kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

গঙ্গারিডাই

[নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের চতুর্থ অধ্যায়ে গঙ্গারিডাইয়ের উল্লেখ আছে]

২৬ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গঙ্গারিডাই

ছবি : টলেমির মানচিত্রে গঙ্গারিডাই

প্রথম খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে দ্বিতীয় খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে গ্রিক ও লাতিন ভাষার বিভিন্ন লেখায় ‘গঙ্গারিডাই’ একটি জনগোষ্ঠী ও একটি দেশের নাম হিসেবে উল্লিখিত। ক্লাসিক্যাল (অষ্টম খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ষষ্ঠ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত) লেখকদের বর্ণনায় ‘গঙ্গারিডাই’ এবং এর রূপভেদে ‘গঙ্গারিডেই’, ‘গঙ্গারিদুম’ ও ‘গঙ্গারাইডেস’ শব্দগুলো পাওয়া যায়।

গঙ্গারিডাই, গঙ্গারিডেই ও গঙ্গারিদুম শব্দরূপের উৎপত্তি ‘গঙ্গারিড’ থেকে। ধারণা করা হয়, গঙ্গারিড হলো ভারতীয় ‘গঙ্গাহূদ’ শব্দের গ্রিক রূপ। এর অর্থ ‘যে ভূমির বক্ষে গঙ্গা প্রবাহিত’ (গঙ্গাহূদ> গঙ্গারিদ> গঙ্গারিডাই, গঙ্গারিডের বহুবচনার্থে), যা ‘পেরিপ্লাস’ গ্রন্থের লেখক নাম না জানা এক গ্রিক নাবিকের বর্ণনা করা গাঙ্গেয় দেশের সঙ্গে বেশ মিলে যায়।

গ্রিক বীর আলেকজান্ডার ও তাঁর সৈন্য বাহিনীর মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী গ্রিক ঐতিহাসিক ডিওডোরাস (৯০-৩০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) সিন্ধু-পরবর্তী দেশ সম্পর্কে লিখতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন, গঙ্গা পেরিয়ে যে অঞ্চল সেখানে ‘প্রাসিয়ই’ ও ‘গঙ্গারিডাই’দের আধিপত্য। গঙ্গা পেরিয়ে পরবর্তী তীর অঞ্চলটিতে দুটি জনগোষ্ঠী—‘গঙ্গারিডাই’ ও ‘ফারিসি’দের বসবাসের কথা বলেছেন প্রথম শতাব্দীর রোমান ঐতিহাসিক কুইনটাস কারটিয়াস রুফাস। ভূগোলবিদ স্ট্রাবোর (৬৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দ-২১ খ্রিস্টাব্দ) তথ্যানুযায়ী গঙ্গা ‘গঙ্গারিডেই’-এর ওপর দিয়েই প্রবাহিত হয়েছে। প্রাচীন রোমান লেখক প্লিনি (খ্রিস্টীয় প্রথম শতক) লিখেছেন যে গঙ্গার শেষ অংশ ‘গঙ্গারাইডেস’-এর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। প্রাচীন রোমান কবি ভার্জিল (৩০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) অবস্থানের কোনো ইঙ্গিত না দিয়েই গঙ্গারিডাইয়ের উল্লেখ করেছেন।

তবে গ্রিক গণিতবিদ, ভূগোলবিদ, জ্যোতির্বিদ  টলেমি (দ্বিতীয় খ্রিস্টাব্দ) গঙ্গারিডাইয়ের অবস্থান সম্পর্কে কিছুটা বিশদ বিবরণ দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, গঙ্গার পাঁচটি মুখসংলগ্ন প্রায় সব এলাকা গঙ্গারিডাইরা দখল করে রেখেছিল আর ‘গাঙ্গে’ নগর ছিল এটির রাজধানী। যদিও টলেমি গঙ্গার পাঁচটি মুখের অবস্থানের অক্ষ, দ্রাঘিমাসহ নাম উল্লেখ করেছেন, তবু সেগুলো সঠিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি মাপ নির্ভুল না হওয়ার কারণে। তাঁর বর্ণনাকৃত চারটি দ্রাঘিমা ডিগ্রি সমুদ্র-উপকূলের সর্বপশ্চিম থেকে সর্বপূর্বের নদীমুখ পর্যন্ত অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করছে। কার্যত এর অর্থ হলো ‘গঙ্গারিডাই’ বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী গঙ্গার সর্বপশ্চিম ও সর্বপূর্বের নদীমুখ পর্যন্ত অঞ্চলে বিস্তৃত ছিল।

ধারণা করা হয়, টলেমির ‘গঙ্গারিডাই’ ও ‘পেরিপ্লাস’ গ্রন্থের লেখকের ‘গাঙ্গে দেশ’ বঙ্গোপসাগর উপকূলে অবস্থিত একই এলাকাকে ইঙ্গিত করছে।

সংস্কৃত কবি ও নাট্যকার কালিদাসের কাব্যগ্রন্থ ‘রঘুবংশ’-এ বঙ্গের যে বিবরণ পাওয়া যায় তা-ও অভিন্ন অর্থেরই কথা বলে। তাই প্রাচীন বাংলার বঙ্গ জনপদকে গ্রিক ও লাতিন লেখকদের ‘গঙ্গারিডাই’-এর সমতুল্য গণ্য করা যেতে পারে।      

  ►  রিদওয়ান আক্রাম



সাতদিনের সেরা