kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১         

আ. লীগে একাধিক মুখ বিএনপির চোখ কেন্দ্রে

এমরান হাসান সোহেল, পটুয়াখালী   

২৯ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আ. লীগে একাধিক মুখ বিএনপির চোখ কেন্দ্রে

পটুয়াখালী সদর, দুমকী ও মির্জাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে পটুয়াখালী-১ সংসদীয় আসন (নম্বর-১১১)। ১৯৯১ সালের নির্বাচন থেকে এ আসনে যে প্রার্থী জিতেছেন তাঁরই দল বা জোট সরকার গঠন করেছে। ঘটনাটি কাকতালীয় হলেও প্রধান দুই দলের নেতারা তা ভোলেন না। এখানে সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগ খুবই শক্তিশালী। তাই প্রচার-প্রচারণায় অন্যদের থেকে এগিয়ে তারা। আগামী নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে তারা শতভাগ আশাবাদী। কিন্তু শর্ত হচ্ছে—এবার আর জাতীয় পার্টিকে নয়, আওয়ামী লীগের  প্রার্থীকেই মনোনয়ন দিতে হবে। এদিকে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা খুবই নাজুক। দ্বন্দ্ব জেলা কমিটি থেকে ওয়ার্ড পর্যায়ে। ফলে প্রচার-প্রচারণায় নেই কর্মীরা। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের এখন একটাই চাওয়া—প্রয়োজনে কেন্দ্র হস্তক্ষেপ করে যেন দলকে প্রতিযোগিতায় ফেরায়।

আওয়ামী লীগ : জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শাজাহান মিয়া ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে দল সরকার গঠনের পর তিনি ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। সবাইকে দলে সংহত করে তিনি সাংগঠনিক ভিত বেশ মজবুত করেছেন। বিগত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনেও তাঁকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। জাতীয় পার্টিকে আসন ছেড়ে দেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে, নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার। মো. শাজাহান মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সারা জীবন নেত্রীর নির্দেশনায় দলের জন্য কাজ করেছি। দুইবার এমপি নির্বাচিত হয়ে দৃশ্যমান বহু উন্নয়ন করেছি। মাঠপর্যায়ের কর্মীরা আগামী নির্বাচনে আমাকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে চাচ্ছে। তবে সে ক্ষেত্রে নেত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’

এদিকে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে দৌড়ঝাঁপ করছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক আফজাল হোসেন। নৌকা প্রতীক চাইতে আগ্রহী সাবেক পৌর ও উপজেলা চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি লুত্ফুন্নেছার স্বামী সুলতান আহম্মেদ মৃধা। তিনি বলেন, ‘এলাকার উন্নয়নে আমার পরিবার অনেক কাজ করেছে। আশা করি নেত্রী আমাকে মূল্যালয় করবেন।’ এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আব্দুল মালেক মিয়াকে নিয়েও গুঞ্জন চলছে।



বিএনপি :  ১৯৯১ সালে এ আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত হন এম কেরামত আলী। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির বির্তকিত নির্বাচনে জিতেছিলেন আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং ২০০১ সালেও তিনি পুনরায় এমপি হন। তবে তিনি হেরে যান ২০০৮ সালের নির্বাচনে। ২০১৩ সালে চৌধুরীকে সভাপতি এবং এম এ রবকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট জেলা কমিটি গঠন করা হয়। দলে বর্তমানে বিরোধ চরম পর্যায়ে। প্রভাবশালী অধিকাংশ মুখ কমিটিতে নেই। স্থান পাননি পটুয়াখালী-২ আসনের সাবেক এমপি ও জেলা কমিটির সাবেক সহসভাপতি শহীদুল আলম তালুকদার, সাবেক সহসভাপতি আব্দুর রশিদ চুন্নু মিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহাদৎ হোসেন মৃধা, স্নেহাংশু সারকার কুট্টি, সাবেক পৌর মেয়র মোশতাক আহম্মেদ পিনুর মতো প্রভাবশালী নেতারা। এ ছাড়া ১৯৭৯ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত যাঁরা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কিংবা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে রাজপথ কাঁপিয়েছেন তাঁরাও নেই আজ বিএনপিতে। এত সব বিভক্তির ফলে নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণায় মাঠে নেই বিএনপি কিংবা সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তবে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা মনে করে এখনো সবার সমন্বয়ে একটি জেলা কমিটি গঠন করা হলে তাদের শক্তি বহুগুণ বেড়ে যাবে এবং বিএনপি প্রার্থীই বিজয়ী হবেন।

বিএনপি প্রার্থী হিসেবে যাঁদের নাম শোনা যাচ্ছে তাঁরা হলেন—আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শাহাদৎ হোসেন মৃধা, স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও তৌফিক আলী খান কবির। বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. তৌফিক আলী খান কবির বলেন, ‘সাংগঠনিকভাবে আমরা খুবই দুর্বল। এ কারণে অধিকাংশ নেতাকর্মী কেন্দ্রের প্রতি অভিমানী। বিভেদ ঘোচাতে কেন্দ্রের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।’ সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহাদৎ হোসেন মৃধা বলেন, ‘নির্বাচন আসন্ন, সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়ে নির্বাচন হয় না। আমার বিশ্বাস, হাইকমান্ড এ জেলার বিএনপিকে বাঁচাতে সবার সমন্বয়ে দ্রুত একটি কমিটি ঘোষণা করবেন। তবেই নির্বাচনের ফলাফল আমাদের অনুকূলে আসবে।’ তবে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এম এ রব মিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগের এজেন্ট হয়ে বিএনপি পরিচয়ে একটি মহল আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। ওই সব ষড়যন্ত্রকারীকে নেত্রী (খালেদা জিয়া) নিজে বিভিন্ন সময় বহিষ্কার করেছেন। বর্তমানে যোগ্য সব নেতাই দলে পদ পেয়েছেন। আগামী নির্বাচনে আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বিজয় সুনিশ্চিত।’

জাতীয় পার্টি : বর্তমান এমপি জাতীয় পার্টির (এরশাদ) হলেও চার বছর দলটি রাজনীতির মাঠে প্রভাব তৈরি করতে পারেনি। জোটবদ্ধ নির্বাচন হলে এবং আওয়ামী লীগ আবারও আসনটি জাপাকে ছেড়ে দিলে সে ক্ষেত্রে কর্মীরাই জাপার ভরসা। এ ব্যাপারে পটুয়াখালী জাপার যুগ্ম মহাসচিব জাকির মাহামুদ সেলিম বলেন, ‘জোটবদ্ধ কিংবা জোট ছাড়া যেভাবেই নির্বাচন হোক বর্তমান এমপি এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা