kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

নবম-দশম শ্রেণি : বাংলা প্রথম পত্র

আতাউর রহমান সায়েম, সিনিয়র সহকারী শিক্ষক, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



নবম-দশম শ্রেণি : বাংলা প্রথম পত্র

অ নু ধা ব ন মূ ল ক  প্র শ্ন

প্রবন্ধ

বই পড়া

প্রমথ চৌধুরী

 

[পূর্ব প্রকাশের পর]

৭।   প্রমথ চৌধুরী লাইব্রেরিকে স্কুল-কলেজের ওপর স্থান দিয়েছেন কেন?

     উত্তর : লাইব্রেরিতে মানুষ স্বেচ্ছায় স্বশিক্ষিত হতে পারে বলে প্রমথ চৌধুরী লাইব্রেরিকে স্কুল-কলেজের ওপর স্থান দিয়েছেন।

     স্কুল-কলেজে যে শিক্ষাব্যবস্থা চালু আছে ‘বই পড়া’ প্রবন্ধে প্রমথ চৌধুরী তাকে ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। পরীক্ষায় ভালো ফল লাভ করানোর জন্য শিক্ষার্থীকে এখানে জোর করে বিদ্যা গেলানো হয়। ফলে শিক্ষার্থীর প্রাণশক্তি বলতে তেমন কিছুই গড়ে ওঠে না। অন্যদিকে লাইব্রেরিতে স্বাধীনভাবে স্বশিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়, যা সুশিক্ষিত হওয়ার সর্বপ্রধান উপায়। এ কারণেই প্রমথ চৌধুরী লাইব্রেরিকে স্কুল-কলেজের ওপর স্থান দিয়েছেন।

 

৮।   আমাদের দেশে বেশি বেশি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন কেন?

     উত্তর : লাইব্রেরিতে সাহিত্যচর্চা করে মানুষ যথার্থ শিক্ষিত হয়ে উঠতে পারে বলে আমাদের দেশে বেশি বেশি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

     লাইব্রেরিতে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যচিত্তে সাহিত্যচর্চার সুযোগ পায়। এর ফলে মানুষ স্বশিক্ষিত হয়ে ওঠে। আর সুশিক্ষিত মানুষ মাত্রই স্বশিক্ষিত। দেশে যত বেশি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠিত হবে, যথার্থ প্রাণশক্তিসম্পন্ন একটি জাতি গড়ার সম্ভাবনাও তত বেশি বাড়বে।

 

৯।   স্বেচ্ছায় বই পড়ার ব্যাপারে প্রমথ চৌধুরী গুরুত্ব দিয়েছেন কেন?

     উত্তর : স্বেচ্ছায় বই পড়লে সুশিক্ষিত হয়ে ওঠা যায় বলে প্রমথ চৌধুরী এই বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

     আমাদের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় জোর করে পাঠ্য বইয়ের বিদ্যা গেলানোর অপচেষ্টা চালানো হয়। এমন পরিবেশে যথার্থ শিক্ষিত মানুষ হয়ে ওঠা সম্ভব নয় বলে প্রমথ চৌধুরীর মতামত। তাঁর মতে, একটি আত্মনির্ভরশীল জাতি গঠন করতে হলে স্বেচ্ছায় সাহিত্যচর্চার প্রতি মনোযোগী হতে হবে। যে জিনিস করে আনন্দ পাওয়া যায় না তা থেকে ভালো কোনো ফল আশা করাও বৃথা। তাই সবাই সানন্দে বই পড়ে সাহিত্যচর্চার সুফল লাভ করবে—এই প্রত্যাশা প্রমথ চৌধুরীর।

 

১০।  ‘যথার্থ শিক্ষক’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

     উত্তর : যে শিক্ষক শিক্ষার্থীকে স্বশিক্ষিত করে তোলার চেষ্টা করেন, তাঁকেই যথার্থ শিক্ষক বলা যায়।

     সুশিক্ষিত হওয়ার পূর্বশর্ত হলো স্বশিক্ষিত হওয়া। ছাত্র যদি বিদ্যালাভের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণরূপে শিক্ষকের ওপর নির্ভরশীল হয়, তবে তার স্বশিক্ষিত অর্থাৎ সুশিক্ষিত হওয়ার পথও রুদ্ধ হয়ে যায়। শিক্ষকের সার্থকতা বিদ্যা দান করা নয়; বরং শিক্ষার্থীকে তা লাভে সক্ষম করে তোলা। একজন যথার্থ শিক্ষক তাঁর ছাত্রের আত্মাকে বিদ্যালাভের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে তোলেন। তার বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ ঘটাতে সাহায্য করেন। তার কৌতূহলের উদ্রেক করেন। যথার্থ শিক্ষকের সাহচর্যে শিক্ষার্থী নিজেই নিজের শিক্ষা গ্রহণের প্রয়াস পায়।

 

১১।  ‘মনের দাবি রক্ষা না করলে আত্মা বাঁচে না’— কথাটির অর্থ ব্যাখ্যা করো।

     উত্তর : একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য মনের পরিচর্যা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে কথাটির মাধ্যমে।

     প্রতিটি মানুষের দুই রকম চাহিদা রয়েছে। একটি শারীরিক, আরেকটি মানসিক। উদরপূর্তি শুধু আমাদের শারীরিক চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে। কিন্তু শুধু এই দাবি মিটলেই আমরা শতভাগ সন্তুষ্ট হতে পারি না। জীবনকে সুন্দর ও সৃজনশীল করার জন্য আমাদের মন স্বপ্ন দেখে। আর তা পূরণ হলেই আমাদের আত্মা সুস্থ ও সতেজ থাকে। মনের এই দাবি পূরণের অন্যতম উপায় হচ্ছে সাহিত্যচর্চা করা।

 

১২। ‘অন্তর্নিহিত শক্তি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?   

     উত্তর : ‘অন্তনির্হিত শক্তি’ বলতে ভেতরের বা অভ্যন্তরীণ শক্তিকে বোঝায়। অর্থাৎ নিজের মনকে গড়ে তোলার শক্তি।

     প্রতিটি মানুষের মাঝেই নিহিত রয়েছে সুপ্ত শক্তি। প্রকৃত শিক্ষার ছোঁয়ায় তা জাগ্রত হয়। স্বশিক্ষিত ব্যক্তিরা নিজের ভেতরের এই শক্তিকে আবিষ্কার করতে পারেন। এই শক্তিই অন্তর্নিহিত শক্তি, যা মানুষের মানসিক শক্তির পরিচায়ক।

 

১৩। ‘মনের হাসপাতাল’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

     উত্তর : লাইব্রেরিতে স্বাচ্ছন্দ্যচিত্তে সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে আমাদের মানসিক শক্তি গড়ে ওঠে বলে ‘বই পড়া’ প্রবন্ধে প্রমথ চৌধুরী লাইব্রেরিকে মনের হাসপাতাল বলেছেন।

     প্রমথ চৌধুরীর মতে, শুধু উদরপূর্তি হলেই আমাদের মন ভরে না। আর মনের দাবি মেটাতে না পারলে আমাদের আত্মা বাঁচে না। মনকে সতেজ ও সজাগ রাখতে না পারলে আমাদের প্রাণ নির্জীব হয়ে পড়ে। এ জন্যই প্রয়োজন লাইব্রেরি। লাইব্রেরিতে আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাহিত্যচর্চা করতে পারি। এতে আমাদের মন সুস্থ ও সতেজ থাকে। এ কারণেই লেখক লাইব্রেরিকে মনের হাসপাতাল বলেছেন।

 

১৪। ‘পাস করা ও শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয়’—কথাটির অর্থ ব্যাখ্যা করো।

     উত্তর : শিক্ষিত হওয়ার অর্থ আত্মশক্তি অর্জন। শুধু পাস করার মাধ্যমে সেটি সম্ভব হয় না।

     শিক্ষা মানুষের মনকে গড়ে তোলে। প্রকৃত শিক্ষা আমাদের দৃষ্টি খুলে দেয়। আমরা বুঝতে পারি ঠিক ও ভুলের পার্থক্য। শুধু পাস করার জন্য যারা পড়ে তাদের মনের চোখ বন্ধই থেকে যায়। ফলে তাদের মনের অপমৃত্যু ঘটে। তাদের ভেতরটা হয় অন্তঃসারশূন্য। প্রকৃত শিক্ষিত হওয়ার সঙ্গে পাস করা বিদ্যার এখানেই বৈপরীত্য।

 

১৫।  প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যচর্চাকে শিক্ষার প্রধান অঙ্গ বলেছেন কেন?  

     উত্তর : সাহিত্যচর্চাকে শিক্ষার প্রধান অঙ্গ বলেছেন।

     সাধারণ অর্থে শিক্ষা বলতে আমরা শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকেই বুঝে থাকি। এই শিক্ষার গণ্ডি অত্যন্ত সীমাবদ্ধ এবং বাধ্য হয়ে গ্রহণ করতে হয় বলে এতে কোনো আনন্দ নেই। প্রকৃতপক্ষে শিক্ষা গ্রহণের পরিধি আরো বৃহত্তর। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরেও আরো অনেক উপায়ে মানুষ শিক্ষা লাভ করে। সাহিত্যচর্চার মাধ্যমেই সবচেয়ে স্বচ্ছন্দ ও পরিপূর্ণভাবে শিক্ষা লাভ করা যায়। সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে মানুষ আত্মশক্তিসম্পন্ন হয়ে সুশিক্ষিত হয়ে ওঠে। প্রমথ চৌধুরী এ কারণে সাহিত্যচর্চাকে শিক্ষার প্রধান অঙ্গ বলেছেন।

 

১৬।  সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে লাইব্রেরি অপরিহার্য কেন?  

     উত্তর : স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে বৃহৎ পরিসরে সাহিত্যচর্চা করার জন্য লাইব্রেরি অপরিহার্য।

     বই পড়া ছাড়া সাহিত্যচর্চার উপায়ান্তর নেই। আর বই পড়ার জন্য সবচেয়ে আদর্শ স্থান হলো লাইব্রেরি। এখানে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর লেখা অনেক বইয়ের সংগ্রহ থাকে। পাঠক এখানে এসে নির্বিঘ্নে তার রুচি অনুসারে বই পড়তে পারে। এ কারণেই সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে লাইব্রেরির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

১৭।  ‘যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব’—কথাটির অর্থ ব্যাখ্যা করো।

     উত্তর : ‘যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব’ বলতে যে জাতির প্রাণশক্তি কম, তারা খুব বেশি উন্নতি করতে পারে না বোঝানো হয়েছে।

     মনের স্ফূর্তিই সব কল্যাণের উৎস। শুধু দেহের চাহিদা পূরণ হলেই মানুষের সন্তুষ্টি হয় না। তার পাশাপাশি চাই মনের আনন্দ। আনন্দের স্পর্শে মানুষের মনপ্রাণ সজীব ও সতেজ হয়ে ওঠে। অন্যদিকে মনে আনন্দ না থাকলে কোনো কিছুতেই উৎসাহ পাওয়া যায় না। তাই যে জাতি প্রাণশক্তিতে দুর্বল তারা কর্মশক্তিতেও অগ্রগামী নয়।



সাতদিনের সেরা