kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বাংলা ভাষার ডটবাংলা ডোমেইন

দুই বছরে গ্রাহক মাত্র ৫৭১

কাজী হাফিজ   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



দুই বছরে গ্রাহক মাত্র ৫৭১

ইন্টারনেটজগতে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ের এবং বাংলা ভাষার স্বীকৃতি হিসেবে ডটবাংলা (.বাংলা) ডোমেইনের যাত্রা শুরুর দুই বছর পরও এর ব্যবহার হতাশাজনক। দেশের মাত্র ৫৭১টি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি এই ডোমেইন ব্যবহার করছে। এর মধ্যে গত এক বছরে গ্রাহক বেড়েছে ১৪২ জন। সরকারের অনেক  দপ্তর, কম্পানি ও সংস্থা ডটবাংলা ডোমেইন ব্যবহারে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ডোমেইনটির নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান বিটিসিএল বলছে, এ বিষয়ে আগ্রহ বাড়াতে আউটসোর্সিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে সম্প্রতি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ডটবাংলা ডোমেইন নিবন্ধনের আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। প্রথম এক মাসে এই সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সাংবিধানিক সরকারি-আধাসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বা এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ও কপিরাইট, ট্রেডমার্ক বা ব্র্যান্ড নামের এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য। সর্বসাধারণের জন্য এটি উন্মুক্ত করা হয় ওই বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে। প্রথমে এর নিবন্ধন ফি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পাঁচ থেকে  ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলেও পরে সবার জন্য ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। বার্ষিক নবায়ন ফি ৮০০ টাকা। এ ছাড়া মালিকানা পরিবর্তন ফি দেড় হাজার টাকা।

কেমন চলছে বাংলা ভাষার ডটবাংলা ডোমেইন—এই প্রশ্নে গত মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ ও প্রকাশনা শাখার পরিচালক মীর মোহাম্মদ মোরশেদ বলেন, ‘আমাদের ইংরেজি ভাষার ডটবিডি ডোমেইন অনেকে ব্যবহার করছে। বর্তমানে এটি ব্যবহার করছে ৪৬ হাজার ৮০০টি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি। আর ডটবাংলা ডোমেইনের গ্রাহক ৫৭১টি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি। এ ছাড়া বাংলা একাডেমি আয়োজিত একুশে গ্রন্থমেলায় বইয়ের সঙ্গে ডটবাংলা ডোমেইন বিক্রি হচ্ছে। গত রবিবার পর্যন্ত গ্রন্থমেলায় বিটিসিএলের স্টল থেকে এই ডোমেইনের গ্রাহক হয়েছে ৪৩ জন। বিটিসিএলের ওয়েবসাইট ভিজিট করে অনলাইনেও এই ডোমেইন কেনার সুযোগ রয়েছে।’

বিটিসিএলের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ডটবিডি ডোমেইনের গ্রাহক ছিল ৪১ হাজার ৯৩৩টি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি, আর ডটবাংলার গ্রাহক ছিল ৪২৯টি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি।   

বিভিন্ন কারণে পাঁচ বছর ঝুলে থাকার পর ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর ইন্টারনেট করপোরেশন অব অ্যাসাইনড নেমস অ্যান্ড নাম্বারস (আইসিএএনএন) বাংলাদেশকে ডটবাংলা ডোমেইন চালুর অনুমোদন  দেয়। ওই বছর ৩১ ডিসেম্বর গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডটবাংলা ডোমেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ওই সময় তিনি  বলেন, ‘ডটবাংলা শুধু একটি ডোমেইনের নাম নয়, এটি আজ বাঙালি জাতির আত্মপরিচয়ের একটি প্রতীক। ডটবাংলার বিজয় ভাষাশহীদদের বিজয়। এ বিজয় মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়, সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের বিজয়।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বাংলা ডোমেইন চালুর ফলে আইসিটি খাতে ব্যবসার আরো প্রসার ঘটবে। যারা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণার সমালোচনা করেছিলেন, তারাও ডটবাংলা ডোমেইন ব্যবহার করতে পারবেন।’

এদিকে আইসিএএনএনের অনুমোদন পাওয়ার পর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছিল, ডোমেইনটি পাওয়ার জন্য সিয়েরা লিওনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। বাংলাদেশের পক্ষে তখন আইসিএএনএনের কাছে এই তথ্য তুলে ধরা হয় যে বাংলাদেশ একমাত্র দেশ, যে দেশের মানুষ মাতৃভাষা বাংলার জন্য সংগ্রাম করেছে, রক্ত দিয়েছে, শহীদ হয়েছে। ‘২১শে ফেব্রুয়ারি’ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছে। তাই এ ভাষার ওপর বাংলাদেশের জনগণের অধিকার সর্বাগ্রে। 

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এই ডোমেইনটি হচ্ছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ডোমেইন। ডটবিডি (ইংরেজিতে লেখা) নামে আরেকটি ডোমেইন বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। ইন্টারনেট অ্যাসাইনড নাম্বারস অথরিটির (আইএএনএ) তালিকায় বাংলা ভাষায় লেখা ডোমেইন হিসেবে ডটবাংলা হচ্ছে দ্বিতীয়। ‘ডটভারত’ নামে আরেকটি বাংলায় লেখা ডোমেইন ওই তালিকায় আগেই স্থান পেয়েছে। 

ভারতে হিন্দি, উর্দু, তেলেগু, গুজরাটি, পাঞ্জাবি ও তামিল ভাষায়ও ডোমেইন রয়েছে। ডটভারত ডোমেইনটি নিবন্ধন করা হয় ২০১১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশ ২০১০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ইন্টারনেট করপোরেশন অব অ্যাসাইনড নেমস অ্যান্ড নাম্বারস (আইসিএএনএন)-এর কাছে আবেদনের পর ২০১১ সালে ডটবাংলা ডোমেইনটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন এবং পরের বছর আইএএনএর অনুমোদন পায়। ভারতও ২০১০ সালে বাংলাদেশের পাশাপাশি এ ডোমেইনের অধিকার পেতে আবেদন করে। সব দিক বিবেচনা করে আইসিএএনএন তখন ডোমেইনটি বাংলাদেশকে বরাদ্দ দেয়।

জানা যায়, ডটবাংলা ডোমেইনটি নিবন্ধন পেলেও এটি কার্যকরে দেরি হওয়ায় অধিকার হারাতে বসেছিল বাংলাদেশ। এই ডোমেইন কে নিয়ন্ত্রণ করবে, বিটিসিএল না বিটিআরসি—এ প্রশ্নে কেটে যায় দীর্ঘদিন। ডোমেইনটি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় কাজগুলো সম্পন্ন করা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠার পর ২০১৬ সালের জুন মাসের দিকে আবারও এর অধিকার বহাল রাখতে তৎপর হয় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। সিদ্ধান্ত হয়, বিটিসিএলই এটি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ডমেস্টিক নেটওয়ার্কিং কো-অর্ডিনেশন কমিটির (ডিএনসিসি) সভায় বিটিসিএলকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর বিটিসিএল ডটবাংলার জন্য একটি ডিএনএস সার্ভার স্থাপনের কাজ শুরু করে। কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও এ বিষয়ে বিটিসিএলকে সহায়তা করে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা