kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

কামার

[সপ্তম শ্রেণির বাংলা আনন্দপাঠ বইয়ের ‘তোতাকাহিনী’ গল্পে কামারের কথা উল্লেখ আছে]

২৬ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কামার

কামাররা পেশাগতভাবে গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার্য লৌহজাত সামগ্রী তৈরি করে। কামারের কর্মস্থলকে বলে কামারশালা। কামারশালায় হাপর দিয়ে কয়লার আগুনকে উসকে রাখা হয়। এই আগুনে লোহা গরম করে তাকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকারের জিনিস  তৈরি করা হয়। গ্রামের বাজারে অথবা নির্দিষ্ট পাড়ায় কামারপাড়া থাকতো। লোহার কারিগরদের লোহা দিয়ে নানা দ্রব্যসামগ্রী বানানো, লোহা পেটানোর কর্কশ শব্দ, পোড়া গন্ধ, পোড়া লোহা থেকে বিচ্ছুরিত আগুনের স্ফুলিঙ্গই কামারপাড়ার সাধারণ দৃশ্য। কামাররা এখন শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে। ঐতিহ্যবাহী কৃষিকাজ, সেচকাজ ও গৃহায়ণের সঙ্গে কামারদের অস্তিত্ব সরাসরি সম্পৃক্ত। আগেকার দিনে বেশির ভাগ ঘরবাড়ি ও কৃষি যন্ত্রপাতি কামারদের দ্বারা তৈরি হতো। তাদের প্রস্তুতকৃত সামগ্রীর মধ্যে দা, কোদাল, কুড়াল, শাবল, বঁটি, পেরেক, ছুরি, চিমটি, হাতা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। কৃষিকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির মধ্যে আছে লাঙলের ফলা, কাস্তে, নিড়ানি, বেদে কাটি, খুন্তি ইত্যাদি। কামাররা কাঠমিস্ত্রিদের ব্যবহার্য যেসব যন্ত্রপাতি তৈরি করে সেগুলো হচ্ছে করাত, বাইস, বাটালি, রান্দা, হাতুড়ি ইত্যাদি। দূর অতীতে কৃষিকাজ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বঙ্গভূমিতে কামার পেশার উৎপত্তি ঘটে। হিন্দু সমাজের শূদ্র সম্প্রদায়ের মধ্যে লোহার কারিগর তথা কর্মকার শ্রেণির আবির্ভাব ঘটে। প্রচলিত লোককাহিনী মতে, কোনো এক শূদ্র মহিলার সঙ্গে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার প্রণয় থেকে কর্মকার বা কামারের জন্ম হয়। গবেষক এইচ এইচ রিসলের মতে, পূর্ববাংলায় কামারদের তিনটি সামাজিক শ্রেণি হচ্ছে—বুষ্ণপতি, ঢাকাই ও পশ্চিমা। বুষ্ণপতিরা আবার তিন ভাগে বিভক্ত, যথা—নালদিপতি, চৌদ্দসমাজ ও পঞ্চসমাজ। এদের নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনে কোনো বাধা নেই। বাংলাদেশের বেশির ভাগ কামারই বৈষ্ণব। অল্পসংখ্যক কামার শাক্ত ধর্মাবলম্বী। তাদের প্রিয় দেবতা বিশ্বকর্মা, যাকে ভাদ্র মাসের শেষ দিনে মিষ্টান্ন, চিড়া, গুড়, ফুল-ফল, চন্দনের রস বা বাটা, গঙ্গাজল, কাপড় ও রৌপ্যালঙ্কার দিয়ে পূজা-অর্চনা করা হয়। কামাররা তাদের উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী নিয়ে গ্রামের মেলায় অংশগ্রহণ করে। বর্তমানে এ পেশায় অনেক মুসলমানকেও দেখা যায়।

পিন্টু রঞ্জন অর্ক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা