kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সু চির কিঞ্চিৎ বোধোদয়

‘পরিস্থিতি আরো ভালোভাবে সামাল দেওয়া যেত’

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘পরিস্থিতি আরো ভালোভাবে সামাল দেওয়া যেত’

স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি

রাখাইনে ১০ থেকে ২৫ হাজার রোহিঙ্গা হত্যা, বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে সোয়া সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার বাংলাদেশে প্রবেশ—গত এক বছরে ভয়াবহ এই মানবিক বিপর্যয়ের পর অবশেষে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি স্বীকার করলেন, ‘এখন ভাবলে মনে হয়, কিছু উপায় অবশ্যই ছিল, যার মাধ্যমে পরিস্থিতি আরো ভালোভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হতো।’ গতকাল বৃহস্পতিবার ভিয়েতনামের হ্যানয়ে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এক অনুষ্ঠানে তিনি এভাবেই নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। এদিকে জাতিসংঘ প্রতিনিধিদলকে প্রথমবারের মতো রাখাইন রাজ্যের কয়েকটি গ্রামের পরিস্থিতি যাচাই করতে সেখানে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে মিয়ানমার সরকার।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ ঠেকাতে ব্যর্থতায় প্রবল সমালোচনার মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন নগর কর্তৃপক্ষ সু চিকে দেওয়া সম্মাননা খেতাব বাতিল করছে। এমন প্রেক্ষাপটে গত বছরের মতো এবারও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যাচ্ছেন না তিনি। বরং রাখাইন পরিস্থিতি তুলে ধরতে তিনি মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠাচ্ছেন।

সু চি গতকাল ভিয়েতনামে বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি যে নিরাপত্তা ও দীর্ঘ মেয়াদে স্থিতিশীলতার জন্য আমাদের সব পক্ষের প্রতি ন্যায্য আচরণ করতে হবে। আইনের শাসন সবার জন্যই প্রযোজ্য। আইনের শাসনের মাধ্যমে কাকে সুরক্ষা দেওয়া হবে এমনটি আমরা বাছাই করতে পারি না।’

এদিকে রোহিঙ্গা গণহত্যার সংবাদ সংগ্রহকারী বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের কারাদণ্ড প্রসঙ্গে সু চি বলেছেন, ‘সাংবাদিকতার কারণে তাঁদের কারাদণ্ড হয়নি। বরং আদালত তাঁর রায়ে বলেছে যে তাঁরা রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন ভেঙেছে এবং সে কারণে তাঁদের সাজা দিয়েছে।’

সু চি সবাইকে ওই রায় পড়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মত প্রকাশের দায়ে ওই সাংবাদিকদের সাজা হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি আইনের শাসনে বিশ্বাস করি তাহলে তাঁদের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার এবং রায় কিভাবে ভুল হয়েছে তা তুলে ধরার অধিকার আছে।’

অন্যদিকে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের প্রতিনিধিদল রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের পরিত্যক্ত কয়েক ডজন গ্রামের পরিস্থিতি যাচাইয়ের জন্য সেখানে প্রবেশাধিকার পেয়েছে। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) চারটি দল সেখানে দুই সপ্তাহ অবস্থান করবে। ওই গ্রামগুলোতে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর হামলা, হত্যা, নির্যাতন-নিপীড়ন ও যৌন সহিংসতা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী বরাবরই তা নাকচ করছে।

এদিকে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দেওয়া পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক গত বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে আশ্রয় দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা বাংলাদেশ সরকারের নেই। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের বাসিন্দা। আমরা তাদের স্থায়ীভাবে আশ্রয় দেওয়ার কথা ভাবছি না।’

মানবিক এ সংকট মোকাবেলায় উন্নত দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, মিয়ানমার ফিরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত তাদের আশ্রয় শিবিরেই থাকতে হবে। কয়েক মাসের মধ্যে কিছু রোহিঙ্গাকে কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হবে। তবে সেটিও অস্থায়ী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা