kalerkantho

শনিবার । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৫ আগস্ট ২০২০ । ২৪ জিলহজ ১৪৪১

বসুন্ধরা খাতা | জানা - অজানা

নকশিকাঁথা

৮ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নকশিকাঁথা

[পঞ্চম শ্রেণির আমার বাংলা বইয়ের ফুটবল খেলোয়াড় প্রবন্ধে নকশিকাঁথার কথা উল্লেখ আছে]

সাধারণ কাঁথার উপর নানা ধরনের নকশা করে বানানো বিশেষ প্রকারের কাঁথা নকশি কাঁথা। বাংলাদেশের শত শত বছরের পুরনো সংস্কৃতির একটা অংশ। এটি ভারতেরও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। পুরো বাংলাদেশেই নকশি কাঁথা তৈরি হয়, তবে ময়মনসিংহ, রাজশাহী, ফরিদপুর ও যশোর নকশি কাঁথার জন্য বিখ্যাত।

 

কাঁথা শব্দটির উৎস সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে কাঁথা শব্দটি পূর্বে উচ্চারিত হতো খেতা বলে। নিয়াজ জামানের মতে, কাঁথা শব্দটি উৎপত্তি হয়েছে সংস্কৃতি শব্দ কঁথা থেকে। কঁথা শব্দটির বাংলা অর্থ ত্যানা বা কাপড়ের টুকরা। অন্যান্য লোকশিল্পের মতো কাঁথার উপর দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিস, আবহাওয়া, পরিবেশ ও অর্থনৈতিক প্রভাব আছে।

প্রথমদিকে কাঁথা ছিল জোড়া তালি দেওয়া কাপড়। পরবর্তীতে এটি থেকেই নকশি কাঁথার আবির্ভাব। পাঁচ শ বছর আগে কৃষ্ণদাস কবিরাজ রচিত শ্রী শ্রী চৈতন্য চরিতামৃত বইয়ে সর্বপ্রথম কাঁথার কথা পাওয়া যায়। বাংলাদেশে এ পারিভাষিক শব্দটির বহুল ব্যবহার শুরু হয় জসীমউদ্দীনের নকশি কাঁথার মাঠ কাব্য থেকে।

নকশি কাঁথা সেলাইয়ের কোনো নির্দিষ্ট নকশা নেই। যিনি সেলাই করেন তার মনে যা আসে তা-ই তিনি সেলাই করে যান। বলা যায় এটি হচ্ছে মনের ডাইরি। সূর্য, চাঁদ, গাছ, পাখি, মাছ, ফল, মানুষ, ময়ূূরসহ বিভিন্ন নকশা করা হয় নকশি কাঁথায়। তবে সেলাইয়ের ধরন অনুযায়ী কাঁথাগুলো চলমান সেলাই, লহরী কাঁথা, আনারসি, বাঁকা সেলাই, সুজনি কাঁথা প্রভৃতি নানান প্রকারে ভাগ করা হয়েছে। 

প্রথম দিকে শুধু চলমান সেলাই কাঁথা প্রচলিত ছিল। এই ধরনের সেলাইকে ফোড় বলা হয়। বর্তমানে চাটাই সেলাই, কাইত্যা সেলাই, যশুরে সেলাই, রিফু সেলাই, কাশ্মীরি সেলাই, শর সেলাই ইত্যাদি সেলাই দিয়ে কাঁথা তৈরি হয়। মাঝে মধ্যে হেরিংবোন সেলাই, সাটিন সেলাই, ব্যাক সেলাই ও ক্রস সেলাইও ব্যবহার করা হয়।

আকার ও ব্যবহারের ওপর লেপ-কাঁথা, সুজনি কাঁথা, রূমাল কাঁথা, আসন কাঁথা, বস্তানি বা গাত্রি, আর্শিলতা, দস্তরখান, গিলাফ প্রভৃতি বিভিন্ন ধরনের কাঁথা পাওয়া যায়। ২০০৮ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নকশি কাঁথার ভৌগোলিক স্বীকৃতি পায়।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা