kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩ আষাঢ় ১৪২৮। ১৭ জুন ২০২১। ৫ জিলকদ ১৪৪২

সৃজনশীল প্রশ্ন

এইচএসসি বিশেষ প্রস্তুতি । জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র

সুনির্মল চন্দ্র বসু, সহকারী অধ্যাপক, উদ্ভিদবিদ্যা, সরকারি মুজিব কলেজ, সখীপুর, টাঙ্গাইল

৬ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এইচএসসি বিশেষ প্রস্তুতি । জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র

দ্বাদশ অধ্যায়

জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ

ক) বায়োম কী?       ১

খ) ইন-সিটু ও এক্স-সিটু সংরক্ষণের মধ্যে ২টি পার্থক্য লেখো।  ২

গ) উদ্দীপকের চিত্র : P-এর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো। ৩

ঘ) চিত্রে প্রদর্শিত Q ও R অভিযোজিত বৈশিষ্ট্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

উত্তর : ক) একই ধরনের জলবায়ু, একই ধরনের মাটি, একই জাতীয় বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী নিয়ে গঠিত একটি বৃহৎ ও পৃথকযোগ্য ইকোসিস্টেমকে বায়োম বলে।

খ) ইন-সিটু ও এক্স-সিটু সংরক্ষণের মধ্যে ২টি পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো :

ইন-সিটু সংরক্ষণ এক্স-সিটু সংরক্ষণ

১। মূল বাসস্থানে তথা প্রাকৃতিক পরিবেশের বিবর্তনীয় গতিশীল ইকোসিস্টেমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করাকে ইন-সিটু সংরক্ষণ বলে।

১। জীববৈচিত্র্যের উপাদানগুলোকে তাদের মূল বাসস্থান বা প্রাকৃতিক স্বাভাবিক পরিবেশের বাইরে বাঁচিয়ে রাখাকে এক্স-সিটু সংরক্ষণ বলে।

২। এই ধরনের সংরক্ষণে অর্থ, শ্রম ও সময়ের ব্যয় খুবই কম।

২। এই ধরনের সংরক্ষণে অর্থ, শ্রম ও সময়ের ব্যয় বেশি হয়।

গ) উদ্দীপকের চিত্র : P হলো জলজ উদ্ভিদ। নিচে জলজ উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য দেওয়া হলো—

১। জলজ উদ্ভিদের মূল সুগঠিত হয় না, অনেক ক্ষেত্রে মূল থাকে না বললেই চলে।

২। এদের মূল ও কাণ্ডে বড় বড় বায়ুকুঠুরি থাকে। বায়ুকুঠুরি বিশিষ্ট গঠনকে অ্যারেনকাইমা বলে।

৩। বেশির ভাগ জলজ উদ্ভিদে অঙ্গজ উপায়ে বংশবৃদ্ধি ঘটে।

ঘ) উদ্দীপকের চিত্র : Q হলো মরুজ উদ্ভিদ এবং চিত্র : R হলো নোনা মাটির উদ্ভিদ।

নিচে মরুজ উদ্ভিদ ও নোনা মাটির উদ্ভিদের অভিযোজিত বৈশিষ্ট্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো।

মরুজ উদ্ভিদের অভিযোজিত বৈশিষ্ট্য—

বাহ্যিক অভিযোজন :

১। মরুজ উদ্ভিদগুলো সাধারণত আকারে ছোট ও ঝোপযুক্ত হয়। এ ধরনের উদ্ভিদ বালির ঝাপটা ও বায়ুর ঝাপটা সহ্য করতে পারে, তাই ভেঙে যায় না।

২। অনেক উদ্ভিদের পাতা ও কাণ্ড চ্যাপ্টা, রসালো ও সবুজ থাকে। তাই পানি ধরে রাখতে পারে।

৩। পাতা অপেক্ষাকৃত ছোট, পুরু বা কাঁটায় রূপান্তরিত। তাই পানির অপচয় রোধ হয়।

অঙ্গসংস্থানিক অভিযোজন :

১। পাতার কিউটিকল পুরু, কাণ্ড ও পাতায় মোমের আবরণ থাকে। তাই প্রস্বেদন হ্রাস পায়।

২। এপিডার্মিস বহুস্তর বিশিষ্ট। তাই পানির অপচয় রোধ ও খরায় নেতিয়ে পড়ে না।

শারীরবৃত্তীয় অভিযোজন :

১। মরু উদ্ভিদের অভিস্রবণিক চাপ বেশি। তাই পানি শোষণ মাত্রা বৃদ্ধি পায়। পানি শোষণ সহজ হয়, খরচ কম হয় এবং অপচয় রোধ হয়।

২। বর্ষজীবী উদ্ভিদগুলো বৃষ্টির পরপরই অতি অল্প সময়ে জীবনচক্র সম্পন্ন করতে সক্ষম।

নোনা মাটির উদ্ভিদের অভিযোজিত বৈশিষ্ট্য—

১। মাটির গভীরতার সঙ্গে সঙ্গে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পায়, তাই বেশির ভাগ উদ্ভিদের মূলতন্ত্র মাটির খুব গভীরে না গিয়ে মাটির ওপরের স্তরেই বিস্তৃত থাকে।

২। জোয়ার-ভাটার সময় পানির টানকে সহ্য করে দাঁড়িয়ে থাকার জন্য অনেক উদ্ভিদে স্তম্ভমূল বা ঠেসমূল থাকে।

৩। শ্বাসমূলের ভেতরে বায়ুকুঠুরি থাকে এবং সে কুঠুরিতে বায়ু (02) ধরে রাখতে পারে। শ্বাসমূলের কারণে মূল ও বাইরের সঙ্গে গ্যাসের বিনিময় সহজ হয়।

৪। লবণাক্ত মাটিতে এবং জোয়ার-ভাটার স্থানে বীজ এক স্থানে টিকে থাকা কঠিন। তাই বহু উদ্ভিদে গাছে থাকা অবস্থায়ই বীজের অঙ্কুরোদগম শুরু হয়ে লম্বা ভ্রূণমূল সৃষ্টি হয়। মূল একটু বড় ও ভারী হলে মাটিতে পড়ে এবং কিছুটা কাদামাটিতে ঢুকে যায় ও স্থায়ী হয়। ফলে জোয়ার-ভাটার টানে তা ভেসে যায় না। উদ্ভিদে থাকা অবস্থায় ফলের অভ্যন্তরে বীজের অঙ্কুরোদগমকে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম বলে। ম্যানগ্রোভ অঞ্চলের অনেক উদ্ভিদে এ ধরনের অঙ্কুরোদগম দেখা যায়।



সাতদিনের সেরা