kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

দূর্বা ঘাস

[নবম-দশম শ্রেণির কৃষিশিক্ষা বইয়ের চতুর্থ অধ্যায়ে দূর্বা ঘাসের কথা উল্লেখ আছে]

১৮ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দূর্বা ঘাস

দূর্বা হচ্ছে ঘাসজাতীয় একটি ঔষধি উদ্ভিদ। এটি মানবদেহকে সুস্থ ও সবল করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। সাধারণত দূর্বা ঘাস দীর্ঘকাল প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার ক্ষমতা রাখে। আমাদের দেশে দূর্বা ঘাসের জন্য মূলত নির্দিষ্ট করে চাষাবাদের প্রয়োজন হয় না। বৈশাখের প্রথম বৃষ্টির পরপরই এই ঘাস মাঠে-ময়দানে, ঘরবাড়ির আনাচকানাচে আপনা-আপনি জন্মাতে শুরু করে। এর পাতা সরু, লম্বা, মসৃণ ও সবুজ বর্ণের হয়। এদের মূল মাটির নিচে গুচ্ছ আকারে থাকে। এই ঘাস ইংরেজিতে Bermuda grass ও Dove grass নামে পরিচিত। Poaceae পরিবারের অন্তর্গত এর বৈজ্ঞানিক নাম Cynodon dactylon Pers. দূর্বা ঘাসে টারপিনয়েড যৌগ যেমন—অরুনডেইন, লুপিনোন ইত্যাদি বিদ্যমান। এ ছাড়া এই ঘাসে প্রোটিন কার্বোহাইড্রেট ও বেশ কিছু অর্গানিক এসিড পাওয়া যায়।

দূর্বা ঘাসে জাদুকরী ভেষজ গুণ বিদ্যমান। আয়ুর্বেদীয় মতে দূর্বা ঘাস মহৌষধ। মুখ, নাক ছাড়াও শরীরের বিভিন্ন অংশ দিয়ে রক্ত পড়তে থাকলে দূর্বা ঘাসের রসের সঙ্গে কাঁচা দুধ মিশিয়ে খাওয়ালে এই রোগের উপশম হয়। কেটে যাওয়া বা আঘাতজনিত রক্তক্ষরণে এই ঘাস বা এর শিকড় সামান্য পানি মিশিয়ে পিষে কাটাস্থানে বেঁধে দিলে রক্তপাত বন্ধ হয়ে যায়। চুল পড়া প্রতিরোধে নারকেল তেলের সঙ্গে দূর্বার রস মিশিয়ে চুলে দিলে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়। বমি বমি ভাব হলে এই রস খেলে বমির ভাব দূর হয়। ডালিম পাতা বা ডালিমের ছালের রসের সঙ্গে দূর্বা পাতার রস মিশিয়ে খেলে আমাশয় ভালো হয়। আমাদের দেহে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ হ্রাস করতে সক্ষম দূর্বার রস।

দূর্বা ঘাস শরীরের রেচনতন্ত্রের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। প্রস্রাবে কষ্ট হলে দূর্বার রস দুধ ও পানি সঙ্গে মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়। তবে অর্শরোগ থাকলে এই রস খাওয়া ঠিক হবে  না। শ্বেতপ্রদরজনিত দুর্বলতায় দূর্বা ঘাস ও কাঁচা হলুদের রস সমপরিমাণে মিশিয়ে খেলে এই রোগীরা দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়। এ ছাড়া এই ঘাস শুকিয়ে গুঁড়া করে সেই গুঁড়া দিয়ে দাঁত মাজলে মাড়ির পাইরিয়া রোগ সেরে যায়।                

 

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য