kalerkantho

সোমবার । ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭। ১০ আগস্ট ২০২০ । ১৯ জিলহজ ১৪৪১

ব্যাঙ

[একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে ব্যাঙের কথা উল্লেখ আছে]

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল    

১৫ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ব্যাঙ

ব্যাঙ Amphibia  শ্রেণির Anura বর্গের একটি উভচর প্রাণী। গোটা বিশ্বে ব্যাঙের ৬৩০০ এরও বেশি রেকর্ড সংখ্যক প্রজাতি আছে, যা মোট উভচর প্রজাতির ৮৮ শতাংশ। এরা দেহের তুলনায় অনেক লম্বা লাভ দিতে পারে। বর্ষাকালে প্রজনন ঋতুতে ব্যাঙের ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর ডাক সবার পরিচিত।

ব্যাঙের জীবনচক্রের কয়েকটি দশার একটি হচ্ছে ব্যাঙাচি দশা। ডিম ফোটার পরপরই আসে এই ব্যাঙাচি দশা। এই দশায় এরা মাছের মতো ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য পরিচালনা করে। এই সময়ে এদের পুচ্ছদেশে লেজ থাকলেও কোনো পা থাকে না।

ব্যাঙের প্রধান খাদ্য হচ্ছে ছোট-বড় বিভিন্ন রকমের পোকা-মাকড়। এক প্রজাতির ব্যাঙ আছে যারা কাঁকড়া খেয়ে থাকে। বিভিন্ন প্রজাতির ব্যাঙ নানা জায়গায় বসবাস করে। কিছু ব্যাঙ জলে বাস করে। আবার কিছু ব্যাঙ মাটিতে গর্ত করে বাস করে। কিছু ব্যাঙ গাছে আর কিছু ব্যাঙ জঙ্গলে বাস করে। কিছু প্রজাতি নিশাচর, আবার কিছু শীতল রক্তবিশিষ্ট।

এরা গায়ের চামড়া ব্যবহার করে শরীরে বাতাস প্রবেশের মাধ্যমে শ্বাস-প্রশ্বাসের কাজ সম্পন্ন করে থাকে। শ্বাসযন্ত্রের কাজ ছাড়াও এদের গায়ের চামড়া পানি শোষণ, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও দেহের প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করে।

ব্যাঙ আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার কাজে সহায়তা করে। ব্যাঙ পোকা-মাকড় খেয়ে ফসলের সুরক্ষা করে, ফলে জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক দিতে হয় না। ব্যাঙের মাংস খুবই সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। এরা পরিবেশের অনেক পরিবর্তন আগে থেকেই আঁচ করতে পারে। যুক্তরাজ্যের ওপেন ইউনিভার্সিটির প্রাণিবিদ ড. রাসেল গ্রান্টের এক গবেষণায় দেখা গেছে, এক প্রকার কুনোব্যাঙ সাধারণত ভূমিকম্পের কমপক্ষে সপ্তাহখানেক আগেই এ ব্যাপারে আঁচ করতে পারে। তখন এরা নিজের ঘর ছেড়ে অন্যত্র নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়। এ ছাড়া কোনো কোনো ব্যাঙের দেহে এক প্রকার বিষ আছে, যা মানুষ বহু বছর ধরে তীরের ফলায় বিভিন্ন প্রাণী শিকার করার কাজে ব্যবহার করে আসছে।

একসময় প্রচুর দেখা গেলেও বর্তমানে ব্যাঙ ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা