kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

ডেটলাইন ২২ জানুয়ারি

প্রথমে ৪৫০ রোহিঙ্গা হিন্দুকে ফেরত নিতে চায় মিয়ানমার

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৯ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রথমে ৪৫০ রোহিঙ্গা হিন্দুকে ফেরত নিতে চায় মিয়ানমার

হিন্দু ধর্মাবলম্বী ৪৫০ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া শুরুর কথা বলছে মিয়ানমার। আর এটি তারা করতে চাচ্ছে প্রত্যাবাসন শুরুর ডেটলাইন ২২ জানুয়ারিতেই। মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমারে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ড. উইন মিয়াত আইয়ি গত বুধবার নেপিডোতে দেশটির মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধিকে জানান, আগামী ২২ জানুয়ারি বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া শুরু করবে মিয়ানমার। শুরুতে রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ফেরত নেওয়া হবে। ২২ জানুয়ারি বাংলাদেশ সীমান্তে ৪৫০ রোহিঙ্গা হিন্দুকে গ্রহণ করবে মিয়ানমার। দেশটির মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হকের নেতৃত্বে বাংলাদেশে মিয়ানমারের নাগরিকবিষয়ক টাস্কফোর্সের ১৭তম বৈঠক ও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদের বৈঠক গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানা গেছে, আশ্রয় নেওয়া আট লাখ রোহিঙ্গার তথ্য বাংলাদেশ সংগ্রহ করেছে। তাদের মধ্যে এক লাখ রোহিঙ্গার তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মিয়ানমারকে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বাকিদের প্রত্যাবাসন করার চেষ্টা করবে বাংলাদেশ। প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপকে আরো চুক্তি করতে হবে। কোন রুট দিয়ে কবে, কিভাবে রোহিঙ্গারা ফিরে যাবে, ক্যাম্প কোথায় হবে বা পরিবহনব্যবস্থা কী হবে, সেসব বিষয় ওই চুক্তিতে থাকবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনবিষয়ক ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’-এর খসড়া গতকালের বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল চূড়ান্ত করেছে। এটি বিবেচনার জন্য মিয়ানমারের কাছে আগামী সপ্তাহে পাঠানো হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গত ১৯ ডিসেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের পর প্রথম বৈঠক আগামী ১৫ জানুয়ারি মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত হবে। তবে ২৩ নভেম্বর প্রত্যাবাসন চুক্তি সই হওয়ার তিন মাসের মধ্যে অর্থাৎস আগামী ২২ জানুয়ারি প্রত্যাবাসন শুরুর যে লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে।

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জোর দিয়ে বলছে, প্রত্যাবাসন হতে হবে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও সম্মানজনক। তা ছাড়া রাখাইন রাজ্য থেকে এখনো প্রতিদিন রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসছে। সেখানে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো সৃষ্টি হয়নি বলেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মনে করছে। এমন পরিস্থিতিতে কতজন রোহিঙ্গা মিয়ানমারে স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে আগ্রহী হবে তা নিয়েও প্রশ্ন আছে।

তা ছাড়া মিয়ানমার হিন্দু ধর্মাবলম্বী রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বিশেষভাবে আগ্রহী হওয়া নিয়েও নানা সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এর আগে মিয়ানমার হিন্দু ধর্মাবলম্বী রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক বিবৃতি দিতে বাধ্য করেছে। তারা বলেছে, রোহিঙ্গা মুসলমানরাই তাদের ওপর হামলা করেছে। তবে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বড় অংশের অভিযোগ, গণহত্যা থেকে দৃষ্টি আড়াল করতেই মিয়ানমার এখন রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা