kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

ষষ্ঠ শ্রেণি : বাংলা প্রথম পত্র

আতাউর রহমান সায়েম, সিনিয়র সহকারী শিক্ষক, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মতিঝিল, ঢাকা

৬ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ষষ্ঠ শ্রেণি : বাংলা প্রথম পত্র

কবিতা

জন্মভূমি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

     উদ্দীপক-i.

     ‘জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো

     এমন করে আকুল হয়ে আমায় তুমি ডাক’

 

     উদ্দীপক-ii.

     আজি ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায়

     লুকোচুরির খেলা

     নীল আকাশে কে ভাসালে সাদা মেঘের ভেলা

 

ক)   কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন?      ১

খ)   কবি জন্মভূমিকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করেছেন কেন?   ২

গ)   উদ্দীপক-ii এ ‘জন্মভূমি’ কবিতার যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা বর্ণনা করো।   ৩

ঘ)   ‘উদ্দীপক-i এর আকাঙ্ক্ষা আর ‘জন্মভূমি’ কবিতার কবির আকাঙ্ক্ষা একই’—এর সত্যতা নির্ণয় করো।      ৪

 

উত্তর :

ক)   কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

 

খ)   কবি জন্মভূমিকে মায়ের মতো ভালোবাসেন বলে জন্মভূমিকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করেছেন।

‘জন্মভূমি’ কবিতায় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ দেশে জন্মগ্রহণ করে, জন্মভূমিকে ভালোবাসতে পেরে তাঁর জীবনের সার্থকতা অনুভব করেন। এ কবিতায় কবির ভাবনা, মাতৃভূমির কোলে জন্মগ্রহণ করে মানুষ তাঁর জল-হাওয়া ভোগ করে জীবন ধারণ করে, বড় হয়। এ জন্য জন্মভূমি আমাদের মায়ের মতো। কবি মায়ের স্নেহ-ভালোবাসায় যেমন সুখ অনুভব করেন তেমনি মাতৃভূমির স্নেহছায়ায়ও পরম সুখ ও শান্তি লাভ করেন। তাই কবি জন্মভূমিকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করেছেন।

 

গ)   উদ্দীপক-ii এ ‘জন্মভূমি’ কবিতার জন্মভূমির অপরূপ সৌন্দর্যের দিকটি ফুটে উঠেছে।   

 ‘জন্মভূমি’ কবিতায় দেখা যায়, বাংলাদেশের চারদিকে অজস্র সৌন্দর্য ছড়িয়ে রয়েছে। জন্মভূমির বিচিত্র সৌন্দর্যের অফুরন্ত উত্স হচ্ছে বাগানের ফুল, সিগ্ধ চাঁদের জ্যোত্স্না, চমত্কার সূর্যের আলো, সোনা রূপ ফসল ফলানো মাটিসহ অফুরন্ত মনোহর সৌন্দর্য, যা আমাদের জন্মভূমিকে চমত্কারভাবে সাজিয়েছে।

উদ্দীপক-ii এ প্রকৃতির সৌন্দর্যের দিকটি বর্ণিত হয়েছে। দিগন্ত জোড়া ধান ক্ষেতের বুকে সোনালি আলো-ছায়ার খেলা, বিশাল নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, যা বাংলার অপরূপ মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যকে তুলে ধরে। তাই বলা যায়, উদ্দীপক-রর এ ‘জন্মভূমি’ কবিতার জন্মভূমির অপরূপ সৌন্দর্যের দিকটি ফুটে উঠেছে।

 

ঘ)   ‘উদ্দীপক-i এর আকাঙ্ক্ষা আর ‘জন্মভূমি’ কবিতার কবির আকাঙ্ক্ষা একই’— মন্তব্যটি সত্য। কারণ কবিতায় যেমন দেশের মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত হয়েছে এখানেও তেমনি আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত হয়েছে।

‘জন্মভূমি’ কবিতায় জন্মভূমির প্রতি কবির মমত্ব ও দেশপ্রেমের গভীর আবেগ বিকাশ লাভ করেছে। প্রতিটি মানুষই তার জন্মভূমিকে ভালোবাসে। কবিও এ দেশে জন্মগ্রহণ করে জন্মভূমিকে ভালোবাসতে পেরে তাঁর জীবনের সার্থকতা অনুভব করেছেন। এ অনুভব থেকেই দেশের মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা উদ্ভাসিত হয়েছে।

উদ্দীপক-i এর কবিতাংশে কবি এ দেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছেন। দেশের আহ্বানে তিনি ব্যাকুল হয়েছেন। এ দেশের মাটিতে চিরঘুমে সুখ অনুভব করেছেন। অর্থাৎ তিনি এ দেশকে ভালোবেসে মরতে চান। 

     উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে এ কথা বলা যায়, ‘জন্মভূমি’ কবিতায় কবি জন্মভূমির অপরূপ সৌন্দর্যের ঐশ্বর্যে

     মুগ্ধ হয়ে এ দেশের মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত হওয়ার সুযোগ কামনা করেছেন। তেমনি ‘উদ্দীপক-র এর

     মূলভাবে দেশের মাটিতে গভীর স্বদেশপ্রেমের দিকটি ফুটে উঠেছে। তাই উদ্দীপকে বর্ণিত কবির আকাঙ্ক্ষা

     আর ‘জন্মভূমি’ কবিতার  কবির আকাঙ্ক্ষা একই’—মন্তব্যটি সত্য। আমাদেরও উচিত দেশকে ভালোবাসা।



সাতদিনের সেরা