kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

ফেলন

৮ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ফেলন

[নবম-দশম শ্রেণির কৃষিশিক্ষা বইয়ের তৃতীয় অধ্যায়ে ফেলনের কথা উল্লেখ আছে]

ডালজাতীয় ফসল ফেলন। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন আছে। দেখতে অনেকটা বরবটির মতো। চট্টগ্রামে এর ভালো চাষ হয়। এ ছাড়া ভোলা ও ফেনী অঞ্চলেও ফেলনের আবাদ হয়। ফেলনের দুটি উন্নত জাত হলো—বারি ফেলন-১, বারি ফেলন-২।

বারি ফেলন-১ জাতটি চট্টগ্রামের জার্মপ্লাজম থেকে উদ্ভাবন করা হয়েছে। পরে ১৯৯৩ সালে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আবাদের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়।

বারি ফেলন-২ আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইআইটিএ নাইজেরিয়া থেকে উদ্ভাবন করা হয়েছে। বাংলাদেশে ১৯৯৬ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড এই জাতটিকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষাবাদের জন্য অনুমোদন দেয়।

ফেলনগাছের ডগা ও পাতা সবুজ রঙের হয়। গাছ সাধারণত খাড়া থাকে। তবে অত্যধিক খাদ্য ও পানি পেলে লতানো হয়ে যায়। জীবনকাল ১২০ থেকে ১৩৫ দিন।

ফেলন বীজের ত্বকে ছাই রঙের সঙ্গে কালচে দাগ থাকে। এ দেশের কৃষকরা সাধারণত পরিত্যক্ত জমিতে ফেলন চাষ করে থাকে। বেলে দো-আঁশ ও এঁটেল দো-আঁশ মাটি ফেলন চাষের জন্য উপযোগী। উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমিতে ফেলন ভালো জন্মে। ফেলনের বীজ প্রধানত ছিটিয়ে বপন করতে হয়। বপনের আগে দুই থেকে তিনবার চাষ ও মই দিয়ে জমি তৈরি করে নিতে হয়। বপনের ক্ষেত্রে সারির দূরত্ব ১৫ ইঞ্চি রাখতে হয়। বীজ বপনের ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে একবার নিড়ানি দিয়ে আগাছা দমন করতে হয়। অতিবৃষ্টির ফলে যাতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য অতিরিক্ত পানি বের হওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হয়।

মধ্য নভেম্বর থেকে মধ্য ডিসেম্বর মাস ফেলন বীজ বপনের উপযুক্ত সময়। প্রতি হেক্টরে ৪০ থেকে ৫০ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়। সাধারণত ফেলনের জমিতে সেচের প্রয়োজন হয় না। তবে গাছে শিম আসার সময় একটি সেচ দিলে ভালো ফলন পাওয়া যায়।

►আব্দুর রাজ্জাক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা