kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

এইচএসসি প্রস্তুতি : অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্ন হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্র

মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, প্রভাষক, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ সিদ্ধেশ্বরী কলেজ, ঢাকা

২৬ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এইচএসসি প্রস্তুতি : অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্ন হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্র

অঙ্কন : মাসুম

দ্বিতীয় অধ্যায়

হিসাবের বইগুলো

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

[পূর্ব প্রকাশের পর]

২৮।   হিসাবের শ্রেণিবিভাগ কী?

     উত্তর : প্রকৃতি ও ব্যবহার যোগ্যতার ভিত্তিতে হিসাবগুলোকে সম্পত্তি, দায়, মুনাফাজাতীয় ব্যয় ও মুনাফাজাতীয় আয় শিরোনামে বিভক্ত করা হয়েছে।

২৯।   হিসাবকাল কী?

     উত্তর : হিসাবকাল অর্থ একটি নির্দিষ্ট সময়।

বিজ্ঞাপন

সাধারণত এক বছর সময়কে হিসাবকাল ধরা হয়। তবে ক্ষেত্রবিশেষে এক মাস বা ছয় মাসেরও হিসাবকাল হতে পারে।

৩০।   হিসাবচক্র কী?

     উত্তর : প্রতিষ্ঠানের লেনদেন চিহ্নিতকরণ ও লিপিবদ্ধকরণ থেকে শুরু করে আর্থিক ফলাফল ও আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে তথ্য প্রদান সংক্রান্ত হিসাববিজ্ঞানের এই প্রক্রিয়াটি প্রতিটি হিসাবকালে পর্যায়ক্রমিক বিভিন্ন ধাপে চক্রাকারে আবর্তিত হতে থাকে। হিসাববিজ্ঞানের এই চক্রাকারপ্রক্রিয়া পর্যায় বা ধারাবাহিক আবর্তন মেনে চলাকেই হিসাবচক্র বলে।

৩১।   প্রথম দলিল কী?

     উত্তর : প্রামাণ্য দলিল প্রস্তুত বা সংগ্রহ করে লেনদেন চিহ্নিত করা হয়। এসব প্রামাণ্য দলিলকে ব্যবসায়ের লেনদেনের প্রথম দলিল বলা হয়। এসব দলিলে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের যাবতীয় তথ্য থাকে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর নাম অনুযায়ী দায়দায়িত্ব স্পষ্ট করা থাকে।

৩২।   হিসাবের প্রাথমিক বই কী?

     উত্তর : লেনদেনগুলো চিহ্নিতকরণের পর দুতরফা দাখিলা পদ্ধতি অনুযায়ী ডেবিট ও ক্রেডিট বিশ্লেষণ করে তারিখের ক্রমানুসারে একটি নির্দিষ্ট ছকে জাবেদা বইয়ে লিপিবদ্ধ করা হয়। এটাই হলো হিসাবের প্রাথমিক বই।

৩৩।   খতিয়ান কী?

     উত্তর : জাবেদায় লেনদেনের হিসাব পক্ষের ডেবিট ও ক্রেডিটকে সংশ্লিষ্ট নিজ নিজ হিসাব খাতের ডেবিট ও ক্রেডিট দিকে স্থানান্তর করা হয়। হিসাবগুলো যে বইয়ে স্থায়ীভাবে রাখা হয় তাকে বলা হয় খতিয়ান। খতিয়ানে লেনদেনগুলোকে পৃথক শিরোনামে শ্রেণিবিন্যাস করে লিপিবদ্ধ করা হয়।

৩৪।   রেওয়ামিল কী?

     উত্তর : হিসাব তথ্যগুলোকে আরো সংক্ষিপ্ত করা ও গাণিতিক শুদ্ধতা যাচাই করার উদ্দেশ্যে হিসাবকাল শেষে ব্যয়বাচক, সম্পত্তিবাচক, আয়বাচক ও দায়বাচক হিসাব উদ্বৃত্তগুলো নিয়ে যে তালিকা তৈরি করা হয় তা রেওয়ামিল।

৩৫।   সমন্বয় ও ভুল সংশোধনী দাখিলা কী?

     উত্তর : হিসাবরক্ষণের বকেয়া ধারণা ও আয়-ব্যয় সংযোগ ধারণা প্রয়োগ দেখিয়ে সমন্বয় দাখিলা প্রস্তুত করা হয়। হিসাবের কোথাও ভুল থাকলে তা-ও সংশোধন করে নিতে হয়। এসব সমন্বয় ও ভুল সংশোধনের জন্য জাবেদা দিতে হয়, যাকে বলা হয় সমন্বয় দাখিলা ও ভুল সংশোধন দাখিলা।

৩৬।   সমন্বিত রেওয়ামিল কী?

     উত্তর : সমন্বয় দাখিলা থেকে সংশ্লিষ্ট হিসাবগুলোকে নিজ নিজ হিসাব খাতে স্থানান্তর করে আবার হিসাব খাতগুলোর সমন্বিত ও সংশোধিত জের নির্ণয় করা হয়। সমন্বিত জেরগুলো নিয়ে আবার যে রেওয়ামিল প্রস্তুত করা হয় তাকে সমন্বিত রেওয়ামিল বলে।

৩৭।   আর্থিক বিবরণী বা চূড়ান্ত হিসাব প্রস্ততকরণ কী?

     উত্তর : হিসাবচক্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে আর্থিক বিবরণী প্রস্ততকরণ। সমন্বিত রেওয়ামিলের আয় ও ব্যয় জাতীয় হিসাবগুলো দ্বারা আয় বিবরণী তৈরি করা হয়, যা থেকে আর্থিক ফলাফল অর্থাৎ নিট লাভ-ক্ষতি জানা যায়। অপরদিকে সমন্বিত রেওয়ামিলের সম্পত্তি, দায় ও মূলধন জাতীয় হিসাবগুলো দ্বারা আর্থিক বিবরণী তৈরি করা হয়, যা থেকে আর্থিক অবস্থা জানা যায়।

৩৮।   সমাপনী দাখিলা কী?

     উত্তর : আর্থিক বিবরণী প্রস্তুতের পর মুনাফাজাতীয় হিসাবগুলো অর্থাৎ আয়-ব্যয়ের উদ্বৃত্তগুলো বন্ধ করার জন্য যে জাবেদা দাখিলা প্রদান করা হয় তাকে সমাপনী দাখিলা বলে।

৩৯।   সমাপনী উত্তর রেওয়ামিল কী?

     উত্তর : সমাপনী দাখিলা দেওয়ার পর হিসাবচক্রের নবম ধাপে শেষবারের মতো একটি রেওয়ামিল প্রস্তুত করা হয়। এই রেওয়ামিলে কোনো নামিক হিসাব থাকে না। শুধু সম্পত্তি, দায়, মূলধন ও সঞ্চিতি জাতীয় হিসাবগুলোর উদ্বৃত্ত এতে স্থান পায়।

৪০।   বিপরীত দাখিলা কী?

     উত্তর : হিসাবচক্রের দশম পর্যায়ে বিপরীত দাখিলা দেওয়া হয়। এটি বাধ্যতামূলক নয়, বরং ঐচ্ছিক ধাপ। সমন্বয়সংক্রান্ত লেনদেনগুলোর মধ্যে মূলধনজাতীয় দফাগুলোকে পরবর্তী হিসাবকালে মুনাফাজাতীয় দফা হিসেবে হিসাবভুক্ত করার জন্য এ জাবেদা প্রদান করা হয়।

৪১।   কার্যপত্র কী?

     উত্তর : এটি হিসাবচক্রের একটি ঐচ্ছিক ধাপ। আর্থিক বিবরণীগুলো প্রস্তুতের কার্য সুষ্ঠু ও নির্ভুলভাবে সম্পাদনের জন্য হিসাবরক্ষণ যে খসড়া বিবরণী প্রস্তুত করে তাকে কার্যপত্র বলা হয়।

৪২।   চক্র কী?

     উত্তর : কোনো একটি বিষয়ের শুরু থেকে গন্তব্য পর্যন্ত আবর্তনকে চক্র বলে।



সাতদিনের সেরা