kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

বন্যা

[নবম-দশম শ্রেণির বাংলাসাহিত্য বইয়ের ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধে বন্যার কথা উল্লেখ আছে]

আব্দুর রাজ্জাক   

৩ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বন্যা

পানি দ্বারা স্থলভাগ প্লাবিত হওয়াকে বলে বন্যা বা বান। নদীমাতৃক বাংলাদেশের কোনো না কোনো অঞ্চলে প্রায় প্রতিবছরই বন্যা হয়। সীমিত আকারের বন্যা অনেক উপকারী। এ বন্যার ফলে জমিতে পলি পড়ে, যা জমির উর্বরতা বাড়ায়,  ভালো হয় ফসল উৎপাদন। কিন্তু সাম্প্রতিককালে জলবায়ুজনিত পরিবর্তনের ফলে ঘন ঘন এবং অসময়ে প্রলংয়করী বন্যা লক্ষ করা যায়। ভয়াবহ এ বন্যায় ফসল, গবাদি পশু এবং অন্যান্য সম্পদের মারাত্মক ক্ষতি হয়।

বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর বন্যা হয়েছে চীনে ১৯৩১ সালে। এ বন্যায় প্রায় ৪০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। বাংলাদেশে ১৯৭৪, ১৯৮৭, ১৯৮৮, ১৯৯০, ১৯৯৫, ১৯৯৮, ২০০৪ ও ২০০৭ সালের বন্যায় অনেক ক্ষতি হয়েছে, বিশেষ করে ১৯৭৪ সালের বন্যায় এত বেশি ক্ষতি হয়েছিল যে সেটি বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় ২৬ হাজার বর্গকিলোমিটার অঞ্চল অর্থাৎ ১৮ শতাংশ ভূখণ্ড বন্যাকবলিত হয়। ব্যাপকভাবে বন্যা হলে সমগ্র দেশের ৫৫ শতাংশের বেশি ভূখণ্ড বন্যার প্রকোপে পড়ে।

বন্যা হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ আছে। এর মধ্যে অন্যতম কারণটি হলো নদ-নদীর পানি ধারণক্ষমতা কমে যাওয়া। নদীভাঙন, বর্জ্য অব্যবস্থাপনাসহ নানা কারণে নদ-নদী ভরাট হয়ে যায়। ফলে ভারী বর্ষণ বা উজানের অববাহিকা থেকে আসা পানি সহজে সাগরে যেতে পারে না এবং নদী ভরে দুই কূল ছাপিয়ে বন্যার সৃষ্টি করে। এ ছাড়া মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরের সৃষ্ট জোয়ারের কারণে উজানের পানি অনেক সময় নদ-নদীর মাধ্যমে সাগরে যেতে পারে না। ফলে নদ-নদীর আশপাশের এলাকায় বন্যার সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশের বেশির ভাগ এলাকা সমতল হওয়ায় বৃষ্টির পানি সহজে নদ-নদীতে গিয়ে পড়তে পারে না। কাজেই বিস্তীর্ণ এলাকা, বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবেও বন্যা হয়ে থাকে।

বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে নদী খনন করে পানি ধারণক্ষমতা বাড়াতে হবে, যাতে ভারী বর্ষণ বা উজানের পানি এলেও বন্যা না হয়; বেশি বেশি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করতে হবে; নদীর পাড়ে পাথর, সিমেন্টের ব্লক, বালির বস্তা, কাঠ বা বাঁশের ঢিবি তৈরি করেও বন্যা প্রতিরোধ করা যায়। নদীর পাড়ে গাছ লাগানো, পানি প্রবাহের জন্য স্লুইস গেট নির্মাণ করেও বন্যা প্রতিরোধ করা যায়। বন্যা সম্পর্কে আগাম পূর্বাভাস ও সতর্কবাণী প্রচার করে বন্যাজনিত ক্ষতির পরিমাণ কমানো যায়। বন্যার আশঙ্কা দেখা দিলে সরকারি উঁচু ভবন কিংবা স্থাপনায় আশ্রয় নিতে হবে। চলাচলের জন্য নৌকার ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত খাদ্যদ্রব্য, পানি ওষুধপত্রের ব্যবস্থা রাখতে হবে। 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা