kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

তামাক

[পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের চতুর্থ অধ্যায়ে তামাকের কথা উল্লেখ আছে]

২৫ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তামাক

তামাক Solanaceae গোত্রের বড় পাতাবিশিষ্ট উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Nicotiana tabacum। তামাকগাছের শুকানো পাতাকে সাধারণত আমরা তামাক হিসেবে চিনি। তামাকগাছ ১২-১৮ ইঞ্চি লম্বা হয়। তামাক অত্যন্ত নেশাদায়ক পদার্থ। তামাকগাছের আদি নিবাস উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায়। এর শুকানো পাতা সাধারণত সিগারেট, বিড়ি, হুঁকা, পান খাওয়ার জর্দায় ও নস্যি হিসেবে গুলে ব্যবহৃত হয়।

তামাকের ইংরেজি ‘Tobacco’ এসেছে স্প্যানিশ ‘tabaco’ শব্দ থেকে। ১৫০৮ সালে পর্তুগিজরা ভারতে তামাক নিয়ে আসে। তবে তা ছিল সাধারণ তামাকের আরেকটি ঘনিষ্ঠ প্রজাতি নিকোটিন তামাক (Nicotiana rustica)। সম্ভবত এটি ছিল প্রাক-কলম্বীয় যুগে মেক্সিকোয় প্রথম চাষকৃত আদি তামাক। সাধারণ তামাকের (ভার্জিনিয়া জাত) প্রবর্তনের আগে এটিই ছিল বিভিন্ন দেশে ব্যাপকভাবে চাষকৃত তামাক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভার্জিনিয়া তামাক ভারতে আসে ১৯২০ সালে। নিকোটিন তামাক সাধারণ তামাকের তুলনায় ৪ থেকে ১০ শতাংশ বেশি নিকোটিনসমৃদ্ধ।

তামাকের চাষ প্রায় সব ধরনের জমিতেই করা যায়। যেসব এলাকার গড় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মতো, সেসব অঞ্চলে এ গাছ ভালো জন্মে। বাংলাদেশে তামাক রবিশস্য হিসেবে চাষ করা হয় প্রায় ৭৩ হাজার ৫৩৫ একর জমিতে। বছরে গড়ে প্রায় ৩৮ হাজার মেট্রিক টন তামাক উৎপন্ন হয়।

বাংলাদেশের তামাক উৎপাদনকারী প্রধান প্রধান জেলা হচ্ছে—রংপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম ও পটুয়াখালী। তবে রংপুর ও বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে পর্যাপ্ত পরিমাণে তামাকের চাষ করা হয়। রংপুরে মতিহারি ও জাতি তামাক বেশি পরিমাণে চাষ করা হয়। হুঁকায় সাধারণত মতিহারি তামাকের ব্যবহার করা হয়। চুরুট তৈরির কাজে জাতি তামাক বেশি উপযোগী।

তামাক শুকানোর জন্য পরিণত তামাক পাতা বা পাতাসহ তামাকগাছ লম্বালম্বি করে চিরে দু-এক দিন গাদা করে রাখা হয়। তারপর সকালের দিকে তামাক পাতা বা চেরা ডাঁটাগুলো রোদে দেওয়া হয়। বিকেল পর্যন্ত শুকানো হয়। সন্ধ্যার সময় ঘরে এনে গাদা করে রাখা হয় এবং পরের দিন সকালে আগের মতো করে শুকাতে দেওয়া হয়। তামাক ভালোভাবে শুকিয়ে গেলে ছোট ছোট আঁটি বেঁধে সংরক্ষণ করা হয়। হুঁকা, বিড়ি প্রভৃতির জন্য তামাক এই পদ্ধতিতে শুকানো হয়।

তামাকের ধূমপান মানুষকে কিছুটা আনন্দ দিলেও প্রকৃতপক্ষে এটি বিষাক্ত পদার্থ। এর প্রভাবে মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সার অন্যতম।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা