kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭। ১১ আগস্ট ২০২০ । ২০ জিলহজ ১৪৪১

ফিটকিরি

[নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের সপ্তম অধ্যায়ে ফিটকিরির কথা উল্লেখ আছে]

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল    

১২ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ফিটকিরি

ফিটকিরি এক প্রকার অর্ধস্বচ্ছ কাচসদৃশ কঠিন পদার্থ। সাধারণত পানি পরিশোধনের জন্য এটি ব্যবহৃত হয়। এর রাসায়নিক সংকেত K2SO4AL2(SO4)324H2O. ফিটকিরি পানিতে দ্রবণীয় এবং এর প্রতি অণুতে ২৪ অণু কেলাস পানি বিদ্যমান। ফিটকিরির ইংরেজি নাম এলাম। দাড়ি কাটতে গিয়ে ব্লেডে গালটা আচমকা কেটে গেলে, স্যাভলন বা কোনো আফটারসেভের বিকল্প হিসেবে ফিটকিরি ব্যবহার করা যায়। ফিটকিরি দামে সস্তা, সহজলভ্য এবং ভালো জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে। এর স্বাদ মিষ্টি ও কষা এবং অত্যন্ত শুষ্ক প্রকৃতির। মূলত এটি খনিজ দ্রব্য। কিন্তু বর্তমানে কৃত্রিমভাবেও ফিটকিরি তৈরি করা হয়। ফিটকিরি কয়েক প্রকার। তবে ওষুধে ব্যবহারে জন্য লাল রঙের স্বচ্ছ ফিটকিরি সবচেয়ে উত্তম।

ফিটকিরি আমাদের নানা উপকারে আসে। মুখের ভেতরে ঘা বা ব্যাকটেরিয়ার কারণে দুর্গন্ধ হলে হালকা গরম পানিতে ফিটকিরি মিশিয়ে কুলকুচি করলে উপকার পাওয়া যায়। ফিটকিরি উকুননাশক হিসেবেও কাজ করে। গরমে অতিরিক্ত ঘামালে ফিটকিরি মেশানো পানিতে সপ্তাহখানেক গোসল করলে ঘাম কমে আসে, স্বস্তি মেলে। দাঁতের যন্ত্রণা দূর করতেও ফিটকিরি ব্যবহার করা যায়।

আগের দিনে মেয়েরা রূপচর্চায় ফিটকিরি ব্যবহার করত। কারণ ফিটকিরি ত্বকে বলিরেখা পড়তে দেয় না। এ ছাড়া মুখে ব্রণ, ফুসকুড়ি, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, চামড়া কুচকে যাওয়া রোধে ফিটকিরি ব্যবহার করা যায়। ঠাণ্ডা লেগে গলা ব্যথা হলে বা গ্ল্যান্ড ফুলে গেলে গরম পানিতে এক চিমটি লবণ ও ফিটকিরি চূর্ণ মিশিয়ে দিনে কয়েকবার গার্গল করলে বেশ আরাম পাওয়া যায়। এ ছাড়া ফিটকিরিকে মোমের সঙ্গে মিশিয়ে লোমনাশক ক্রিম প্রস্তুত করা হয়। কাগজশিল্পে, চামড়াশিল্পে ফিটকিরি ব্যবহৃত হয়। সমুদ্রগামী জাহাজের নাবিকরা যে কাপড় ও কাগজ ব্যবহার করেন তা আগুনে পোড়ে না (Fire proof). এ ধরনের কাপড় ও কাগজ বানাতে ফিটকিরির প্রয়োজন হয়। অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে যে রাসায়নিক দ্রব্য থাকে তা ফিটকিরি দিয়ে প্রস্তুত করা হয়।                                                       

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা