kalerkantho

রবিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০২০। ৫ মাঘ ১৪২৬। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

জানা-অজানা : গম

[নবম-দশম শ্রেণির কৃষিশিক্ষা বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে গমের কথা উল্লেখ আছে]

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



জানা-অজানা : গম

বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অন্যতম প্রধান খাদ্যশস্য গম। নানা রকম খাদ্য তৈরিতে এর ব্যবহার হয়। প্রত্নতাত্ত্বিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রায় ৯৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ফার্টিল ক্রিসেন্ট অঞ্চলে গমের প্রথম চাষ হয়। বর্তমানে সারা বিশ্বে এর চাষ হচ্ছে। গম উত্পাদনে শীর্ষ দেশ চীন। এর পরই রয়েছে—ভারত, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স। গম রপ্তানিতে শীর্ষে রয়েছে রাশিয়া। 

শীতকালীন ফসলের তুলনায় গম আবাদ করা সুবিধাজনক। কারণ পানি কম লাগে, রোগ ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম। গম চাষের জন্য উঁচু ও মাঝারি দো-আঁশ মাটি বেশ উপযোগী। নোনা মাটিতে গমের ফলন কম হয়।

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে গমের চাষ ভালো হয়। এ ছাড়া ঢাকা, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুরেও গমের আবাদ হয়। তবে হাওর-বাঁওড় ও বিল অঞ্চলে গমের আবাদ করা হয় না। যে মাটিতে pH (অম্ল-ক্ষার)-এর মাত্রা ৬.০০ থেকে ৭.০০, সেসব মাটিতে গম ভালো হয়। এ দেশে আবাদকৃত গমের জাতের মধ্যে কাঞ্চন, আকবর, অঘ্রানী ও প্রতিভা অন্যতম। এ ছাড়া সৌরভ (বারি গম-৯) ও গৌরব (বারি গম-২০) নামের দুটি উচ্চ ফলনশীল নতুন জাত অনুমোদিত হয়েছে। 

গম ভাঙিয়ে সাধারণত আটা ও ময়দা তৈরি করা হয়। আটা দিয়ে বানানো হয় রুটি, পরোটা ও পিঠা। ময়দা দিয়ে বিস্কুট, কুকিজ, কেক, লুচি ও কচুরি। গমের কুঁড়া ও খড় গৃহপালিত পশুর খাদ্য হিসেবে এবং খড় ঘরের ছাউনি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

গমের পুষ্টিমান অত্যন্ত বেশি। এর আটায় অন্তর্ভুক্ত থাকে—আমিষ, শর্করা, ক্যালসিয়াম, লৌহ, ক্যারোটিন, ভিটামিন ‘বি১’, ভিটামিন ‘বি২’, খনিজ পদার্থ। বর্তমানে বাংলাদেশে ৭০ লাখ টন বার্ষিক চাহিদার বিপরীতে মাত্র ১১.৫৩ লাখ টন গম উত্পাদন করা সম্ভব হচ্ছে। গমের চাহিদার পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রতিবছর প্রায় ১৫ শতাংশ হারে। ২০১৭-১৮ মৌসুমে হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ৩.২৮ টনে উন্নীত হয়েছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে গমের উত্পাদন আরো বাড়ানো উচিত।     

- আব্দুর রাজ্জাক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা