kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ মাঘ ১৪২৭। ২৮ জানুয়ারি ২০২১। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ম্যাগমা

[ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের দ্বাদশ অধ্যায়ে ‘ম্যাগমা’র কথা উল্লেখ আছে]

২৪ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ম্যাগমা

পৃথিবীর উপরিতলের নিচে প্রাপ্ত গলিত বা অর্ধগলিত শিলাই ম্যাগমা। পৃথিবীর উপরিতলকে বলা হয় ভূত্বক। সাধারণত মহাদেশীয় ভূত্বকের উপরিতল থেকে প্রায় চার কিলোমিটার গভীরে প্রোথিত শিলার তাপমাত্রা প্রায় ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়ে থাকে। ৩৫ কিলোমিটার গভীরে এই তাপমাত্রা দাঁড়ায় ৫০০-৬০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ অবস্থায় শিলা অর্ধগলিত দশায় থাকে। ১০০-১৫০ কিলোমিটার গভীরে তাপমাত্রা থাকে ১২০০-১৩০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। এই তাপমাত্রায় শিলা তরল থাকে। মূলত ভূত্বকের নিচের এই তরল শিলাকেই বলা হয় ম্যাগমা। অগ্ন্যুৎপাতের ফলে আগ্নেয়গিরি থেকে অনেক সময় ম্যাগমার প্রবাহ ভূত্বকের ওপরে উঠে আসে। ম্যাগমার এই স্রোতধারাকে লাভা বলা হয়।

ভূত্বকের গভীর থেকে যখন ম্যাগমা ভূত্বকের ওপরের দিকে উঠে আসে, তখন এর তাপমাত্রা থাকে ১১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই সময় ভূত্বকের নিচের দিকে থাকে অর্ধ গলিত বা প্রায় তরল শিলা। এদের তাপমাত্রা ৬৫০ থেকে ৮০০ ডিগ্রির ভেতরে থাকে। যখন ১১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার গলিত শিলা ওপরে দিকে উঠতে থাকে, তখন উত্থানের পথের চারপাশের শিলার তাপমাত্রা বেড়ে যায়। ফলে উত্থিত গলিত শিলার সঙ্গে আশপাশের শিলাও গলিত দশায় চলে আসে। উভয় গলিত শিলা যখন ভূত্বকের উপরিতলে বেরিয়ে আসে, তখন প্রবল লাভাস্রোতে পরিণত হয়। ম্যাগমার অন্যতম উপকরণ হলো সিলিকন ও অক্সিজেন। এ দুটি মৌলিক পদার্থ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সিলিকন ডাই-অক্সাইড (SO2) গঠন করে। এর সঙ্গে থাকে অ্যালুমিনিয়াম, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, পটাসিয়াম, লৌহ ও ম্যাগনেশিয়ামের আয়ন। এ ছাড়া সামান্য পরিমাণে থাকে ফ্লোরিন ও ক্লোরিন।

সিলিকার উপস্থিতি ও গাঠনিক উপকরণের বিচারে ম্যাগমাকে সিলিসিক ম্যাগমা, মাধ্যমিক ম্যাগমা, ম্যাফিক ম্যাগমা ও আল্ট্রাম্যাফিক ম্যাগমা—প্রধান এই চারটি ভাগে ভাগ করা হয়। এই ম্যাগমাগুলোতে যথাক্রমে প্রায় ৭০, ৫৫, ৫০ ও ৪৫ শতাংশ সিলিকা থাকে।

পিন্টু রঞ্জন অর্ক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা