kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

বাল্যবিবাহ

[অষ্টম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের নবম অধ্যায়ে বাল্যবিবাহের উল্লেখ আছে]

১ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বাল্যবিবাহ

অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক বিয়েকে বাল্যবিবাহ বলে। ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুকাল। তাই ১৮ বছর বয়সের আগে বিয়ে হলে তাকে শিশু বিবাহ বা বাল্যবিবাহ বলে। বাংলাদেশের বিয়ের আইনে পুরুষদের বয়স ন্যূনতম ২১ বছর এবং নারীদের বয়স ১৮ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ উভয়ের মধ্যে যেকোনো একজনের বয়স এর নিচে হলে তা আইনবিরুদ্ধ হবে এবং তাদের বিয়ে বাল্যবিবাহ বলে গণ্য করা হবে।

বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ একটি মারাত্মক সমস্যা। অশিক্ষা, দারিদ্র্য, নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক নানা কুসংস্কারের কারণে বাল্যবিবাহ হয়ে আসছে। ইউনিসেফের শিশু ও নারী বিষয়ক প্রতিবেদন ২০১৮ অনুসারে বাংলাদেশের ৫০ শতাংশ নারীর বিয়ে হয় ১৮ বছরের আগে। ঐতিহাসিকভাবে বিশ্বব্যাপী বাল্যবিবাহ একটি প্রচলিত প্রথা ছিল। এই প্রথা প্রশ্নবিদ্ধ হয় বিংশ শতাব্দীর দিকে। ফলে বিভিন্ন দেশে বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স বৃদ্ধি পায়। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ (৬ নং আইন) অনুসারে বাল্যবিবাহকারী ও বাল্যবিবাহ অনুষ্ঠান পরিকল্পনাকারীদের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের ব্যবস্থা আছে।

বাল্যবিবাহ কিশোরী মেয়েদের সহজাত উচ্ছ্বাস, বৃদ্ধি ও গতিশীলতাকে থামিয়ে দেয়। প্রচলিত শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকার কারণে পরিবার পরিকল্পনা সংক্রান্ত জ্ঞানের অভাব থাকে। এর ফলে অধিক সন্তান গ্রহণের প্রবণতা তৈরি হয়। কৈশোরকালে গর্ভধারণের ফলে মেয়েরা অপুষ্টিতে ভোগে এবং গর্ভকালে বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হয়। অপ্রাপ্ত বয়সে সন্তান প্রসবের কারণে মা ও শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

এ কারণে বাল্যবিয়ের অভিশাপ থেকে রক্ষা পেতে সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার পাশাপাশি বাল্যবিবাহবিরোধী পদক্ষেপের সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। বাল্যবিবাহ বন্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা উচিত। সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বাল্যবিবাহকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল



সাতদিনের সেরা