kalerkantho

শনিবার । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৫ আগস্ট ২০২০ । ২৪ জিলহজ ১৪৪১

নবম-দশম শ্রেণি

বাংলা দ্বিতীয় পত্র

লুৎফা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক, বি এ এফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলা, ঢাকা

১৬ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বাংলা দ্বিতীয় পত্র

প্রতিবেদন

১। মনে করো, তোমার নাম তানিয়া। তোমার গ্রামের বাড়ি কুসুমপুর। সাম্প্রতিক সময়ে বন্যায় তোমার এলাকা খুব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জনজীবনের বিবরণ দিয়ে দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশের উপযোগী একটি প্রতিবেদন রচনা করো।

 

আবারও বন্যা : অন্ত নেই বানভাসিদের দুর্ভোগের

 

তানিয়া, স্টাফ রিপোর্টার, কালের কণ্ঠ, ২৫ জুন, বৃহস্পতিবার, ২০২০

কুসুমপুর অঞ্চলের বানভাসি মানুষের দুঃখ-দুর্দশা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় কুসুমপুরসহ নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় বাড়ছে পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা। দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্যসংকট। শহরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও কুসুমপুর ও আশপাশের গ্রামাঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি কমছে না। পানিবন্দি হাজার হাজার মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। সরকারিভাবে ত্রাণ তৎপরতা চললেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। বন্যার পাশাপাশি ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে নদীভাঙন। ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন মারাত্মক রূপ নিয়েছে। শত শত ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলের জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

বাংলাদেশের বর্ষা ঋতুতে প্রতিবছর বন্যা হবে, হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও ওষুধ সংকটে মানবেতর জীবন যাপন করবে—এ যেন একটি নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের মতে, বন্যার এই আগ্রাসী প্রভাব আরো এক সপ্তাহ থাকবে। কারণ ব্রহ্মপুত্র ছাড়া আরো ১৩টি পয়েন্টে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

হিমালয় ও অন্যান্য পর্বতে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও বরফগলা পানি উজান থেকে নেমে আসার কারণে এ দেশের নদ-নদীগুলো প্লাবিত হয়ে বন্যার সৃষ্টি করে। প্রতিবছর বন্যাকবলিত এলাকায় মানুষ পানিবন্দি জীবনযাপন করে শুধু খাদ্য-পানীয়জল ও ওষুধ সংকটেই ভোগে না, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমাদের কুসুমপুর অঞ্চলের শত শত ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, ফসলের জমি, এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যন্ত পানিতে ডুবে আছে। এ অঞ্চলের মানুষের দুঃখ-কষ্টের যেন শেষ নেই।

বাংলাদেশে বন্যা একটি সাংবার্ষিক সমস্যা। এ সমস্যা মোকাবেলা করেই যুগ যুগ ধরে বেঁচে আছে দেশের মানুষ। চলমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারসহ সমাজের সব অংশকে এগিয়ে আসতে হবে। ‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য’—এ সত্যে বিশ্বাসী হয়ে সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা কুসুমপুর অঞ্চলের বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়াবেন—এমনটিই কাঙ্ক্ষিত।

তানিয়া

স্টাফ রিপোর্টার

 

২। মনে করো, তোমার নাম জাওয়াদ। তুমি কালের কণ্ঠ পত্রিকার একজন স্টাফ রিপোর্টার। দেশব্যাপী ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে চিকিৎসার সুযোগ ও সচেতনতা বাড়াতে হবে’—এই শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রণয়ন করো।

 

 দেশব্যাপী ডেঙ্গুর বিস্তার : প্রতিরোধে চিকিৎসার সুযোগ ও সচেতনতা বাড়াতে হবে

 

জাওয়াদ, স্টাফ রিপোর্টার, কালের কণ্ঠ, ১৭ জুন, বুধবার, ২০২০

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহের পর বর্ষার অবিরাম জলধারায় অবগাহন করে প্রকৃতির নবীনতা প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মনও যখন শান্ত-শীতল হয়, ঠিক তখনই অন্য রকম সমস্যা এসে মানুষের জীবন ও মনকে অশান্ত, অস্থির করে তোলে। এ রকম একটি সমস্যার নাম ডেঙ্গু। শুরুতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব রাজধানী ঢাকায় দেখা গেলেও এখন তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে শত শত রোগী ভর্তি হচ্ছে। এরই মধ্যে ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিয়ে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। রোগীর রক্ত পরীক্ষার পর সেরোটাইপ-৩-এর প্রভাব পাওয়া যায়। রক্তের প্লাটিলেট প্রাপ্তির সমস্যা তৈরি হয়েছে। আবার শনাক্তকারী পরীক্ষা-নিরীক্ষাও সর্বত্র এক রকম নয়। তাই ডেঙ্গু মোকাবেলায় জরুরি ভিত্তিতে করণীয় নির্ধারণের পাশাপাশি চিকিৎসার সুযোগ ও সচেতনতা বাড়াতে হবে।

ডেঙ্গু শুধু বাংলাদেশেই নয়, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিটি দেশে এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। মূলত বর্ষা ঋতু তার আগমনী বার্তা ঘোষণা করার আগে থেকেই এডিস মশা তার ‘মরণ কামড়’ দেওয়া শুরু করে। বৃষ্টিস্নাত আর্দ্র-আবহাওয়া এডিস মশার বংশ বৃদ্ধির উপর্যুক্ত সময়। সাধারণত মে-জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর এমন প্রাদুর্ভাব থাকে, তারপর ধীরে ধীরে কমে আসে। সাধারণত বাড়ির চারপাশ, নালা-নর্দমায় জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার প্রজননক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। বড় শহরে দুই বাড়ির মাঝখানে, ভবনের সানশেডে, নানা ধরনের কৌটা, টায়ার, ডাবের খোসা, পলিব্যাগ ইত্যাদি পড়ে থাকে। সেগুলোতেও বৃষ্টির পানি জমে এবং এডিস মশা তাতে বংশ বিস্তার করে। ঘরের মধ্যে বিভিন্ন পাত্রে, ফ্রিজের পেছনে, ফুলের টবে বা ফুলদানিতে অনেকে পানি জমিয়ে রাখেন এবং নিয়মিত পরিষ্কার করেন না। আবার অনেকে মশারি ব্যবহারে অনীহা প্রকাশ করেন। এমনি হাজারটা অসচেতনতা ডেঙ্গু বিস্তারে ভূমিকা রাখে।

অত্যধিক তাপমাত্রা, প্রচণ্ড মাথা ব্যথা, হাড় ও পেশিতে যন্ত্রণা, বমি বমি ভাব, শরীরের বিভিন্ন গ্রন্থি ফুলে যাওয়া, ত্বকে র‌্যাশ, চোখের ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধা—এ সবই মূলত ডেঙ্গুর উপসর্গ।

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ অত্যাবশ্যক। এ ছাড়া রোগের লক্ষণ দেখা দিলেই রোগীকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবা প্রদান করতে হবে।

ডেঙ্গু রোগটি ভয়ংকর এবং আক্রমণাত্মক হলেও ব্যক্তিক সচেতনতায় একে এড়ানো বেশি কষ্টসাধ্য নয়। তাই বর্ষাকালে কোনো খোলা পাত্রেই পানি জমিয়ে রাখা যাবে না। বৃষ্টির পর বাড়ির আশপাশে পানি জমলেও তা পরিষ্কার করতে হবে। দিনে-রাতে সব সময়ই মশারি ব্যবহার করতে হবে। যদিও ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব রয়েছে, তার পরও প্রবল জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিজ দায়িত্বে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণের উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মোটকথা, ডেঙ্গুর আতঙ্ক না ছড়িয়ে প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

জাওয়াদ

স্টাফ রিপোর্টার

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা