kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

জানা-অজানা

শুঁটকি মাছ

[সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের সপ্তম অধ্যায়ে শুঁটকি মাছের উল্লেখ আছে]

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল   

২৩ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শুঁটকি মাছ

শুকিয়ে সংরক্ষণ করা আহারযোগ্য মাছকে শুঁটকি মাছ (Dried fish) বলে। স্মরণাতীতকাল থেকে আমাদের দেশে মাছ সংরক্ষণের জন্য শুঁটকি তৈরি হয়ে আসছে। অনেকে এর তীব্র কটু গনন্ধ সহ্য করতে না পারলেও এটি অনেক বাঙালির খাদ্যতালিকায় অন্যতম উপাদেয় হিসেবে বিবেচিত। সাধারণত রূপচাঁদা, চ্যাপা, লইট্টা, ছোট চিংড়ি, পুঁটি, কাঁচকি ইত্যাদি মাছ রোদে শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করা হয়ে থাকে।

বিজ্ঞাপন

মাছ সংরক্ষণ করে না রাখলে তাজা মাছ সহজেই পচে যায়। মাছ সংরক্ষণের এক প্রাচীন পদ্ধতি হলো মাছের শরীর থেকে পানি অপসারণ করা অর্থাৎ শুকানো। কারণ পানির কারণেই বিভিন্ন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অণুজীব বেঁচে থাকে এবং মাছকে পচতে সহায়তা করে। সাধারণত শুকানোর কাজটা করা হয় বাতাস, রোদ, ধোঁয়া ইত্যাদির সাহায্যে।

মাছের আকার ও প্রজাতির নিরিখে মাছ শুকাতে দুই থেকে আট দিন সময় লাগে। বাছাই করা মাছকে মাদুরের ওপর ছড়িয়ে বা তাকে অথবা রশিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়। শুকনা মাছের আয়ুষ্কাল কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে। জেলে বা তার পরিবারের সদস্যরা সাধারণত এ কাজ করে থাকে। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার প্রায় ৭.৩ মিলিয়ন লোক প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে সামুদ্রিক মাছ আহরণ ও প্রক্রিয়াজাতের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। খাদ্য থেকে প্রাপ্ত প্রাণিজ আমিষের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে মৎস্য ও মৎস্যজাত খাদ্য থেকে। দেশের মানুষের বার্ষিক জনপ্রতি মাছের চাহিদা ২০.৪৪ কেজি। চাহিদার বিপরীতে বার্ষিক জনপ্রতি খাদ্য হিসেবে মাছ গ্রহণ ১৮.৯৪ কেজি অর্থাৎ ১.৫০ কেজি ঘাটতি থাকে। এই গ্রহণ করা মাছের প্রায় ৫ শতাংশ আসে শুঁটকি থেকে। বছরে প্রায় ৫.৪৬ লাখ মেট্রিক টন মৎস্য আহরিত হয় সমুদ্র থেকে, যার ২০ শতাংশ শুঁটকি হিসেবে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। দেশের চাহিদা মিটিয়ে আমাদের দেশের শুঁটকি মাছ রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও। দেশে উৎপাদিত বিভিন্ন প্রজাতির শুঁটকি মাছ রপ্তানি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, হংকং, ব্রিটেন, আমেরিকা, চীন, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে। বিভিন্ন প্রতিকূলতা এবং সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও এ দেশীয় শুঁটকি মাছের রপ্তানি বৃদ্ধির হার আশা-জাগানিয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ সম্ভব হলে শুধু শুঁটকি মাছ বিদেশে রপ্তানি করেই আমাদের দেশ বার্ষিক ৪০০ কোটি টাকার মতো বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে। বাংলাদেশে ৮-১০ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ থেকে বাণিজ্যিকভাবে শুঁটকি তৈরি করা হয়। এক কেজি শুঁটকি মাছ তৈরিতে প্রজাতিভেদে প্রায় তিন থেকে পাঁচ কেজি কাঁচা মাছ প্রয়োজন। বাংলাদেশে মূলত শীতকালে অর্থাৎ অক্টোবর থেকে এপ্রিল মাসে শুঁটকি মাছ প্রক্রিয়াজাত করা হয়। বাংলাদেশের উৎপাদিত সামুদ্রিক শুঁটকির সবচেয়ে বড় অংশই তৈরি হয় কক্সবাজারে।

[আরো বিস্তারিত জানতে বাংলাপিডিয়া ও পত্রপত্রিকায় শুঁটকি মাছ সম্পর্কিত লেখাগুলো পড়তে পারো]



সাতদিনের সেরা