kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

অ নু ধা ব ন মূ ল ক প্র শ্ন

এসএসসি প্রস্তুতি : পদার্থবিজ্ঞান

আবু জাফর সৈকত, সহকারী শিক্ষক, হাজী সিরাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়, নারায়ণগঞ্জ

২৯ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



এসএসসি প্রস্তুতি : পদার্থবিজ্ঞান

দ্বিতীয় অধ্যায়

গতি

 

১।   বেগের পরিবর্তন না হলে ত্বরণ থাকে না—ব্যাখ্যা করো।

     উত্তর : ত্বরণের সংজ্ঞা থেকে আমরা জানি, সময়ের সঙ্গে বস্তুর অসম বেগের পরিবর্তনের হারকে ত্বরণ বলে। যদি বেগের পরিবর্তন না থাকে অর্থাৎ বেগের পরিবর্তন শূন্য (০) হয়, তবে বেগের পরি-বর্তনের হারও শূন্য (০) হবে। ফলে সে ক্ষেত্রে ত্বরণ আর থাকে না।

 

২।   পৃথিবীর কেন্দ্রের বস্তুর ওজন শূন্য কেন?

     উত্তর : গাণিতিক হিসাব থেকে দেখা যায়, ভূপৃষ্ঠ থেকে যত নিচে যাওয়া যায়, অভিকর্ষজ ত্বরণের মান ততই কমতে থাকে। এর ফলে পৃথিবীর যত অভ্যন্তরে যাওয়া যায় বস্তুর ওজন তত কমতে থাকে। পৃথিবীর কেন্দ্রের অভিকর্ষজ ত্বরণের মান শূন্য (০)। সুতরাং পৃথিবীর কেন্দ্রে কোনো বস্তুর ওপর পৃথিবীর কোনো আকর্ষণ থাকবে না অর্থাৎ ওজন শূন্য (০) হবে।

     উত্তর : কোনো গতিশীল বস্তুকণার গতি যদি এমন হয়, যে এটি এর গতি পথে কোনো নির্দিষ্ট বিন্দুকে নির্দিষ্ট সময় পর পর একই দিক থেকে অতিক্রম করে তাহলে সেই গতিকে পর্যাবৃত্ত গতি বলে।

 

৩।   সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর গতি কী ধরনের গতি? ব্যাখ্যা করো।

     উত্তর : কোনো গতিশীল বস্তুকণার গতি এমন হয় যে, এটি এর গতি পথে কোনো নির্দিষ্ট বিন্দুকে নির্দিষ্ট সময় পর পর একই দিক থেকে অতিক্রম করে, তাহলে সেই গতিকে পর্যাবৃত্ত গতি বলে। সূর্যের চার দিকে পৃথিবী কোনো নির্দিষ্ট বিন্দুকে নির্দিষ্ট সময় (পৃথিবীর বার্ষিক গতির সমান অর্থাৎ ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টা) পর পর একই দিক থেকে অতিক্রম করে। সুতরাং সূর্যের চার দিকে পৃথিবীর গতি পর্যাবৃত্ত গতি।

৪।   সরল দোলকের গতি স্পন্দন গতি কেন?

     উত্তর : পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন কোনো বস্তু যদি পর্যায়কালের অর্ধেক সময় কোনো নির্দিষ্ট দিকে এবং বাকি সময় একই পথে তার বিপরীত দিকে চলে, তবে এর গতিকে স্পন্দন গতি বলে। সরল দোলকের গতির ক্ষেত্রে দোলকের পর্যায়কালের অর্ধেক সময় যেদিকে চলে, বাকি অর্ধেক

 

    

     সময় তার বিপরীত দিকে চলে। তাই সরল দোলকের গতি স্পন্দন গতি।

 

৫।   তাত্ক্ষণিক দ্রুতি বলতে কী বোঝো? ব্যাখ্যা করো।

     উত্তর : সময়ের ব্যবধান খুব অল্প হলে গতিশীল কোনো বস্তুর অবস্থান পরিবর্তনের হারই ওই মুহূর্তের তাত্ক্ষণিক দ্রুতি।

     অতি ক্ষুদ্র সময় ব্যবধান △t  তে যদি বস্তুর দূরত্বের পরিবর্তন △d  হয়, তাহলে তাত্ক্ষণিক দ্রুতি, V = △d/ △t এখানে △ (delta) প্রতীক দ্বারা △ এর পরে স্থাপিত রাশিটির পরিবর্তন নির্দেশ করে।

 

৬।   বেগ ও দ্রুতির মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।

     উত্তর : বেগ ও দ্রুতির মধ্যে দুটি পার্থক্য নিম্নরূপ :

৭।   ভূ-পৃষ্ঠের অভিকর্ষজ ত্বরণের মান ৯.৮সং-২ বলতে কী বোঝো?

     উত্তর :

     অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে, যা সুষম ত্বরণের একটি উত্কৃষ্ট প্রাকৃতিক উদাহরণ। ভূ-পৃষ্ঠে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান ৯.৮সং-২ বলতে বুঝায়, ভূ-পৃষ্ঠে মুক্তভাবে পড়ন্ত যেকোনো বস্তুর ত্বরণ হয় ৯.৮সং-২ অর্থাৎ বস্তুটি যখন ভূ-পৃষ্ঠের দিকে আসতে থাকে তখন এর বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৯.৮সং-১ করে বাড়তে থাকে।

 

৮।

চলন্ত বাস ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে কেন?

উত্তর : বাস যখন চলন্ত অবস্থায় থাকে, তখন বাসের যাত্রীরাও বাসের সঙ্গে একই গতিপ্রাপ্ত হয়। বাস হঠাৎ থেমে গেলে বাসের সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীর শরীরের নিচের অংশ স্থির হয়। কিন্তু বাসযাত্রীর শরীরের ওপরের অংশ গতি জড়তার জন্য সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

 

৯।   ভর ও ওজন একই রাশি নয়—ব্যাখ্যা করো।

     উত্তর : ভর স্কেলার রাশি কিন্তু ওজন ভেক্টর রাশি। কোনো বস্তুতে বিদ্যমান মোট পদার্থের পরিমাণই তার ভর। অন্যদিকে কোনো বস্তুকে পৃথিবী যে বলে আকর্ষণ করে তাকে ওজন বলে। অর্থাৎ ভর পরিমাণ নির্দেশ করে এবং ওজন বল নির্দেশ করায় এ দুটি রাশি একই নয়। আবার ভরের কোনো দিক নেই। কিন্তু ওজনের নির্দিষ্ট দিক থাকায় এ দুটি একই জাতীয় রাশি নয়।

 

১০।  সব স্থিতিই আপেক্ষিক স্থিতি—ব্যাখ্যা করো।

     উত্তর : কোনো বস্তুর সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে যদি অবস্থানের পরিবর্তন না হয় তাহলে বস্তুর সেই অবস্থাকে স্থিতি বলে। এই স্থিতি আমরা অপর কোনো প্রসঙ্গ কাঠামো বা বস্তুর সাপেক্ষে বিবেচনা করি। কিন্তু পৃথিবী, গ্রহ, উপগ্রহ সর্বদা গতিশীল। তাই এই মহাবিশ্বে প্রকৃত কোনো স্থির প্রসঙ্গ কাঠামো পাওয়া সম্ভব নয়। এ কারণে মহাবিশ্বের যেকোনো বস্তুর সাপেক্ষেই বিবেচনা হোক না কেন তা পরম স্থির নয়। তাই সব স্থিতিই আপেক্ষিক স্থিতি।



সাতদিনের সেরা