করেছে। পৃথিবীর যত বিখ্যাত ভাষণ আছে তার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ঠাঁই পেয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ যতবার বেজেছে পৃথিবীর কোনো ভাষণ এতবার বাজেনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটি জাতি হিসেবে আমরা আজ মর্যাদা পেয়েছি। ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র পেয়েছি। জাতির পিতার কাছ থেকে আমরা আজ সারা বিশ্বে আমাদের পরিচয় পেয়েছি। এগুলো বঙ্গবন্ধুর চিন্তা-চেতনার ও সংগ্রামের ফসল। আর তাঁর সঙ্গে যাঁরা ছিলেন তাঁরাও এর ভাগীদার।

তিনি বলেন, ৭ই মার্চের ভাষণ শুধু ভাষণ নয়। এই ভাষণের মধ্য দিয়ে তিনি একটি গেরিলাযুদ্ধের রূপরেখা দিয়েছিলেন। যে ভাষণের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ রচনা করেছিলেন। এ ভাষণে বাংলা-বাঙালি জাতির অধিকারের কথা তিনি তুলে ধরেছিলেন। যে ভাষণের মধ্য দিয়ে প্রত্যেক বাঙালির ঘরকে একটি দুর্গ হিসেবে গড়ে তুলে যুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, এই ভাষণ দিয়েছেন সম্পূর্ণ নিজে থেকে। তাঁর হাতে কোনো নোট ছিল না। চোখের চশমাটা খুলে তিনি টেবিলে রেখেছিলেন। মুক্তিকামী জনতা এসেছিল সমগ্র বাংলাদেশ থেকে। এই সভাটির জন্য কোনো অনুষ্ঠান করে প্রচার করে ঘোষণা করা হয়নি। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসেছিল ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। ৩ তারিখে সংসদ অধিবেশন ডেকে ইয়াহিয়া খান যখন বাতিল করে দিল, তখন জাতির পিতা ঘোষণা দিলেন যে ‘আমি ৭ই মার্চে ভাষণ দেব’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ অঞ্চলের জনগণের ওপর নেমে আসে বৈষম্য আর নির্যাতনের জাঁতাকল। অর্থনৈতিক বৈষম্য ছাড়াও সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির মাতৃভাষাকে উপেক্ষা করে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী। শুরু হয় বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার আদায়ের সংগ্রাম।

আলোচনাসভায় অন্যদের মধ্যে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক কর্নেল (অব.) সাজ্জাদ জহির, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রহমান, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, শামসুন্নাহার চাপা, হাজী আবুল হাসনাত, আনোয়ার হোসেন ও সাদেক খান বক্তৃতা করেন।

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে গতকাল দলীয় নেতাদের নিয়ে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : ফোকাস বাংলা

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা : এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে স্বাধীনতার স্থপতির প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানান। তিনি প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের পক্ষ থেকে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে আরেকটি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরা জাতির পিতার প্রতিকৃতির বেদি ফুলে ফুলে ভরিয়ে দেয়।

মন্তব্য