kalerkantho

সোমবার  । ১৬ চৈত্র ১৪২৬। ৩০ মার্চ ২০২০। ৪ শাবান ১৪৪১

জানা-অজানা

ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি

[পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির কথা উল্লেখ আছে]

ষোড়শ শতাব্দীতে ইউরোপের প্রভাবশালী নৌশক্তির অধিকারী দেশগুলো বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে বহির্বিশ্বে বেরিয়ে পড়ে। তাদের বেশির ভাগের লক্ষ্য ছিল ভারতবর্ষ। ভারতীয় উপমহাদেশে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ইউরোপীয় দেশগুলো বিভিন্ন কম্পানি প্রতিষ্ঠা করে, যেমন—‘ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি, ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি ও ফ্রেঞ্চ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কম্পানিটি হলো ‘ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি’। ব্যাবসায়িক প্রতিযোগিতায় ভারতে শেষ পর্যন্ত এরাই টিকে থাকে। ফরাসি, ডাচসহ অন্যরা টিকে থাকতে পারেনি। পরে পূর্ব ভারতে ব্রিটিশদের একচেটিয়া বাণিজ্য শুরু হয়।

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানিটি ১৬০০ সালে ইংল্যান্ড কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন ব্রিটেনের রানি ছিলেন প্রথম এলিজাবেথ। তিনি ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর এই কম্পানিকে ভারতে বাণিজ্য করার সনদ প্রদান করেন। এই সনদের ক্ষমতাবলে কম্পানিটি মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে সুরাটে প্রথম বাণিজ্যকুঠি স্থাপনের অনুমতি পায়। পরে ভারতের হুগলিসহ বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করে। ১৬৫৮ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির একজন প্রতিনিধি হিসেবে জেমস হার্ট ঢাকা প্রবেশ করার মধ্য দিয়ে বাংলায় ইংরেজ আগমন শুরু হয়।

১৭৫৬ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব হন সিরাজউদ্দৌলা। তরুণ এই নবাবের সঙ্গে তাঁর খালা ঘষেটি বেগমের সম্পর্ক ভালো ছিল না। এ ছাড়া রায়দুর্লভ ও জগেশঠ নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। অবশেষে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধে নবাবের বিরুদ্ধে ইংরেজদের পক্ষে যোগ দেয় তারা। এই যুদ্ধে সৈন্য বাহিনীর প্রধান মীরজাফরও নবাবের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে। ফলে নবাব পরাজিত ও নিহত হন। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে বাংলায় ১৭৫৭ থেকে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত এক শ বছর এ দেশে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির শাসন চলে। ইতিহাসে যা ‘কম্পানি শাসন’ নামে পরিচিত। এই কম্পানি শাসনের প্রথম শাসনকর্তা ছিলেন রবার্ট ক্লাইভ। আঠারো শতকের শেষ ভাগ থেকে উনিশ শতকজুড়ে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির নীতি ও শোষণের বিরুদ্ধে অনেকবার বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি বিদ্রোহ হলো সিপাহি বিদ্রোহ। ইংরেজরা এ বিদ্রোহ দমনে কঠোর অবস্থান নেয়। অনেক নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে তারা। ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কেও ফাঁসি দেওয়া হয় অনেককে। একপর্যায় বিদ্রোহীরা পরাজিত হয়; কিন্তু এই বিদ্রোহের কারণেই কম্পানি শাসনের অবসান ঘটে। পরে ব্রিটিশ সরকার সরাসরি ভারত শাসন শুরু করে, যা চলে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত।     

আব্দুর রাজ্জাক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা