kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১১ সফর ১৪৪২

বসুন্ধরা খাতা | জানা-অজানা

বাতাসা

৯ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বাতাসা

[পঞ্চম শ্রেণির আমার বাংলা বইয়ের ‘শখের মৃিশল্প’ প্রবন্ধে বাতাসার কথা উল্লেখ আছে]

বাতাসা চিনি বা গুড় দিয়ে তৈরি এক ধরনের মিষ্টিজাতীয় খাবার। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে এর প্রচলন বেশি। ব্যাস দুই থেকে চার সেন্টিমিটার হয় এবং চ্যাপ্টা আকৃতির। বাচ্চাদের কাছে এটি বেশ জনপ্রিয়। একসময় মুড়ি ও বাতাসা দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন করা হতো। গ্রামাঞ্চলে এখনো এই রীতি কদাচিৎ চোখে পড়লেও শহরাঞ্চলে খুব একটা দেখা যায় না। তবে প্রাচীনকাল থেকেই পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের হিন্দুরা বাতাসাকে প্রসাদ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। অনেক মন্দিরে ‘হরির লুট’ নামে বাতাসা প্রসাদ হিসেবে ছড়িয়ে দেওয়ার রীতি আছে।

সুস্বাদু এই বাতাসা তৈরিতে চিনি বা গুড়ের পাশাপাশি দুধ, খাবার সোডা ও পানির প্রয়োজন হয়। সাধারণত পৌষসংক্রান্তিতে মুড়ি, খই, কদমা, তিলের খাজার পাশাপাশি বাতাসাও খাওয়া হয়। মেলা, রথ প্রভৃতিতে বাতাসা অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ। লক্ষ্মীপূজায়ও এর ব্যবহার আছে।

দেশীয় ঐতিহ্যবাহী এসব খাবার মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া, ঢাকার ধামরাই, সাভার এবং বগুড়ার সদর উপজেলার হরিপুর গ্রামে সবচেয়ে বেশি তৈরি হয়। এ ছাড়া দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আরো ছোটখাটো কারখানায় বাতাসা তৈরি হচ্ছে। এসব খাবার আশপাশের এলাকার পাইকারদের মাধ্যমে সারা দেশে বিক্রি হয়। পশ্চিমবঙ্গে বাতাসা তৈরির প্রায় ২৫০০টি ছোট কারখানা আছে।

এসব খাবার কবে থেকে, কিভাবে বাংলা অঞ্চলে চালু হলো তার ইতিহাস খুব একটা জানা যায় না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শুভদৃষ্টি’ গল্পে পিতলের রেকাবিতে করে বাতাসা নিয়ে বিয়ের সম্বন্ধ আনার বিষয়টি উল্লেখ আছে।

বাতাসায় চিনি বা গুড়ের পরিমাণ বেশি থাকায় এটি খেলে তাত্ক্ষণিক শক্তি পাওয়া যায়। আমাদের হজমশক্তি বৃদ্ধি ও বিষণ্নতা দূর করতে সাহায্য করে এটি। এটি মিষ্টিজাতীয় খাবার বলে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ক্ষতিকর।                      

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা