kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

বসুন্ধরা খাতা | জানা - অজানা

চিনাবাদাম

৫ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চিনাবাদাম

[নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে চিনাবাদামের কথা উল্লেখ আছে]

চিনাবাদাম লেগাম গোত্রের একটি প্রজাতি। এর বৈজ্ঞানিক নাম Arachis hypogea. উত্পত্তিস্থল দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা এবং মেক্সিকো হলেও বর্তমানে ভারতীয় উপমহাদেশ, চীন, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মধ্য আফ্রিকা, মাদাগাস্কারসহ আরো অনেক উষ্ণমণ্ডলীয় দেশে চিনাবাদামের ব্যাপক চাষাবাদ হচ্ছে। চিনাবাদামের গাছ সাধারণত ৩০ থেকে ৫০ সেমি পর্যন্ত লম্বা হয়।

চিনাবাদামগাছে হলুদ রঙের ফুল হয়। এই ফুলের পরাগায়ণ হওয়ার পর ফুলের পাপড়িগুলো ঝরে যায় এবং ফুলের ওভারিটি (ডিম্বাশয়) ফুলে ওঠে। ফুলে ওঠা ডিম্বাশয়কে পেগ বলে। পেগটি ধীরে ধীরে মাটির নিচে প্রবেশ করে। মাটির নিচে থাকা অবস্থায়ই পেগটি একসময় চিনাবাদামের রূপ নেয়।

চিনাবাদাম আকারে ছোট হলেও এতে সব প্রকার খাদ্য গুণাগুণ বিদ্যমান। এতে আছে ফ্যাটি এসিড, ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট, লিউটিন, জিজ্যানথিনের মতো অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। ১০০ গ্রাম চিনাবাদাম থেকে আমরা পাই ২.৯ গ্রাম খনিজ, ১.৭ গ্রাম আঁশ, ২০.৮ গ্রাম প্রোটিন, ৫৮.৯ গ্রাম তেল, ১০.৫ গ্রাম শর্করা, ২৩০ মিলি গ্রাম ক্যালসিয়াম ও ০.৫ মিলি গ্রাম লৌহ। এই বাদাম শরীরের চর্বি কমাতেও সাহায্য করে। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২টি চিনাবাদাম খেলে শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল মাত্রা কমে। এই বাদামে উপস্থিত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ক্যান্সার রোগকে প্রতিরোধ করার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধক্ষমতার উন্নতি ঘটায়। এর ফলে নানা ধরনের সংক্রমণকে দূরে রাখতেও বাদাম বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এ ছাড়া চিনাবাদাম ডায়াবেটিস প্রতিরোধে, ওজন কমাতে, স্মৃতিশক্তি বাড়াতে, দেহের কোষের ক্ষত রোধ করতে, সেই সঙ্গে ত্বকের এবং শরীরের বয়স কমাতে, হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে, ব্লাডপ্রেশার ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে, হজমক্ষমতার উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করে।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা