• ই-পেপার

পঞ্চম শ্রেণি: আমাদের স্মরণীয় নেতা

  • দিলারা আক্তার, সহকারী শিক্ষক, মাধবপাশা সরকারি, প্রাথমিক বিদ্যালয়, বন্দর, নারায়ণগঞ্জ

বানানচর্চা

জিয়াউল হাসান সবুজ
বানানচর্চা

অথৈ নয় অথই

‘থই’ শব্দের বানান কখনো ‘থৈ’ লেখা যাবে না। আধুনিক বাংলায় কিছু অতৎসম শব্দে ঐ-কার এবং ঔ-কারের পরিবর্তে ‘ই’ এবং ‘উ’ ব্যবহার করা হয়। ‘থই’ শব্দটি সংস্কৃত ‘স্থল’ থেকে উদ্ভূত; কাজেই এটি তদ্ভব শব্দ। আমরা জানি, তদ্ভব শব্দ অতৎসম। তাই ‘অথই’ শুদ্ধ।

 

আঙ্গুল নয় আঙুল

সাধু ভাষায় ‘ঙ্গ’-যুক্ত কিছু শব্দ রয়েছে, যেগুলো উচ্চারণের সময় ‘গ’ ধ্বনিটির উচ্চারণ তেমন ফুটে ওঠে না বা সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। সেসব শব্দের চলিত রীতির বানানে ‘ঙ্গ’ না লিখে ‘ঙ’ লেখা হয়। তাই আঙ্গুল নয়, আঙুল হবে। একই নিয়মে আঙুর, কাঙাল, আঙিনা, গোঙানি, ঘুঙুর, ঘ্যাঙানি, চাঙ, চাঙা, চাঙারি, চোঙা, জাঙাল, ঝিঙে, টাঙা, টাঙানো, টাঙি, টুঙি, ঠোঙা, ঠ্যাঙানো, ঠ্যাঙাড়ে, ডাঙা, ডিঙা, ডিঙানো, ডিঙি, ডোঙা, ঢ্যাঙা, ফিঙে, ভাঙন, ভাঙা, ভাঙানো, ভ্যাঙানি, ভ্যাঙানো, মাছরাঙা, রঙিন, রাঙা, রাঙামাটি, লাঙল, শিঙা, হাঙর ইত্যাদি শুদ্ধ।

 

অংক নয় অঙ্ক

সন্ধিবদ্ধ শব্দে ‘ঙ’ স্থানে ‘ং’ হয়; কিন্তু ‘অঙ্ক’ একটি প্রত্যয়সাধিত শব্দ। সন্ধিবদ্ধ না হওয়ার কারণে ‘ঙ’ স্থানে ‘ং’ হবে না। তাই অঙ্ক শুদ্ধ।

একই কারণে অঙ্গ, আকাঙ্ক্ষা, আতঙ্ক, কঙ্কাল, গঙ্গা, বঙ্কিম, বঙ্গ, লঙ্ঘন, শঙ্কা, শৃঙ্খলা, সঙ্গে, সঙ্গী ইত্যাদি শব্দগুলোও সঠিক।

 

ধ্বস নয় ধস

সংস্কৃত ‘ধ্বংস’ থেকে তদ্ভবে ‘ধস’ হয়েছে। ‘ধস’ অর্থ পাহাড় বা নদীর তীরের কোনো অংশের ভাঙন। পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, অতৎসম শব্দে অনুচ্চারিত ব-ফলা ব্যবহৃত হয় না। ‘ধস’ শব্দটি অতৎসম; তাই, ‘ধস’ শব্দেও ব-ফলা ব্যবহৃত হবে না।

 

জনাব ও জনাবা

‘জনাব’ সম্মানজ্ঞাপক শব্দ। ব্যক্তির নামের পূর্বে শব্দটি সম্মান প্রকাশের জন্য ব্যবহার করা হয়। কিন্তু অনেকে মহিলাদের নামের পূর্বে ‘জনাব’-এর স্ত্রীবাচক শব্দ হিসেবে সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়মানুসারে ‘আ’ যুক্ত করে ‘জনাবা’ লিখে থাকেন। কিন্তু এটি সঠিক নয়।

‘জনাবা’ শব্দের অর্থ শারীরিক অপবিত্রতা, অপবিত্র অবস্থা। সুতরাং কোনো নারীর নামের আগে সম্বোধন হিসেবে ‘জনাবা’ লেখা কেবল ভুলই নয়, অপমানজনকও বটে। তাই, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার ক্ষেত্রে ‘জনাব’ লেখাই সমীচীন।

 

 

 

পঞ্চম শ্রেণি : আমাদের মুক্তিযুদ্ধ

দিলারা আক্তার, সহকারী শিক্ষক, মাধবপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বন্দর, নারায়ণগঞ্জ

পঞ্চম শ্রেণি : আমাদের মুক্তিযুদ্ধ
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

পঞ্চম অধ্যায়

 

 

 

 

 

 

বহু নির্বাচনী প্রশ্ন

১। বাংলা ভাষার ওপর আঘাত আসে—

     ক. ১৯৪৭ সালে     খ. ১৯৫২ সালে

     গ. ১৯৫৪ সালে      ঘ. ১৯৫৮ সালে

২।  উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করে—

     ক. ভারত       খ. পাকিস্তান

     গ. বাংলাদেশ   ঘ. ইংল্যান্ড

৩।  ভাষা আন্দোলন সংঘটিত হয়—

     ক. ১৯৪৭ সালে     খ. ১৯৫২ সালে

     গ. ১৯৬৬ সালে      ঘ. ১৯৭১ সালে

৪। যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠিত হয়—

     ক. ১৯৫২ সালে      খ. ১৯৫৪ সালে

     গ. ১৯৫৮ সালে      ঘ. ১৯৬২ সালে

৫। সামরিক শাসন জারি করেন—

     ক. ইয়াহিয়া খান     খ. জিয়াউর রহমান

     গ. আইয়ুব খান ঘ. ভুট্টো

৬। ছয় দফা আন্দোলন হয়—

     ক. ১৯৬২ সালে      খ. ১৯৬৬ সালে

     গ. ১৯৬৯ সালে      ঘ. ১৯৭০ সালে

৭। গণ-অভ্যুত্থান ঘটে—

     ক. ১৯৬৬ সালে      খ. ১৯৬৯ সালে

     গ. ১৯৭০ সালে      ঘ. ১৯৭১ সালে

৮। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়—

     ক. মুসলিম লীগ      খ. আওয়ামী লীগ

     গ. বিএনপি     ঘ. জাতীয় পার্টি

৯। ৭ মার্চের ভাষণ দেন—

     ক. তাজউদ্দীন আহমদ

     খ. শেখ মুজিবুর রহমান

     গ. জিয়াউর রহমান

     ঘ. কামরুজ্জামান

১০।                  অপারেশন সার্চলাইট শুরু হয়—

     ক. ২৫ মার্চ ১৯৭১   খ. ২৬ মার্চ ১৯৭১

     গ. ৭ মার্চ ১৯৭১

     ঘ. ১০ এপ্রিল ১৯৭১

১১।                  কালরাত হিসেবে পরিচিত—

     ক. ২৬ মার্চ     খ. ২৫ মার্চ

     গ. ৭ মার্চ       ঘ. ১৬ ডিসেম্বর

১২।                  স্বাধীনতার ঘোষণা দেন—

     ক. শেখ মুজিব খ. জিয়াউর রহমান

     গ. আইয়ুব খান ঘ. ভুট্টো

১৩।                  স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারিত হয়—

     ক. ঢাকা        খ. কুমিল্লা

     গ. চট্টগ্রাম      ঘ. রাজশাহী

১৪।                  মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়—

     ক. ১০ এপ্রিল ১৯৭১

     খ. ১৭ এপ্রিল ১৯৭১

     গ. ২৬ মার্চ ১৯৭১

     ঘ. ৭ মার্চ ১৯৭১

১৫।                  মুজিবনগর সরকারের শপথ হয়—

     ক. ১০ এপ্রিল  খ. ১৭ এপ্রিল

     গ. ২৫ মার্চ     ঘ. ২৬ মার্চ

১৬।                  মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন—

     ক. তাজউদ্দীন আহমদ

     খ. সৈয়দ নজরুল ইসলাম

     গ. শেখ মুজিবুর রহমান

     ঘ. কামরুজ্জামান

১৭।                  প্রধান সেনাপতি ছিলেন—

     ক. জিয়াউর রহমান  খ. এমএজি ওসমানী

     গ. খালেদ মোশাররফ                   ঘ. শফিউল্লাহ

১৮।                  মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সমগ্র দেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়—

     ক. ৮ সেক্টরে   খ. ১০ সেক্টরে

     গ. ১১ সেক্টরে  ঘ. ১২ সেক্টরে

১৯।                  অপারেশন জ্যাকপট পরিচালিত হয়—

     ক. ১৯৭০      খ. ১৯৭১

     গ. ১৯৭২       ঘ. ১৯৬৯

২০।                  কোন বাহিনী অপারেশন জ্যাকপট অভিযান পরিচালনা করে?

     ক. নৌবাহিনী   খ. বিমান বাহিনী

     গ. সেনাবাহিনী ঘ. পুলিশ বাহিনী

 

     উত্তর : ১. খ ২. খ ৩. খ ৪. খ ৫. গ ৬. খ
৭. খ ৮. খ ৯. খ ১০. ক ১১. খ ১২. খ
১৩. গ ১৪. ক ১৫. খ ১৬. গ ১৭. খ ১৮. গ

     ১৯. খ ২০. ক।

 

শূন্যস্থান পূরণ

১। ভাষা আন্দোলন সংঘটিত হয়        সালে।

২। যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠিত হয়        সালে।

৩। আইয়ুব খান ক্ষমতা দখল করেন        সালে।

৪। ছয় দফা আন্দোলন হয়        সালে।

৫। গণ-অভ্যুত্থান ঘটে        সালে।

৬। জাতীয় নির্বাচন হয়        সালে।

৭।  ৭ মার্চের ভাষণ দেন       ।

৮। অপারেশন সার্চলাইট শুরু হয়        তারিখে।

৯। কালরাত বলা হয়        তারিখকে।

১০।                  স্বাধীনতা ঘোষণা প্রচার করেন       ।

১১।                  মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়        তারিখে।

১২।                  শপথ গ্রহণ হয়        তারিখে।

১৩।                  প্রধান সেনাপতি ছিলেন       ।

১৪।                  দেশকে ভাগ করা হয়        সেক্টরে।

১৫।                  অপারেশন জ্যাকপট হয়        সালে।

 

উত্তর

    ১। ১৯৫২       ২। ১৯৫৪

     ৩। ১৯৫৮      ৪। ১৯৬৬

     ৫। ১৯৬৯       ৬। ১৯৭০

     ৭। শেখ মুজিবুর রহমান

     ৮। ২৫ মার্চ ১৯৭১   ৯। ২৫ মার্চ

     ১০। জিয়াউর রহমান

     ১১। ১০ এপ্রিল ১৯৭১

     ১২। ১৭ এপ্রিল ১৯৭১

     ১৩। এমএজি ওসমানী

     ১৪। ১১         ১৫। ১৯৭১

 

শুদ্ধ-অশুদ্ধ

১। ভাষা আন্দোলন ১৯৫৪ সালে হয়েছিল।

২। আইয়ুব খান গণতান্ত্রিক শাসক ছিলেন।

৩। ৭ মার্চের ভাষণ স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল।

৪। অপারেশন সার্চলাইট ২৫ মার্চ শুরু হয়।

৫। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা দেন।

৬। মুজিবনগর সরকার ১৯৭২ সালে গঠিত হয়।

৭। মুক্তিযুদ্ধ ১১ সেক্টরে বিভক্ত ছিল।

৮। ওসমানী ছিলেন সেনাপতি।

৯। নৌ-কমান্ডো অপারেশন জ্যাকপট চালায়।

১০।                  যুক্তফ্রন্ট দীর্ঘদিন টিকে ছিল।

১১। গণঅভ্যুত্থান ১৯৬৯ সালে হয়।

১২। নির্বাচন ১৯৬৬ সালে হয়।

১৩। কালরাত ২৫ মার্চ।

 

উত্তর

১। অশুদ্ধ    ২। অশুদ্ধ   ৩। শুদ্ধ   ৪। শুদ্ধ  ৫। শুদ্ধ  ৬। অশুদ্ধ

৭। শুদ্ধ  ৮। শুদ্ধ  ৯। শুদ্ধ  ১০। অশুদ্ধ       ১১। শুদ্ধ ১২। অশুদ্ধ        ১৩। শুদ্ধ

এইচএসসির প্রস্তুতি : হস্তান্তরযোগ্য ঋণের দলিল

মো. রবিউল আউয়াল, প্রভাষক, ফিন্যান্স বিভাগ নটর ডেম কলেজ, ঢাকা

এইচএসসির প্রস্তুতি : হস্তান্তরযোগ্য ঋণের দলিল
অলংকরণ : শেখ মানিক

ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা দ্বিতীয় পত্র

পঞ্চম অধ্যায়

[পূর্বপ্রকাশের পর]

সৃজনশীল প্রশ্ন

৩।                   বাজারে যাওয়ার সময় রুবিয়ার বাবা তাকে ৫ টাকা এবং ১০ টাকার কিছু নোট দিল। সে নোটগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম এবং বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের স্বাক্ষর লক্ষ করে। আবার তার মা তাকে ২ টাকার কিছু নোট দিল, যেখানে অর্থসচিবের স্বাক্ষর এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার লেখা দেখতে পেল।

ক. ব্যাংক ড্রাফট কী?

খ. লেনদেন নিষ্পত্তিতে হস্তান্তরযোগ্য দলিল গুরুত্বপূর্ণ কেন? ব্যাখ্যা করো।

গ. রুবিয়া তার মায়ের নিকট কোন ধরনের নোট পেল? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

ঘ. বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে রুবিয়ার বাবার দেওয়া নোট তার মায়ের দেওয়া নোট থেকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ—উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটি মূল্যায়ন করো।

 

     উত্তর

ক.  চাহিবা মাত্র প্রাপককে অর্থ পরিশোধের জন্য ব্যাংকের এক শাখা কর্তৃক অন্য শাখা বা প্রতিনিধি ব্যাংককে যে লিখিত নির্দেশ দেওয়া হয় তাকে ব্যাংক ড্রাফট বলে।

খ.  বাংলাদেশে বহাল ১৮৮১ সালের হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন অনুযায়ী প্রাপকের নির্দেশমতো প্রদেয় চেক, বিনিময় বিল ও অঙ্গীকারপত্রকে হস্তান্তরযোগ্য দলিল বলে।

     সব সমাজেই লেনদেন নিষ্পত্তিতে আমরা চেকের ব্যবহার লক্ষ করি। অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাণিজ্যে লেনদেন নিষ্পত্তিতে বিনিময় বিল ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। অঙ্গীকারপত্রও পাওনাদারগণ গ্রহণ করে। মেয়াদি বিল ও অঙ্গীকারপত্র বাট্টাকরণের সুযোগ থাকে। সর্বোপরি এরূপ দলিল আদালতের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যে কারণে লেনদেন নিষ্পত্তিতে হস্তান্তরযোগ্য দলিল গুরুত্বপূর্ণ।

 গ. উদ্দীপকে রুবিয়া তার মায়ের থেকে সরকারি নোট পেল।

     একটা দেশের সরকার নিজ কর্তৃক ও নিজ দায়িত্বে বিহিত মুদ্রা হিসেবে যে নোটের প্রচলন করে তাকে সরকারি নোট বলে। সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এরূপ নোট ছাপা হয়।

     উদ্দীপকে রুবিয়াকে তার মা ২ টাকার কিছু নোট দিল। নোটগুলোতে অর্থসচিবের স্বাক্ষর এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার লেখা দেখতে পেল, যা সরকারি নোটের বৈশিষ্ট্যর সাতে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

     তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, রুবিয়া তার মায়ের নিকট থেকে সরকারি নোট বলে।

ঘ. বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে রুবিয়ার বাবার দেওয়া নোট তার মায়ের দেওয়া নোট থেকে অধিক গুরুত্বপূণ—উক্তিটি সত্য।

     সরকারের অনুমতিক্রমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক ইস্যুকৃত নোটকে ব্যাংক নোট বলে। ব্যাংক নোটে গভর্নরের স্বাক্ষর থাকে। অপরপক্ষে, সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত নোটকে সরকারি নোট বলে। সরকারি নোটে অর্থসচিবের স্বাক্ষর থাকে।

     উদ্দীপকে বর্ণনা অনুযায়ী, বাজারে যাওয়ার সময় রুবিয়াকে তার বাবা ৫ টাকা ও ১০ টাকার কয়েকটি নোট দিল, যার ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের স্বাক্ষর রয়েছে। সুতরাং রুবিয়াকে তার বাবা প্রদত্ত নোটগুলো হলো ব্যাংক নোট। কিন্তু তার মা তাকে ২ টাকার যে নোট দিল, বৈশিষ্ট্য বিচারে তা হলো সরকারি নোট। কারণ উক্ত নোটে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার লেখা এবং অর্থসচিব এতে স্বাক্ষর করেন।

     বড় ধরনের লেনদেনের ক্ষেত্রে সরকারি নোট অপেক্ষা ব্যাংক নোট অধিক গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে বর্তমানে ১ টাকা, ২ টাকা ও ৫ টাকার নোট ছাড়া বাকি সব ব্যাংক নোট। অর্থাৎ সরকারি নোটে টাকার অঙ্ক ছোট। কিন্তু ব্যাংক নোটে টাকার অঙ্ক বড়। যে কারণে বড় অঙ্কের লেনদেনে সরকারি নোট ব্যবহার করলে অনেক নোট প্রয়োজন হবে, যা বহন করা ঝামেলাপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। অপরপক্ষে বড় অঙ্কের লেনদেনে ব্যাংক নোট ব্যবহার করলে নোটের পরিমাণ কম লাগে। যেমন—কাউকে ১০০০ টাকা প্রদানে একটি ১০০০ টাকার ব্যাংক নোটই যথেষ্ট, সেখানে সরকারি ৫ টাকার কাগজি নোট প্রয়োজন হবে ২০০টি, যা কার্যত অসম্ভব। তাই বলা যায়, বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনে উদ্দীপকে রুবিয়ার বাবা প্রদত্ত ব্যাংক নোট অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

 

৪।                   মি. রিপন সাতক্ষীরা শহরে একটি ব্যাংক থেকে একই শহরের একজন প্রাপকের উদ্দেশ্যে নিশ্চিত অর্থ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা চেয়ে একটা দলিল চাইলে ব্যাংক তাকে এমন একটি দলিল ইস্যু করে যার দুটি পক্ষ, একটি প্রস্তুতকারী ব্যাংক, অপরটি প্রাপক। অন্যদিকে জনাব আব্বাস সাতক্ষীরা থেকে খুলনা শহরে নিরাপদ অর্থ হস্তান্তরের পরামর্শ চাইলে তার ব্যাংক তাকে একটি দলিল ইস্যু করে, যার পক্ষ তিনটি। একটি প্রস্তুতকারী ব্যাংক, দ্বিতীয়টি প্রাপক এবং অপরটি আদিষ্ট ব্যাংক। দলিলটি হস্তান্তরযোগ্য এবং এর কমিশন তুলনামূলক বেশি। 

ক. হস্তান্তরযোগ্য দলিল কী?

খ.  উদ্দীপকে মি. রিপনের ব্যাংক কোন ধরনের দলিল ইস্যু করে? ব্যাখ্যা করো।

 

     উত্তর

ক. হস্তান্তরের মাধ্যমে স্বত্বান্তর ঘটে এমন দলিলকে হস্তান্তরযোগ্য দলিল বলে।

খ. উদ্দীপকে মি. রিপনের ব্যাংক হস্তান্তর অযোগ্য ঋণের দলিল পে-অর্ডার ইস্যু করে।

     যে দলিলের মাধ্যমে ব্যাংকের কোনো একটি শাখা এর প্রাপককে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদানের নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি প্রদান করে তাকে পে-অর্ডার বলে। ব্যাংকের যে শাখা একটি ইস্যু করে সেই শাখাই এটি পরিশোধ করে বিধায় পে-অর্ডার আদেষ্টা ও আদিষ্ট একই ব্যাংক শাখা হয়ে থাকে। এতে দুটি পক্ষ থাকে। যথা : প্রস্তুতকারী ব্যাংক শাখা ও প্রাপক।

          উদ্দীপকের মি. রিপন শহরের একটি ব্যাংক থেকে একই শহরের একজন প্রাপকের উদ্দেশ্যে নিশ্চিত অর্থ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা চেয়ে একটি দলিল চাইলে ব্যাংক তাকে এমন দলিল ইস্যু করে, যার দুটি পক্ষ, একটি প্রস্তুতকারী ব্যাংক, অপরটি প্রাপক। শুধু প্রাপককে প্রদান করা হয় বিধায় দলিলটি হস্তান্তর অযোগ্য। এ ধরনের দলিল একই নিকাশ ঘর এলাকার মধ্যে প্রদান করা হয় বলে এর কমিশনও তুলনামূলক কম হয়। ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত ও দলিলের বৈশিষ্ট্য পে-অর্ডারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, মি. রিপনের ব্যাংক পে-অর্ডার ইস্যু করে।

পঞ্চম শ্রেণি : বৈচিত্র্যময় বাংলাদেশ

বিশ্বজিৎ সুর, সহকারী শিক্ষক, গোয়ালনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোতোয়ালি, ঢাকা

পঞ্চম শ্রেণি : বৈচিত্র্যময় বাংলাদেশ

বাংলা

রচনামূলক প্রশ্ন

১। বাংলাদেশের উৎসবগুলো বৈচিত্র্যময় কেন?

   উত্তর : বাংলাদেশে রয়েছে উৎসবের বৈচিত্র্য। এখানকার বিভিন্ন ধর্মের মানুষের রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ধর্মীয় উৎসব।
যেমন : ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, দুর্গাপূজা, বুদ্ধপূর্ণিমা ও বড়দিন। এ ছাড়া বাংলা নতুন বছরকে বরণ করতে বাংলাদেশের মানুষ বাংলা নববর্ষ উদ‌যাপন করে। রাখাইন ও চাকমা সম্প্রদায় যথাক্রমে পালন করে সাংগ্রাই ও বিজু উৎসব। এ দেশের মানুষের ধর্মীয় ও জাতিগত বৈচিত্র্য থাকায় তাদের উৎসবগুলোও বৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ।

২। বাংলাদেশ সমৃদ্ধ হওয়ার পেছনে কাদের অবদান রয়েছে?

   উত্তর : বাংলাদেশে অনেক পেশার মানুষ রয়েছে। কৃষক মাঠে চাষ করেন। জেলেরা জাল দিয়ে মাছ ধরেন। কামার লোহার জিনিস তৈরি করেন। কুমার মাটির হাঁড়ি-পাতিল তৈরি করেন। তাঁতি কাপড় বুনেন। তাঁরা সবাই পরিশ্রমী। তাঁদের পরিশ্রমেই বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পেরেছে। তাই বলা যায়, বাংলাদেশ সমৃদ্ধ হওয়ার পেছনে এই পেশাজীবীদের অবদান রয়েছে।

৩। বাংলাদেশের মানুষের পোশাক-পরিচ্ছদের পরিচয় দাও।

   উত্তর : বাংলাদেশের মানুষের পোশাক-পরিচ্ছদে রয়েছে বৈচিত্র্য। এ দেশের মানুষ পাজামা-পাঞ্জাবি, শার্ট-প্যান্ট, শাড়ি-ব্লাউজ ও সালোয়ার-কামিজ ছাড়াও নানা ধরনের পোশাক পরে থাকে। চাকমারা পরে পিনোন ও হাদি; মারমারা পরে দেয়াহ; সাঁওতালরা পরে পাঞ্জি এবং গারোরা পরে দকমান্দা নামক এক ধরনের পোশাক।

৪। বাংলাদেশে বসবাসকারী মানুষের ভাষা বৈচিত্র্যময় কেন?

   উত্তর : বাংলাদেশে নানা জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করে। এদের কেউ বাঙালি, কেউ চাকমা, কেউ মারমা, কেউ মুরং, কেউ তঞ্চঙ্গ্যা, কেউ বা সাঁওতাল। সবারই রয়েছে নিজস্ব মাতৃভাষা। সবাই তাদের নিজস্ব মাতৃভাষায় কথা বলতে পছন্দ করে। অর্থাৎ বাঙালি ছাড়াও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মানুষ এ দেশে বসবাস করে। এ দেশে বসবাসকারী সবাই বাংলাদেশি। এ কারণে বাংলা ছাড়াও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মানুষের নিজস্ব ভাষাও এ দেশে ব্যবহৃত হয়। তাই বাংলাদেশে বসবাসকারী মানুষের ভাষা বৈচিত্র্যময়।

 

 

 

 

পঞ্চম শ্রেণি: আমাদের স্মরণীয় নেতা | কালের কণ্ঠ