kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১১ আগস্ট ২০২২ । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১২ মহররম ১৪৪৪

কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ স্তরকে মাস্টার্সের স্বীকৃতি

ভাস্কর্য অপসারণের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ স্তরকে মাস্টার্সের স্বীকৃতি

অবশেষে কওমি মাদরাসার শিক্ষা সনদের স্বীকৃতি দিল সরকার। কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসের সনদ ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি সাহিত্যের মাস্টার্স (স্নাতকোত্তর) ডিগ্রির সমমর্যাদা পাবে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে গণভবনে কওমি মাদরাসার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ঘোষণা দেন। কওমি মাদরাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে এবং দারুল উলুম দেওবন্দের মূলনীতিগুলোকে ভিত্তি করে এ মর্যাদা দেওয়া হলো বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।

বিজ্ঞাপন

আজ বুধবার এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন কওমি মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস পাস শিক্ষার্থীরা দেশে-বিদেশে মাস্টার্স পাস সমমানের মর্যাদা পাবেন। অন্য মাধ্যম থেকে স্নাতকোত্তর পাস করা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একই চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবেন তাঁরা। এত দিন স্বতন্ত্র ধারার এই শিক্ষাব্যবস্থার সনদের কোনো স্বীকৃতি ছিল না।

বৈঠকে কওমি মাদরাসার আলেম-ওলামাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমে একটা প্রজ্ঞাপন হবে। তারপর আপনারা যেভাবে চান সব কিছু মিলিয়ে একটা আইনি ভিত্তি যেন হয় সে বিষয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করব। এখানে আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই মন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী রয়েছেন, সচিবরা রয়েছেন, আমার দপ্তরের মুখ্য সচিব রয়েছেন এবং অন্য কর্মকর্তারা রয়েছেন, আমি আশা করি তাঁরা যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন। যাতে এ সনদের স্বীকৃতি দ্রুত হতে পারে। আপনাদের মতামত যেটা আমার কাছে এসেছে, সবার স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে এবং দেওবন্দের যে মূলনীতি সেটার ওপর ভিত্তি করেই এটা হবে। ’

জানা গেছে, বৈঠকে কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী, জাতীয় দ্বিনি শিক্ষা বোর্ডের সভাপতি ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ, কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলী, মাওলানা রুহুল আমীনসহ ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি এবং ওলামা-মাশায়েখ নেতাদের মধ্যে মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, আব্দুল হালিম বোখারি, মাওলানা নূর হোসেন কাশেমি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।  

বৈঠকে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে ভাস্কর্য অপসারণের দাবির বিষয়ে আলেমরা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের হাইকোর্টের সামনে গ্রিক থেমেসিসের এক মূর্তি লাগানো হয়েছে। সত্য কথা বলতে কি আমি নিজেও এটা পছন্দ করিনি। কারণ গ্রিক থেমেসিসের মূর্তি আমাদের এখানে কেন আসবে। এটা তো আমাদের দেশে আসার কথা না। আর গ্রিকদের পোশাক ছিল এক রকম, সেখানে মূর্তি বানিয়ে তাকে আবার শাড়িও পরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটাও একটা হাস্যকর ব্যাপার করা হয়েছে। এটা কেন করা হলো, কারা করল, কিভাবে—আমি জানি না। ইতিমধ্যেই আমাদের প্রধান বিচারপতিকে আমি এই খবরটা দিয়েছি এবং খুব শিগগির আমি ওনার সঙ্গে এ বিষয় নিয়ে বসব। আলোচনা করব এবং আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এটা এখানে থাকা উচিত নয়। তবে আমি আপনাদের বলব, আপনারা ধৈর্য ধরেন। কারণ এটা নিয়ে কোনো হৈচৈ নয়। একটা কিছু যখন করে ফেলেছে সেটাকে আমাদের সরাতে হবে। সেটার জন্য আপনারা এতটুকু ভরসা অন্তত রাখবেন যে এ বিষয়ে যা যা করার আমি তা করব। ’

বৈঠক শেষে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল জলিল কালের কণ্ঠকে জানান, কওমি মাদরাসার শিক্ষা সনদের স্বীকৃতির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। কওমি মাদরাসার ছয়টি বোর্ড তাদের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাগুলো আগের মতোই পরিচালনা করবে। সরকার এ ক্ষেত্রে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।  

কওমি মাদরাসা শিক্ষা সনদ স্বীকৃতি বাস্তবায়ন পরিষদের সদস্যসচিব মাওলানা ইয়াহিয়া মাহমুদ কালের কণ্ঠকে জানান, প্রধানমন্ত্রী বহু প্রতীক্ষিত কওমি মাদরাসার শিক্ষা সনদের স্বীকৃতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। শিগগিরই এ ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কোনো বিষয় নিয়ে মতভিন্নতা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যাবে। প্রধানমন্ত্রী আলেমদের বক্তব্য মনোযোগসহকারে শোনেন এবং যৌক্তিক দাবিগুলোর বিষয়ে তাঁর সরকারের সর্বাত্মক সহায়তার কথা জানান।



সাতদিনের সেরা