kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

জানা-অজানা

কোলেস্টেরল

[নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ে কোলেস্টেরলের কথা উল্লেখ আছে]

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কোলেস্টেরল

কোলেস্টেরল এক ধরনের চর্বিজাতীয় তৈলাক্ত পদার্থ। মানবদেহের প্রায় প্রত্যেক কোষ ও টিস্যুতে কোলেস্টেরল থাকে। যকৃৎ ও মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। কোলেস্টেরল লিপোপ্রোটিন নামক যৌগ সৃষ্টির মাধ্যমে রক্তে প্রবাহিত হয়। রক্তে তিন ধরনের লিপোপ্রোটিন দেখা যায়, যেমন—নিম্ন ঘনত্ববিশিষ্ট লিপোপ্রোটিন (LDL), উচ্চ ঘনত্ববিশিষ্ট লিপোপ্রোটিন (HDL) ও ট্রাই-গ্লিসারাইড (Tryglyceride)। LDL-কে খারাপ কোলেস্টেরল বলা হয়, কারণ এটি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। সাধারণত মানুষের রক্তে শতকরা ৭০ ভাগ LDL থাকে। HDL-কে ভালো কোলেস্টেরল বলা হয়। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। আর ট্রাই-গ্লিসারাইড চর্বি হিসেবে রক্তের প্লাজমায় অবস্থান করে। ট্রাই-গ্লিসারাইড মানুষের খাদ্যের প্রাণিজ চর্বি অথবা কার্বোহাইড্রেট থেকে তৈরি হয়ে থাকে। কোলেস্টেরল বেশি মাত্রায় থাকে—মাখন, চিংড়ি, ঝিনুক, গবাদি পশুর যকৃৎ, ডিমের কুসুমে।

মানুষের রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ ১০০-২০০ mg/dl। স্বাভাবিক মাত্রা থেকে রক্তে কোলেস্টেরল বেশি হলে রক্তনালি অন্তঃপ্রাচীরের গায়ে কোলেস্টেরল ও ক্যালসিয়াম জমা হয়ে রক্তনালি গহ্বর ছোট হয়ে যায়। এ কারণে ধমনিপ্রাচীরের স্থিতিস্থাপকতা কমে যায় এবং শক্ত হয়ে যায়। এ অবস্থাকে ধমনির কাঠিন্য বা আর্টারিওস্ক্লেরোসিস বলে। আর্টারিওস্ক্লেরোসিসের কারণে ধমনিপ্রাচীরে ফাটল দেখা দিতে পারে। ওই ফাটল দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়ে জমাট বেঁধে রক্তপ্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়। হৃৎপিণ্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। এতে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে LDL-এর পরিমাণ বেড়ে যায় আর HDL-এর পরিমাণ কমে যায়। কারো রক্তে LDL-এর পরিমাণ ১৫০ mg/d থেকে বেশি হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। 

 

আব্দুর রাজ্জাক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা