kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

মনোনয়নবঞ্চনা

দেশজুড়ে বিক্ষোভ বিএনপিতে, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা

► চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ভাঙচুর
► শাহ মোয়াজ্জেমের গাড়িবহরে হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ১৩ মিনিটে



দেশজুড়ে বিক্ষোভ বিএনপিতে, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা

রাজধানীর গুলশানে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে গতকাল ভাঙচুরের পর প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয় বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত তিন নেতার সমর্থকরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন না পাওয়ায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে কয়েকটি আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের অনুসারী কর্মী-সমর্থকরা। পাশাপাশি তারা কুশপুত্তলিকা দাহ, মনোনয়ন পাওয়াদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা, কার্যালয়ে তালা, গাড়িবহরে হামলা, গুলি, আলটিমেটাম ইত্যাদি ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এবং দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

সন্ধ্যায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে গোপালগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী সেলিমুজ্জামান সেলিম, মানিকগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির সাবেক মহাসচিব মরহুম খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে আহসান হামিদ ডাবলু, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে তৈমূর আলম খন্দকার এবং চাঁদপুর-১ আসনে বিএনপি নেতা আ ন ম এহছানুল হক মিলনের অনুসারী কয়েক শ নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল করে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধরা চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়।

গতকাল প্রার্থী পরিবর্তনের জন্য ১২ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আ ন ম এহছানুল হক মিলনের অনুসারী নেতাকর্মীরা দুপুর সোয়া ২টার দিকে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তালা খুলে দেয়। মিলনকে দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভের একপর্যায়ে তারা দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের প্রধান ফটকে গতকাল সকালে তালা ঝুলিয়ে দেয়। বিক্ষোভরত কর্মীদের মধ্যে চাঁদপুরের কচুয়া থানা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছিল। তাদের অভিযোগ, এহছানুল হক মিলনের জায়গায় চাঁদপুর-১ আসনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. মোশাররফ হোসেনকে। তাঁকে এলাকায় কেউ চেনে না। অন্যদিকে এহছানুল হক মিলন পাঁচ বছর দেশের বাইরে থাকলেও তাঁর সঙ্গে এলাকার মানুষের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। এখনো তিনি জেলে আছেন, তাঁর ত্যাগকে মূল্যায়ন করা হয়নি। কচুয়ার আসনটি পুনরুদ্ধার করতে মিলনের বিকল্প নেই বলে তারা মনে করে।

এর আগে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর সংবাদ সম্মেলনের পরই মিলনের সমর্থকরা বিক্ষোভ শুরু করে। তারা মিলনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার জন্য স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর কাছে তাদের দাবি তুলে ধরে। তারা মনোনয়নের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য দলের হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পরে তারা নিচে নেমে বিএনপি কার্যালরে সামনের সড়কে বিক্ষোভ করতে থাকে। একপর্যায়ে দলীয় কার্যালয়ের প্রধান গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়। সন্ধ্যায় তারা গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে হামলা চালায়। মিলনের কর্মী-সমর্থকরা কার্যালয়ের বাইরে থেকে ভেতরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। হামলায় ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান মোহাম্মদ শাহ আলম ফারুকসহ স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়।

গুলশান কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে আবদুল মালেক রতনকে মনোনয়ন দেওয়ার প্রতিবাদে বঞ্চিত প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারের কর্মী-সমর্থকরা সন্ধ্যার কিছু আগে বিক্ষোভ করে ভাঙচুর চালায়। তারা বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ের ফটকে ধাক্কাধাক্কি করে। একপর্যায়ে দুই-তিনজন কর্মী বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় ইটপাটকেল ছোড়ে। এতে জানালার কাচ ভেঙে যায়। এ সময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপকারীকে ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়। সন্ধ্যার কিছু পর এই বিক্ষোভে যোগ দেয় এহসানুল হক মিলন ও সেলিমুজ্জামান সেলিমের নেতাকর্মীরা। হাজারো সমর্থক একপর্যায়ে রাস্তায় শুয়ে পড়ে। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে তৈমূর আলমকে কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে আগে থেকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খানসহ দলের সিনিয়র নেতারা ছিলেন। তাঁরা ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে বৈঠক করছিলেন।

পরে তৈমূর আলম খন্দকার কার্যালয় থেকে বেরিয়ে তাঁর সমর্থকদের নিয়ে সরে যান। এর মধ্যে কার্যালয়ের মূল গেট ও পকেট গেটে হামলা চালায় মিলন ও সেলিমের সমর্থকরা। ভেতরে থাকা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এ সময় উত্তেজিত হয়ে ওঠে। এ সময় কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালীসহ অন্যরা কর্মীদের শান্ত করা চেষ্টা করেন। পরে ভেতরে থাকা ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতারা তাঁদের অনুসারীদের বাইরে পাঠান। তবে এ সময় ভেতর থেকে বাইরে যাওয়া তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল করে ‘আওয়ামী লীগের দালালরা হুঁশিয়ার-সাবধান’ স্লোগান দেয়। পরে মূল ফটকে তারা অবস্থান নিয়ে আগে থেকে বিক্ষুব্ধ কর্মীদের লাগানো তালা ভাঙার চেষ্টা করে।

রাত ৮টার দিকে মাইকে ঘোষণা করা হয়, আজ (গতকাল) আর কোনো মনোনয়ন দেওয়া হবে না। কাল (আজ) সকাল ১০টার দিকে নেতাদের কার্যালয়ে আসার জন্য বলা হয়। কর্মীদের নিয়ে এলাকা ছেড়ে যেতে বলা হয় তাঁদের। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা রাত সাড়ে ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করছিল। রাত সাড়ে ৮টার পর এই বিক্ষোভে যোগ দেয় কুমিল্লা-৪ আসনের মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী, শেরপুর-২ আসনের ফাহিম চৌধুরী, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের শেখ আব্দুল্লাহর অনুসারীরা। এ সময় শেখ আব্দুল্লাহকে গুলশান কার্যালয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে মনোনয়ন পাওয়া শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের অনুসারীরা।

এদিকে শুক্রবার রাতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০২ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর বিভিন্ন পর্যায়ে সমালোচনা শুরু হয়। ওই রাতেই কয়েকজন প্রার্থীর সমর্থকরা বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভের মুখে নড়াইল-১ ও ময়মনসিংহ-৩ আসনে মনোনয়ন পরিবর্তন করে জাহাঙ্গীর বিশ্বাস এবং ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। আরো বেশ কয়েকটি আসনে মনোনয়ন পরিবর্তন করা হতে পারে। মনোনয়ন নিয়ে ‘ঝামেলার’ জন্য বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের দায়ী করেছে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।

জানা গেছে, বিক্ষোভের মধ্যে গতকাল রাতে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের সন্তান এবং তৈমূর আলম খন্দকারকে গুলশান কার্যালয়ের ভেতরে ডাকেন মির্জা ফখরুল। এর আগে গোপালগঞ্জ-১ আসনে এফ ই সরফুজ্জামান জাহাঙ্গীরকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তিনি গুলশান কার্যালয়ে প্রবেশের সময় বিক্ষোভকারীদের হাতে লাঞ্ছিত হন। তাঁকে বেদড়ক পেটায় বিক্ষুব্ধরা। তাঁকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে ঢাকার বাইরে গতকাল শনিবার ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার বিবরণ পাঠিয়েছেন কালের কণ্ঠ’র প্রতিনিধিরা।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মুন্সীগঞ্জ-১ (শ্রীনগর-সিরাজদিখান) আসনে বিএনপি প্রার্থী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনকে দলের একটি গ্রুপ অবাঞ্ছিত ঘোষণার চার ঘণ্টার মধ্যেই সহিংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। সিরাজিদখান উপজেলার কুচিয়ামোড়া থেকে পাথারঘাটা যাওয়ার পথে গতকাল বিকেল ৫টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় গাড়ির গ্লাস ভেঙে স্বেচ্ছাসেবক দলের বাসাইল ইউপি সভাপতি রাজীবসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ সময় গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের এপিএস আনোয়ার হোসেন জানান, শাহ মোয়াজ্জেম তাঁর নেতাকর্মীসহ একটি গাড়ির বহর নিয়ে পাথরঘাটার সড়ক ধরে কুচিয়ামোড়া কলেজ গেট থেকে কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে রামকৃষ্ণাদি যাচ্ছিলেন। এ সময় কলেজ গেটের অদূরে একদল দুষ্কৃতকারী তাঁর গাড়িবহরে হামলা চালায়। তারা পাঁচটি গাড়ি ভাঙচুর করে। গাড়িবহর লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তারা প্রতিপক্ষ বিএনপি, নাকি আওয়ামী লীগ তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।

গাড়ির ভাঙা গ্লাসে শাহ মোয়াজ্জেমসহ আহত হয় ঢাবির ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আক্কাস নাদিম, সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস ধীরন, স্বেচ্ছাসেবক দলের বাসাইল ইউপি সভাপতি রাজীব, সফিউদ্দিন বাবু, মনির হোসেনসহ আট-দশজন।

সিরাজদিখান থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন জানান, এটি বিএনপির অন্তঃকলহ। দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে আছে। নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও তাঁর এভাবে গাড়িবহর নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করা ঠিক হয়নি।

শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন সাংবাদিকদের জানান, কুচিয়ামোড়া কলেজ হয়ে পাথরঘাটা যাওয়ার পথে তাঁর গাড়ি বহরে হামলা চালানো হয়। দুর্বৃত্তরা তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িসহ পাঁচটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে।

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। প্রার্থিতা চূড়ান্ত করার পর জেলা বিএনপির একাংশের সাধারণ সম্পাদক ও সহসভাপতির নেতৃত্বে বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতারা বিক্ষোভ মিছিল ও কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।

গোপালগঞ্জ-১ আসনে সেলিমুজ্জামান সেলিম ও গোপালগঞ্জ-২ আসনে ডা. কে এম বাবরকে মনোনয়ন না দেওয়ায় এ বিক্ষোভ মিছিল করে তাঁরা। মনোনয়ন দেওয়া দুই প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ও এফ-ই-শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীরের কুশপুত্তলিকা দাহ করে জেলা ও মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা।

গতকাল সকাল সাড়ে ৮টায় গোপালগঞ্জ-১ আসনে সেলিমুজ্জামান সেলিম ও গোপালগঞ্জ-২ আসনে ডা. কে এম বাবরকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে শহরের চৌরঙ্গী থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। পরে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশও করা হয়। সমাবেশে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মনসুর আলী বক্তব্য দেন।

এ সময় জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মনিরুজ্জামান পিনু, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট তৌফিকুল ইসলাম, জেলা যুবদল সভাপতি সিকদার শহীদুল ইসলাম লেলিন, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন লিপটন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ফজলুল কবীর দারা, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হীরা, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ উপস্থিত ছিলেন।

রংপুর অফিস জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ (সদর) আসনে রংপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি মোজাফফর হোসেনকে মনোনয়ন না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নেতাকর্মীরা। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রিটা রহমানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে তারা। শুক্রবার রাতে নগরীর গ্র্যান্ড হোটেল মোড়ে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে মহানগর বিএনপি এ ঘোষণা দিয়েছে।

এ সময় মহানগর বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর হোসেন বলেন, রংপুর জেলা ও মহানগর বিএনপি বিভিন্ন সংকটে আন্দোলন করে আসছে। এখানকার নেতাকর্মীরা তাঁকেই নির্বাচনের জন্য যোগ্য মনে করে যিনি জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে সর্বাধিক পরিচিত। নেতাকর্মীরা অপরিচিত কোনো মুখকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে মেনে নেবে না।

এ সময় মহানগর বিএনপির সহসভাপতি সহিদুল আলম বুলবুল, সহসভাপতি কাওছার জামান বাবলা, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম, সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপি নেত্রী সাহিদা রহমান জোসনা, সাবেক মহানগর যুবদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সহিদ, মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জহির আলম নয়ন, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সুমন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, কুড়িগ্রাম-২ আসনে সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদকে ধানের শীষ মার্কায় মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। গতকাল দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন পোস্ট অফিসপাড়ায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তর) আশরাফুল হক রুবেল, ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান ও জেলা যুবদল সভাপতি রায়হান কবীর প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বলেন, বিএনপির বাইরে অন্য কাউকে কুড়িগ্রাম-২ আসনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিলে তা মেনে নেবে না নেতাকর্মীরা।

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জ-৫ ছাতক দোয়ারা আসনে বিএনপির প্রার্থী বদল করতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে দলটির বৃহৎ অংশের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভায় বক্তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রার্থী বদল করে দলের সিনিয়র নেতা কলিম উদ্দিন মিলনকে ধানের শীষের প্রার্থী না করলে  ছাতক-দোয়ারা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা গণপদত্যাগের হুমকি দেয় । তারা ঘোষিত প্রার্থীকে ছাতকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন।

পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ তিতুমিরের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আম্বিয়া মাজকুর পাভেল, উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুর রহমান, দোয়ারা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আলতাফুর রহমান খসরু, ছাতক উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক নজরুল ইসলাম, উপজেলা যুগ্ম আহবায়ক হিফজুল বারী শিমুল, ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম জুয়েল ও আব্দুল বারি, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সামছুর রহমান সামছু, পৌর কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন সুমেন, উপজেলা বিএনপি নেতা শাহ শফিকুল আলম মতি প্রমুখ।

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, ময়মনসিংহ-১০ গফরগাঁও আসনে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা-ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ আসন থেকে একাধিক বিএনপি নেতা মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় ময়মনসিংহ-১০ গফরগাঁও আসনে কোনো প্রার্থীর নাম না থাকায় নেতাকর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এই হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দেয়। এ আসনটি জোটের শরিক দল এলডিপিকে ছেড়ে দেওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে বিএনপিদলীয় সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদারের মনোনয়ন নির্বাচন কমিশনে বৈধ হওয়ায় ওই এলাকায় দলীয় সমর্থকরা খুশিতে মিষ্টি বিতরণ করেছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শুক্রবার রাতে বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শহিদুল আলমের বোনের ছেলে রাফা অভিযোগ করেন, শহিদুল আলমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার খবরে খুশিতে কর্মী-সমর্থকরা মিষ্টি বিতরণ করেছে। ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে কেশবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমানের নেতৃত্বে ১৫টি মোটরসাইকেলে করে ৩০-৪০ জনের একটি দল শুক্রবার রাতে মমিনপুর, সিকদারের বাজার ও বাদামতলীর বাজার এলাকার বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এলাকা ছাড়ার হুমকি দিয়েছে। বাদামতলীর বিএনপির সমর্থক আব্দুল মান্নানের দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়।

ডামুড্যা (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি জানান, শরীয়তপুর-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী সাইদ আহমেদ আসলামকে মনোনয়ন না দেওয়ায় তাঁর সমর্থকরা কান্নায় ভেঙে পড়ে। শরীয়তপুর-৩ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পান তারেক রহমানের সাবেক এপিএস মিয়া নুরুদ্দীন অপু।

সাইদ আহমেদ আসলাম বলেন, ‘আপনার আমার সঙ্গে দীর্ঘদিন রাজনীতিক জীবনে অনেকে মামলা হামলার স্বীকার হয়েছেন। তখনো আমি আপনাদের পাশে ছিলাম, এখনো আছি। আমাকে মনোনয়ন না দেওয়ায় তিন উপজেলার নেতারা ইস্তফা দিতে চেয়েছিলেন। আমি দিতে দেইনি। তাঁর বক্তব্য দেওয়ার সময় অঝোরে কাঁদতে দেখা যায় বিভিন্ন উপজেলার নেতাকর্মীদের।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, পঞ্চগড়-২ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদকে মনোনয়ন দেওয়ায় দেবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাঁর কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে। গতকাল রাত ৮টায় দেবীগঞ্জ উপজেলা সদরের পিলখানা মার্কেট এলাকায় প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে তারা বিক্ষোভ মিছিল ও ফরহাদ হোসেন আজাদের কুশপুত্তলিকা দাহ করে। পরে তারা এক সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থী পরিবর্তন করে অন্য প্রার্থী না দেওয়া হলে গণপদত্যাগ করার হুমকি দেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা