kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

প্রীতিলতা

২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



প্রীতিলতা

[পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে প্রীতিলতার কথা উল্লেখ আছে]

প্রীতিলতা ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নারী মুক্তিযোদ্ধা ও প্রথম বিপ্লবী নারী। পুরো নাম প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। ১৯১১ সালের ৫ মে মঙ্গলবার চট্টগ্রামের বর্তমান পটিয়া উপজেলার ধলঘাট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা জগবন্ধু ছিলেন চট্টগ্রাম পৌরসভার প্রধান কেরানি।  মা প্রতিভাদেবী ছিলেন গৃহিণী। মা তাঁকে আদর করে রাণী বলে ডাকতেন। পড়াশোনায় হাতেখড়ি মা-বাবার কাছে। ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় ছিল প্রীতিলতার প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান থেকেই তিনি ১৯২৮ সালে কয়েকটি বিষয়ে লেটার মার্কসসহ প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯৩০ সালে ঢাকার ইডেন কলেজ থেকে আইএ পরীক্ষা দিয়ে মেয়েদের মধ্যে প্রথম এবং সবার মধ্যে পঞ্চম স্থান লাভ করেন। এই ফলাফলের জন্য মাসিক ২০ টাকার বৃত্তি পান। ১৯৩২ সালে কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে ডিসটিংশন নিয়ে তিনি বিএ পাস করেন।

ইডেন কলেজের ছাত্রী থাকাকালে প্রীতিলতা লীলা নাগের নেতৃত্বাধীন দীপালি সংঘের অন্তর্ভুক্ত শ্রীসংঘের এবং কলকাতার বেথুন কলেজে পড়াকালীন কল্যাণী দাসের নেতৃত্বাধীন ছাত্রীসংঘের সদস্য হন। ১৯৩০ সালে সারা বাংলা জুড়ে অনেক বিপ্লবী দল ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সংগ্রামরত ছিল। প্রীতিলতাও বিপ্লবে উদ্বুদ্ধ হন। প্রথম মহিলা সদস্য হিসেবে যোগ দেন মাস্টারদা খ্যাত সূর্য সেনের নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী দলের সঙ্গে। প্রীতিলতা টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ অফিস ধ্বংস এবং রিজার্ভ পুলিশ লাইনস দখল অভিযানে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। তিনি অংশগ্রহণ করেন জালালাবাদ যুদ্ধেও।

১৯৩২ সালে পাহাড়তলীতে ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণে প্রীতিলতার ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ‘কুকুর ও ভারতীয়দের প্রবেশ নিষিদ্ধ’—এইরূপ অবমাননামূলক কথার জন্য ক্লাবটি নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিল ভারতীয়রা। ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রীতিলতার নেতৃত্বে ১০ জন বিপ্লবী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ করেন। ক্লাব আক্রমণ প্রায় সফল করার একপর্যায়ে পুরুষবেশী প্রীতিলতা গুলিবিদ্ধ হন। ইংরেজ অফিসারদের হাতে গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি তখন পটাসিয়াম সায়ানাইড খেয়ে নেন এবং বাকি বিপ্লবীদের দ্রুত স্থান ত্যাগ করার নির্দেশ দেন। পটাসিয়াম সায়ানাইডের বিষক্রিয়ায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তাঁর আত্মদান বিপ্লবীদের সশস্ত্র সংগ্রামে আরো উজ্জীবিত করে তোলে। পাহাড়তলীর ইউরোপিয়ান ক্লাবটি এখন ‘বীরকন্যা প্রীতিলতা জাদুঘর’ নামে পরিচিত।         

- ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য