kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

স্মরণসভায় প্রধান বিচারপতি

বিচারপতি দেবেশ ভট্টাচার্য ছিলেন আইনের দার্শনিক

নিজস্ব প্রতিবেদক    

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিচারপতি দেবেশ ভট্টাচার্য ছিলেন আইনের দার্শনিক

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা বলেছেন, বিচারপতি দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য ছিলেন আইনের দার্শনিক। দেওয়ানি আইনে যেমন পণ্ডিত ছিলেন, তেমনি ফৌজদারি আইনের ক্ষেত্রেও সমান দক্ষতা ছিল তাঁর। তাঁর প্রতিটি রায় যুগান্তকারী। হাইকোর্টে তিন বছর বিচারপতি হিসেবে বিচারকালে তিনি যেসব রায় দিয়ে গেছেন, তাঁর সেই চিন্তা-চেতনায় পৌঁছতে আরো একটি প্রজন্ম লাগবে।
বিচারপতি দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্যের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন পরিষদ আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা এসব কথা বলেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন আপিল বিভাগের বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদুল ইসলাম ও এ এফ হাসান আরিফ, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রয়াত বিচারপতি দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্যের জীবনী সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান। বিচারপতি দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের বাবা। সভায় সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিচারপতি দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য ১৯১৪ সালের ৩ নভেম্বর টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী হিসেবে পেশায় থাকাবস্থায় ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর অনুরোধে হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন। তিন বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি নিযুক্ত হন। ১৯৭৭ সালে তিনি অবসরে যান। ২০০৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বলেন, ‘মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় নতুন করে সংজ্ঞা দিয়েছেন বিচারপতি দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য। ফৌজদারি আইনের মামলার বিচারের ক্ষেত্রে তাঁর এই রায় আজ আমরা অনুসরণ করি। বিচারপতি দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্যের বিশেষ দিক হচ্ছে, তিনি যেসব রায় দিয়েছেন তার প্রত্যেকটিতেই আইনের পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেছেন। হিন্দু বিধবা নারীদের স্বার্থরক্ষায় তিনি যে রায় দিয়ে গেছেন তা সঠিকভাবে পর্যালোচনা করা হলে এ জন্য সরকারের কাছে দাবি জানানোর দরকার নেই।’ প্রধান বিচারপতি আরো বলেন, ‘শত্রু সম্পত্তি, হিন্দু বিধবা নারীর অধিকার রক্ষা, মানবাধিকার রক্ষাসহ যেসব ক্ষেত্রে তিনি রায় দিয়েছেন, তার প্রত্যেকটি ছিল যুগান্তকারী। আমাদের যেমন পেনাল কোড, সিভিল প্রসিডিউর কোড, ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোড রয়েছে, তেমনি বিচারপতি দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য নিজেই ছিলেন একটি পরিপূর্ণ কোড। অথচ তাঁর মতো একজন ব্যক্তিত্বের জন্মশতবার্ষিকীতে স্বল্পসংখ্যক বিচারক ও আইনজীবীর উপস্থিতি আমাকে মর্মাহত করেছে। এটা দুঃখজনক।’
বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিচারপতি দেবেশ চন্দ্র রায় দেওয়ার সময় শুধুই আইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আইনকে নতুনভাবে দেখার চেষ্টা করেছেন। এ কারণে তিনি ছিলেন প্রকৃতপক্ষে একজন জুডিশিয়াল অ্যাক্টিভিস্ট। তিনি যেমন দেওয়ানি আইনে পরিপক্ষ আইনজীবী ও বিচারক ছিলেন, তেমনি ফৌজদারি আইনে সমান দক্ষ ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন বিশ্বমানের আইনবিদ ও বিচারক। মানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন প্রগতিশীল। তিনি ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর এই বিরল মেধা ও অবদানের কারণে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর নামে একটি চেয়ার স্থাপন করা কিংবা দেশের কোনো রাস্তার নামকরণ করার কথা ভাবতে হবে।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, বিচারপতি দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্যের রায় পড়লে সেটা শুধুই রায় হিসেবে মনে করার কোনো কারণ নেই। সেটা পড়লে মনে হবে আইনের ওপর জ্ঞান দিচ্ছেন।
ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম বলেন, বিচারপতি দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য ছিলেন গণতন্ত্র, মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার কণ্ঠ।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, বিচারপতি দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য ছিলেন একজন সংবেদনশীল বিচারপতি। আইনের শাসন, মানবাধিকার, সুবিচার ও নাগরিকের অধিকার রক্ষাই ছিল তাঁর বিবেচ্য বিষয়।
ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ বলেন, বিচারপতি দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য মানবাধিকার ও আইনের শাসন রক্ষায় শাহজাহানের মামলায় যে রায় দেন তা আজও যুগান্তকারী। এই রায় দেওয়ার কিছুদিনের মধ্যে তাঁকে আপিল বিভাগে নিয়োগ দেওয়া হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা