kalerkantho

শনিবার । ৯ মাঘ ১৪২৭। ২৩ জানুয়ারি ২০২১। ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

অ্যা সা ই ন মে ন্ট - ২

অষ্টম শ্রেণি । বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

আফরোজা বেগম, সহকারী শিক্ষক, ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল খিলগাঁও, ঢাকা

২ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



অষ্টম শ্রেণি । বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

কভিড-১৯ এর কারণে রনির স্কুলের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সেটি কভিড কেন্দ্র  হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। গত সপ্তাহে রনিদের পাশের বাড়িতে একজন কভিড-১৯ পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়। পাড়া-প্রতিবেশীরা সবাই তাদের বাড়ির সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় পরিবারটি চরম অসহায় অবস্থায় পড়ে। এলাকার স্বেচ্ছাসেবীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীরে এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের এই দুর্ভোগ লাঘব করেন।

ক) সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ বলতে কী বোঝায়?

খ) সামাজিক পরিবর্তনের দুটি উদাহরণ দাও।

গ) রনিদের এলাকার মতো পরিস্থিতিতে তোমার এলাকায় কভিড আক্রান্তদের জন্য বিদ্যালয়ের বন্ধুরা মিলে কী ধরনের স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগ নেওয়া যায় তার একটি তালিকা প্রণয়ন করো।

ঘ) উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আমাদের সামাজিকীকরণে কী ধরনের প্রভাব বিস্তার করছে তা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

ক) সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ এমন একটি প্রক্রিয়া—যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠী অন্যের সংস্কৃতি আয়ত্ত করে।

খ) সামাজিক পরিবর্তন বলতে সমাজকাঠামো ও এর কার্যাবলির পরিবর্তনকে বোঝায়। সামাজিক পরিবর্তনের দুটি উদাহরণ হিসেবে শিক্ষা ও যোগাযোগকে বিবেচনায় আনা যায়।

সামাজিক পরিবর্তনের একটি বিশেষ উপাদান হলো শিক্ষা। শিক্ষা হলো এক ধরনের সংস্কার সাধন ও বিরামহীন প্রক্রিয়া। সমাজের সদস্যদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার আত্মবিশ্বাস ও বিচার বিবেচনার ক্ষমতা জাগ্রত করে। শিক্ষা যাবতীয় অন্ধত্ব, কুসংস্কার প্রভৃৃতি থেকে মুক্তি দেয়। অপর দিকে যোগাযোগ হচ্ছে সামাজিক পরিবর্তনের এমন একটি উপাদান—যে দেশে যোগাযোগ মাধ্যম যত উন্নত, সে দেশের অর্থনীতিও তত উন্নত। যোগাযোগ সামাজিক পরিবর্তনের একটি অন্যতম উপাদান। জল, স্থল ও আকাশ পথে যোগাযোগ, টেলিফোন, ফ্যাক্স, ইন্টারনেট, ই-মেইল, ডিশ অ্যান্টেনা, মোবাইল ফোন, রেডিও, টেলিভিশন, বিভিন্ন পত্রপত্রিকা প্রভৃতি সামাজিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে।

গ) রনিদের এলাকার মতো পরিস্থিতিতে আমার এলাকায় বিদ্যালয়ের বন্ধুরা মিলে আমরা বিভিন্ন ধরনের স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগ নিতে পারি।

মানুষ সমাজে মিলেমিশে বাস করে। এভাবে বাস করতে গিয়ে সে নিজের প্রয়োজনে নানা কিছু সৃষ্টি করে। মানুষের সৃষ্টিশীল সব কাজই তার সংস্কৃতি। সমাজ ও অঞ্চল ভেদে সংস্কৃতির রূপ ভিন্ন হয়ে থাকে। বাংলাদেশের মানুষ ও সমাজের রয়েছে নিজস্ব সংস্কৃতি। এ দেশের সংস্কৃতি কিন্তু এক জায়গায় থেমে নেই। পরিবেশ-পরিস্থিতি ও যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে আমাদের সংস্কৃতিরও পরিবর্তন ঘটছে। সংস্কৃতির ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত বা ইতিবাচক পরিবর্তনই উন্নয়ন। যখন সমাজে কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তখন সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সে সমস্যার সমাধান করাটাও ইতিবাচক পরিবর্তনেরই অংশ।

উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে, রনির স্কুলের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে কভিড-১৯-এর কারণে এবং স্কুলটি কভিড কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। গত সপ্তাহে রনিদের পাশের বাড়িতে একজন কভিড পজিটিভ রোগী শনাক্ত হলে পাড়া-প্রতিবেশীরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে পরিবারটি অসহায় পরিস্থিতিতে পড়ে। তখন এলাকার স্বেচ্ছাসেবীরা সশরীরে এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের দুর্ভোগ লাঘব করেন। আমার এলাকায় যদি এ ধরনের পরিস্থিতির উদ্ভব হয়, তখন এলাকার কভিড-১৯ আক্রান্তদের জন্য আমি বিদ্যালয়ের বন্ধুদের নিয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবামূলক সংগঠন গড়ে তুলতে পারি। যেহেতু এই সময়ে যথাসম্ভব বাড়ির ভেতরেই অবস্থান করতে হবে, তাই এই কাজটি আমি বন্ধুদের নিয়ে একটি গ্রুপ তৈরি করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সহজেই করতে পারি। কোনো বাসায় কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হলে অথবা কভিড-১৯-এর কোনো উপসর্গ দেখা দিলে আমরা তা স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে জানাতে পারি। বিশেষ প্রয়োজনে অ্যাম্বুল্যান্স কল করতে পারি। রোগী শনাক্ত হয়েছে এমন বাড়িতে প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারি। দরিদ্র পরিবারগুলোর আর্থিক সাহায্যের জন্য আমরা একটা ফান্ড তৈরি করতে পারি। এই পরিস্থিতিতে দেখা গেছে নিম্নবিত্ত অনেক মানুষের কাজ চলে গেছে। আর্থিক সহায়তার জন্য ফান্ড থেকে আমরা তাদের সামান্য কিছু হলেও সাহায্য করতে পারি। এ ছাড়া কভিড-১৯ আক্রান্ত দরিদ্র ব্যক্তিদের চিকিৎসার দায়িত্ব আমরা বন্ধুরা মিলে ভাগ করে নিতে পারি। এলাকার আশপাশে সাবান ও পানির ব্যবস্থা করে দিতে পারি, এলাকার ভেতরে প্রবেশকারী ব্যক্তিদের হাত ধোয়ার জন্য। এভাবে আমি আমার বিদ্যালয়ের বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে এলাকায় কভিড আক্রান্তদের জন্য স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারি।

ঘ) উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আমাদের সামাজিকীকরণে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই ধরনের প্রভাবই বিস্তার করছে।

সামাজিকীকরণ মানুষের জীবনব্যাপী একটি চলমান প্রক্রিয়া। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি সমাজজীবনের কাঙ্ক্ষিত আচরণ উপযোগী হয়ে গড়ে ওঠে। এ প্রক্রিয়ায় সমাজের নিয়ম-নীতি, মূল্যবোধ, বিশ্বাস, আদর্শ ইত্যাদি আয়ত্ত করে ব্যক্তি যেমন নিজের উন্নয়ন ঘটায়, তেমনি সমাজ উন্নয়নেও অংশগ্রহণ করে। ব্যক্তির সুষ্ঠু বিকাশের জন্য সামাজিকীকরণ প্রয়োজন। জন্মের পর থেকেই মানব শিশু সমাজের নিয়ম-কানুন ও রীতিনীতি শিখতে থাকে। একেই বলা যায় তার সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া। সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ভূমিকা অনেক বেশি। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বলতে বোঝায় সেই প্রযুক্তি, যার সাহায্যে তথ্য সংরক্ষণ ও তা ব্যবহার করা যায়।

উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে, রনির স্কুলের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে কভিড-১৯-এর কারণে এবং স্কুলটি কভিড কেন্দ্র  হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। গত সপ্তাহে রনিদের পাশের বাড়িতে একজন কভিড পজিটিভ রোগী শনাক্ত হলে পাড়া-প্রতিবেশীরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় এবং এর ফলে পরিবারটি অসহায় পরিস্থিতিতে পড়ে। তখন এলাকার স্বেচ্ছাসেবীরা সশরীরে এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের দুর্ভোগ লাঘব করেন। উদ্দীপকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ইতিবাচক একটি ভূমিকা দেখা যাচ্ছে। তবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি নেতিবাচক দিকও বিদ্যমান।

সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বলতে সেই প্রযুক্তিকে বোঝায়, যার সাহায্যে তথ্য সংরক্ষণ ও তা ব্যবহার করা যায়। যেমন—ইন্টারনেট, মোবাইল ইত্যাদি। ইন্টারনেট প্রযুক্তি বর্তমানে দেশ বা দেশের বাইরে একজনের সঙ্গে অন্যজনের যোগাযোগকে খুবই সহজ করে দিয়েছে। আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ভাব বিনিময়, পরস্পরের খোঁজখবর নেওয়া কিংবা ব্যাবসায়িক প্রতিপক্ষের সঙ্গে পণ্য বিনিময়সংক্রান্ত আলোচনা, চুক্তি ইত্যাদি এখন ঘরে বসে অল্প সময়েই করা যায়। কিছুদিন আগেও যা ভাবা যেত না। কভিড-১৯-এর কারণে এখন বেশির ভাগ কাজই অনলাইনভিত্তিক হয়ে গেছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে এখন বিদ্যালয়গুলো তাদের পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীরা তাদের পড়ালেখা চালিয়ে নিতে পারছে প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এর ফলে পড়ালেখায় একটি ধারাবাহিকতা বজায় থাকছে। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদত্ত অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করে বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দিচ্ছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করার ক্ষেত্রে নির্দেশনা দেন এবং সে অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা তা তৈরি করে বিদ্যালয়ে পাঠায়। প্রতিটি কাজ প্রযুক্তির মাধ্যমে সহজতর হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির এই ভালো দিকগুলোর পাশাপাশি একটি খারাপ প্রভাবও পড়ছে। শিক্ষাসংক্রান্ত প্রতিটি কাজ এখন প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় শিক্ষার্থীরা অতি মাত্রায় প্রযুক্তির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। যেহেতু কাজগুলো মোবাইল বা ল্যাপটপে ইন্টারনেট সংযুক্ত করে করা হচ্ছে, ফলে দেখা যাচ্ছে অনেকেই পড়ার ফাঁকে ফেসবুক, টুইটারে বেশি সময় দিচ্ছে। ইন্টারনেট, ফেসবুক ও টুইটারেরও কিছু মন্দ বা নেতিবাচক দিক আছে। মানুষের হাতে এগুলোর অপব্যবহার ব্যক্তি ও সমাজ দুইয়ের জন্যই মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। আজকাল প্রায়ই তরুণসমাজের ওপর ইন্টারনেট ও ফেসবুকের নেতিবাচক প্রভাবের কথা শোনা যায়। এ বিষয়ে আমাদের সচেতন থাকতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা