kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

জমজমাট প্রচার চূড়ান্ত প্রার্থীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



জমজমাট প্রচার চূড়ান্ত প্রার্থীদের

গতকাল ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিক প্র্রচারণায় নামে ছাত্রলীগ। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করার সঙ্গে সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু করেছেন প্রার্থীরা। হলে হলে এবং ক্যাম্পাসে আড্ডার জায়গাগুলোতে শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে ভোট চাইছেন তাঁরা। এতে ক্যাম্পাস আরো সরগরম হয়ে উঠেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় তিন দশক ছাত্রসংসদ না থাকায় শিক্ষার্থীদের সমস্যা গুরুত্ব পায়নি তেমন। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখলেও শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা দেনদরবার করতে দেখা যায়নি তাদের। এখন ডাকসু নির্বাচন ঘিরে ওই সব সমস্যাকে প্রাধান্য দিয়ে জোর প্রচারে নেমেছেন ওই সব সংগঠনের প্রার্থীরা। সমস্যা সমাধানের আশ্বাসও দিচ্ছেন।

অনেক ভোটার বলছে, যে প্রার্থী শিক্ষার্থী সমস্যা সামাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন তাঁকেই স্বাগত জানাবে তারা। ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচিত হলে ছাত্রদের অধিকারকে প্রাধান্য দিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আবাসন ও ক্লাসরুম সংকট দূর করা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম জোরদার করা এবং এক সংগঠনের আধিপত্য না রেখে সবার মত প্রকাশের স্বাধীনতায় জোর দিতে হবে।

ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল এক ডজনের বেশি ছাত্রসংগঠনের নেতারা কেউ জোট বেঁধে আবার কেউ স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। মনোনয়নপত্র জমা ও যাচাই-বাছাই শেষে গতকাল রবিবার চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। ডাকসুর ওয়েবসাইটে এবং প্রতিটি হলের নোটিশ বোর্ডে টাঙানো হয়েছে ওই তালিকা। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক প্রচার।

বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, তিন দশক ধরে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠন ক্যাম্পাস দখলে রাখলেও শিক্ষার্থী সমস্যার প্রতি তারা চোখ বন্ধ রেখেছিল। বাম ঘরানার কয়েকটি ছাত্রসংগঠন ছাড়া অন্য কোনো সংগঠন সেসব নিয়ে সোচ্চার ছিল না।

ওই শিক্ষার্থীরা জানায়, ক্যাম্পাস ও হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের সমস্যা চরম অবস্থায় পৌঁছেছে। গত কয়েক বছরে এক গাদা বিভাগ বাড়লেও বাড়েনি ক্লাসরুম। বছর বছর শিক্ষার্থী বাড়লেও বাড়েনি আবাসিক হল। ক্যান্টিনের খাবার মানহীন। পড়াশোনার যথাযথ পরিবেশ অনুপস্থিত। গ্রন্থাগারেও রয়েছে বহুমুখী সংকট। স্বজনপ্রীতি আর দুর্নীতির মাধ্যমে মেধাতালিকার পেছন থেকে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এমনকি শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েও শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কেউ কেউ। গবেষণাকর্মেও তেমন নজর নেই প্রশাসনের। সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে বন্ধ্যত্ব।

প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করতে শিক্ষার্থী সমস্যাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন তাঁরা। আবাসন ও ক্লাসরুম সংকট, হলের ক্যান্টিনে খাবারের মান উন্নয়ন এবং গ্রন্থাগারের মান ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ওপরই বেশি জোর দিচ্ছেন তাঁরা। শিক্ষার মান বাড়ানোর পাশাপাশি তাঁরা আশ্বাস দিচ্ছেন সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়ানোরও।

ডাকসু নির্বাচনের আগেই ‘স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিনির্মাণে’ ২০ দফা দাবি তুলেছিল ছাত্রলীগ। এতে আবাসন সংকট সমাধান, সর্বাধুনিক কেন্দ্রীয় ও ডিজিটাল ল্যাব, গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস, পরিবহনে যানবাহন সংখ্যা বৃদ্ধি ও ক্যান্টিনের খাবারের মানোন্নয়নের দাবি ছিল। ডাকসু নির্বাচনেও এই দাবিগুলো ভোটারদের সামনে তুলে ধরছে তারা।

ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের প্রায় সব আন্দোলনেই সক্রিয় ছিল ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশনসহ বাম ছাত্রসংগঠনগুলো। সহসভাপতি (ভিপি) পদে তাদের জোটগত প্রার্থী লিটন নন্দী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যেকোনো আন্দোলন ও অধিকার আদায়ে আমরা পাশে ছিলাম। এখনো পাশে থাকতে চাই। নির্বাচিত হলে প্রতিটি হলেই গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি বন্ধ করতে জোর দেব। সবার মত প্রকাশ নিশ্চিত করার মতো পরিবেশ সৃষ্টির পাশাপাশি শিক্ষার্থীর মূল্যায়নের ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের প্রথা চালু করতে জোর দেব। বাণিজ্যিক কোর্স বন্ধ, ২৪ ঘণ্টা লাইব্রেরি খোলা রাখা, রাত ৮টা পর্যন্ত গণপরিবহন চালু ও আবাসন সংকটের ওপর জোর দেওয়া হবে।’

ভিপি পদে ছাত্রলীগের প্রার্থী রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শোভন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরাই আমাদের প্রাণ। আমরা শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়েই কথা বলতে চাই। হলে আবাসন সংকট, ক্যান্টিনে খাবারের মান উন্নয়ন, লাইব্রেরিতে পড়াশোনার মান উন্নয়ন ও সার্বক্ষণিক খোলা রাখার ব্যবস্থা সর্বোপরি একটি আধুনিক ও সুযোগ-সুবিধাসংবলিত ক্যাম্পাস গড়তে চাই।’

গতকাল প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদে ২৫টি পদের বিপরীতে লড়বেন ২২৯ জন প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে আছেন ভিপি পদে ২১ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ১৪ এবং সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ১৩ জন। এ ছাড়া আছেন স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ৯ জন, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে ৯ জন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ জন, সাহিত্য সম্পাদক পদে আটজন, সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ১২ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ১১ জন, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে ১০ জন এবং সমাজসেবা সম্পাদক পদে ১৪ জন। আর ১৩টি সদস্য পদের বিপরীতে লড়বেন ৮৬ জন প্রার্থী।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। এতে যাঁরা বাদ পড়েছিলেন তাঁদের মধ্যে পাঁচজন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন ডাকসুর জিএস পদে বাম জোটের প্রার্থী উম্মে হাবিবা বেনজীর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এ আর এম আসিফুর রহমান।

আগামী ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচন হবে।

উপাচার্য বক্তব্য দেবেন আজ : ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আজ সোমবার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সকাল ১১টায় নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন অডিটরিয়ামে ছাত্র-ছাত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবার উদ্দেশে তিনি বক্তব্য দেবেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা