kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

গরুর গাড়ি

[নবম ও দশম শ্রেণির কৃষিশিক্ষা বইয়ের চতুর্থ অধ্যায়ে গরুর গাড়ির উল্লেখ আছে]

২৮ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গরুর গাড়ি

গরুর গাড়ি হলো দুই চাকাবিশিষ্ট যান বিশেষ, যা গরু বা বলদ টেনে নিয়ে যায়। একসময় কৃষি ফসল ও মানুষ বহনের জনপ্রিয় বাহন ছিল গরুর গাড়ি। মালপত্র পরিবহনে গরুর গাড়ি ছিল একমাত্র পরিবহন। গরুর গাড়ির চালককে বলা হয় গাড়িয়াল।

বিজ্ঞাপন

সেই চালককে উদ্দেশ করে রচিত হয়েছে ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই’ কিংবা ‘আস্তে বোলাও গাড়ি, আরেক নজর দেখিয়া ন্যাং মুই দয়ার বাপের বাড়িরে গাড়িয়াল’—এ রকম যুগান্তকারী সব ভাওয়াইয়া গান। দুই যুগ আগেও গ্রামাঞ্চলে গরুর গাড়ি ছাড়া বিয়ে কল্পনা করা যেত না। বরপক্ষের লোকজন ১০ থেকে ১২টি গরুর গাড়ি সাজিয়ে বরযাত্রী যেত। সে সময় যেসব পরিবারে গরুর গাড়ি ছিল, তাদের কদর ছিল বেশি।

গরুর গাড়ির দুই চাকা একটি দণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এই চাকা সাধারণত বড় ও কাঠের হয়। গাড়ির সামনের দিকে থাকে একটি জোয়াল, যা গরুর ঘাড়ে রাখা হয়। দুটি গরু মিলে গাড়ি টেনে নিয়ে চলে। চালক গাড়ির সামনে বসে। তার পেছনে বসে যাত্রীরা। সবার পেছনে রাখা হয় মালপত্র। গরুর গাড়িতে যাত্রীদের বসার জন্য পাটাতন রাখা হয়। পাটাতন বানানো হয় বাঁশ বা কাঠ দিয়ে। এ ছাড়া যাত্রীদের রোদ-বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা করতে গাড়ির ওপরে বসানো হয় ‘ছই’।

গরুর গাড়ির ইতিহাস সুপ্রাচীন। নব্যপ্রস্তর যুগের সময় থেকেই মানুষ এই যানটি ব্যবহার করে আসছে। সিন্ধু অববাহিকা ও ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে গরুর গাড়ির প্রচলন শুরু হয় খ্রিস্টের জন্মের ১৬০০ থেকে ১৫০০ বছর আগে।

গরুর গাড়ি পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন। এতে কোনো জ্বালানি লাগে না। ফলে ধোঁয়া হয় না। আবার ধীরগতির কারণে এতে তেমন কোনো দুর্ঘটনারও আশঙ্কা থাকে না।

বর্তমানে নানা ধরনের মোটরযানের কারণে অপেক্ষাকৃত ধীর গতির যানটির ব্যবহার অনেক কমে এসেছে।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

 

[আরো বিস্তারিত জানতে বাংলার এনসাইক্লোপিডিয়া ‘মিমির’ ও পত্রপত্রিকায় গরুর গাড়ি সম্পর্কিত লেখাগুলো পড়তে পারো। ]



সাতদিনের সেরা