kalerkantho

শুক্রবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৭ নভেম্বর ২০২০। ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

কাঁকরোল

[নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের পঞ্চম অধ্যায়ে ‘কাঁকরোল’-এর কথা উল্লেখ আছে]

২৩ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কাঁকরোল একটি গ্রীষ্মকালীন জনপ্রিয় সবজি। এর বৈজ্ঞানিক নাম Momordica  dioica। এতে ক্যালসিয়াম, লৌহ, ফসফরাস, ক্যারোটিন, আমিষ, ভিটামিন ‘বি’, শ্বেতসার ও খনিজ পদার্থ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রয়েছে। বাংলাদেশে কুমড়ো পরিবারের যত সবজি আছে তার মধ্যে কাঁকরোলের বাজারদর ও চাহিদা বেশি। এটি ছোট গোল কাঁঠালের মতো দেখতে; কিন্তু আকারে কাঁঠালের চেয়ে অনেক ছোট। কাঁচা অবস্থায় সবুজ ও পাকলে হলুদ-সবুজ হয়। লতানো গাছের বৈশিষ্ট্যের অধিকারী কাঁকরোলের স্ত্রী ফুল ও পুরুষ ফুল একই গাছে হয় না। তাই পরাগায়ণের জন্য স্ত্রী কাঁকরোলগাছের পাশাপাশি পুরুষ গাছও রোপণ করতে হয়।

কাঁকরোল মার্চ ও এপ্রিলে চাষ করা যায়। এ সবজি চাষে জমির মাটি ঝুরঝুরা করে নিতে হয়। জমির উপরিভাগ সমান এবং নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করতে হয়। কাঁকরোলের মোথা রোপণের সময় নির্বাচিত মোথার শতকরা পাঁচ ভাগ পুরুষ গাছের মোথা হতে হবে। রোগ ও পোকার আক্রমণ দেখা দিলে দমনের ব্যবস্থা নিতে হবে। কাঁকরোলগাছ ১০-১৫ সেন্টিমিটার লম্বা হলে গাছের গোড়ায় একটি করে কাঠি পুঁতে দিতে হবে। গাছ ৫০ সেন্টিমিটার লম্বা হলে মাচা করে দিতে হবে। কাঁকরোলের যেসব রোগ দেখা যায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে চারার ঢলে পড়া, পাউডারি মিলডিউ ও মোজাইক রোগ। চারার ঢলে পড়া ও পাউডারি মিলডিউ রোগ দুটি ছত্রাকজনিত এবং মোজাইক রোগ ভাইরাসজনিত।

কাঁকরোল পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ সবজি। বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁকরোলে টমেটোর চেয়ে ৭০ গুণ বেশি লাইকোপিন থাকে, গাজরের চেয়ে ২০ গুণ বেশি বিটা ক্যারোটিন থাকে, কমলার চেয়ে ৪০ গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’ থাকে এবং ভুট্টার চেয়ে ৪০ গুণ বেশি জিয়াজেন্থিন থাকে।

কাঁকরোল ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগ  থেকে রক্ষা করে। গবেষণায় জানা যায়, কাঁকরোলের পুষ্টি উপাদানগুলো ক্যান্সার প্রতিরোধে বিশেষভাবে সাহায্য করে থাকে। এ ছাড়া এই সবজি শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়, দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়, তারুণ্য ধরে রাখে, অ্যানিমিয়া ও বিষণ্নতা প্রতিহত করে।            

►  ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা