kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩০ জুন ২০২২ । ১৬ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৯ জিলকদ ১৪৪৩

জানা-অজানা

ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল   

২৬ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান

[ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যানের উল্লেখ আছে]

প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতার একটি শহর ব্যাবিলন। এই ব্যাবিলন শহরের (বর্তমান ইরাক) ইউফ্রেটিস নদীর তীরে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ সালে রাজা দ্বিতীয় নেবুচাঁদনেজার তাঁর রানি আমিতিসের মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে একটি ছাদবাগান নির্মাণ করেন। একেই ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান বা ঝুলন্ত বাগান বলে।

মিডিয়ান সম্রাট নিনেভা রাজ্য দখল করতে নেবুচাঁদনেজারকে সহযোগিতা করেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

তখন মিডিয়ান রাজকন্যা আমিতিসের সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে নেবুচাঁদনেজার তাঁকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর সম্রাজ্ঞীর তেমন ভালো লাগত না। কারণ ব্যাবিলন ছিল সমতল ভূমি আর মিডিয়ান ছিল সবুজ পাহাড়-পর্বতের দেশ। সম্রাট সম্রাজ্ঞীর মনের কষ্ট বুঝতে পেরে প্রাসাদের ওপরই তৈরি করলেন এই সুন্দর পুষ্পবাগান। প্রথমে সম্রাটের খাস উপাসনালয়ের সুবিস্তৃত ছাদে নির্মাণ করা হয় ৮০০ বর্গফুটের বিশাল এক ভিত। মাটি থেকে এটি ছিল প্রায় ৮০ ফুট ওপরে। এর ওপরে তৈরি করা হয় উদ্যান।

মনোহর সেই বাগানকে অত্যাশ্চর্য বাগান বলার পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে বাগানটিকে দূর থেকে দেখে মনে হতো হাওয়ায় ভাসছে। এ কারণেই হয়তো বাগানটির নামের সঙ্গে ঝুলন্ত তকমাটি লেগে গিয়েছিল। চার হাজার শ্রমিক রাত-দিন পরিশ্রম করে তৈরি করেছিল এই বাগান। বিশাল এই স্থাপনার ছিল অনেকগুলো তলা, ছিল বারান্দার মতো স্থান, সেসব স্থানে ছিল গাছপালা। এর পরিচর্যার কাজে নিয়োজিত ছিল এক হাজার ৫০ জন মালি।

গবেষণা থেকে জানা যায়, পাঁচ থেকে ছয় হাজার প্রজাতির ফুলের চারা রোপণ করা হয়েছিল ওই ঝুলন্ত বাগানে। প্রতিদিন ৮২ হাজার গ্যালন পানি প্রয়োজন হতো বাগানে, যা একটি পাইপের সাহায্যে জলাশয় থেকে তোলা হতো। ৫১৪ সালে পাশের পারস্য রাজ্যের সঙ্গে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এই সুন্দর উদ্যান সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়।

[আরো বিস্তারিত জানতে পত্রপত্রিকায় ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান সম্পর্কিত লেখাগুলো পড়তে পারো]



সাতদিনের সেরা