kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

স্পার্টা

[ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে স্পার্টার উল্লেখ আছে]

৩ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্পার্টা

স্পার্টার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন

স্পার্টা ছিল প্রাচীন গ্রিসের ল্যাকোনিয়ার এক বিশেষ নগররাষ্ট্র। প্রাচীনকালে এই নগররাষ্ট্র ‘লেসডিমন’ নামেই পরিচিত ছিল। ইউরোটাস নদীর তীরে তিন দিক পর্বতশ্রেণি দ্বারা ঘেরা অবস্থানের কারণে প্রাচীনকাল থেকেই স্পার্টানগরীর একটি প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা বিদ্যমান ছিল। একদিকে ছিল টেইগেটাস পাহাড়, যার ওপর দিয়ে লেগদা গিরিপথ হয়ে আগ্রাসী বাহিনী আক্রমণ করতে পারত। এ ক্ষেত্রে তাদের ল্যাকোনিয়া ও পেলোপনেসাস অতিক্রম করতে হতো। কিন্তু এই পথে স্পার্টার সেনাদের কর্তৃত্ব বজায় ছিল সব সময়। এই শহর থেকে নিকটতম সমুদ্র বন্দর তথা জিথিয়াম বন্দরের দূরত্ব ছিল ২৭ কিলোমিটার। এ কারণে শহরটিকে অবরোধ করা ছিল দুঃসাধ্য কাজ।

৬৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের দিকে প্রভাবশালী সামরিক শক্তিতে পরিণত হয় স্পার্টা। গ্রিক-পারস্য যুদ্ধের সময় (৪৯৯-৪৪৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) নিজেদের সামরিক শক্তি বিবেচনায় স্পার্টা ছিল পুরো গ্রিসের সম্মিলিত বাহিনীর প্রধান। 

পারস্য সাম্রাজ্য এবং আরেক গ্রিক নগররাষ্ট্র এথেন্সের বিরুদ্ধে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিজয় লাভের পর স্পার্টা স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের গ্রিসের রক্ষক হিসেবে ঘোষণা করে।

সামরিক বিষয়ে বেশি নজর দেওয়ার জন্য স্পার্টার সামাজিক ব্যবস্থা এবং সাংবিধানিক আইনগুলোও তৈরি করা ছিল সেই দিকে লক্ষ

রেখেই। ফলে স্পার্টার সমস্ত সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো সামরিক প্রশিক্ষণ ও শারীরিক চর্চার দিকে বিশেষ মনোনিবেশ করেছিল। স্পার্টার অধিবাসীদের ‘স্পার্টিয়েট’ (সম্পূর্ণ অধিকারসম্পন্ন নাগরিক), ‘মোথাক’ (অস্পার্টিয়েট মুক্ত মানুষ), ‘পেরিওকোই’ (স্বাধীন অধিবাসী কিন্তু স্পার্টার নাগরিক না) ও ‘হেলোটস’ (রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন দাসত্বহীন অস্পার্টীয় স্থানীয় নাগরিক) হিসেবে ভাগ করা হয়েছিল।

স্পার্টার পুরুষদের সামরিক প্রশিক্ষণে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার জন্য তাদের জীবনের অন্যান্য দায়িত্ব থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে স্পার্টার মেয়েদেরও শিক্ষার সুযোগ দেওয়া হতো। প্রাচীন গ্রিসের অন্যান্য নগররাষ্ট্রের নারীদের চেয়ে বেশি স্বাধীনতা পেত স্পার্টার নারীরা। যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করলেও তাদের শারীরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হতো। এ ছাড়া সুস্থ সন্তান জন্ম দিতে পারলে সামাজিকভাবেও নারীরা সম্মানিত হতো।

৩৭১ খ্রিস্টপূর্বাব্দের লেকট্রার যুদ্ধে পরাজয়ের মধ্যে দিয়ে স্পার্টার আধিপত্যের অবসান ঘটে। তবে স্বাধীন নগররাষ্ট্র হিসেবে ১৪৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছিল তারা। এরপর রোমান সাম্রাজ্যের গ্রিক বিজয়ের পর থেকে ধীরে ধীরে স্পার্টার ক্ষয় শুরু হয়। আধুনিক স্পার্টা এখন দক্ষিণ গ্রিসের ল্যাকোনিয়ার রাজধানী এবং কমলা, লেবু ও জলপাই প্রক্রিয়াকরণের প্রধান কেন্দ্র।     

  ►  রিদওয়ান আক্রাম



সাতদিনের সেরা