kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

জানা-অজানা

মিছরি

২৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মিছরি

[নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে ‘মিছরি’র কথা উল্লেখ আছে]

মিছরি মিষ্টিজাতীয় একধরনের দানাদার পদার্থ। এটি প্রধানত সাদা বা চিনির মিছরি ও তালমিছরি—এই দুই ধরনের হয়। মিছরি তৈরিতে তাল বা আখের রস জ্বাল দেওয়া হয় একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। চিনির মিছরি আখের রস এবং তালমিছরি তালের রস দিয়ে তৈরি করা হয়।

বিজ্ঞাপন

জ্বাল দেওয়ার পর রসগুলো একটি পাত্রে রেখে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো একটি বন্ধ ঘরে ঢেকে রাখা হয়। সপ্তাহখানেক পর রসের ওপরে ও নিচের অংশ শুকিয়ে দানাদার মিছরিতে পরিণত হয়।

চিনির মিছরি সাধারণত লালাভ সাদা রঙের হয়ে থাকে। হাইড্রোজ নামের রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে এই মিছরিকে ফকফকে সাদা করা হয়। তবে তালমিছরি প্রাকৃতিকভাবে তৈরি মিষ্টি। চিনির মিছরির তুলনায় এই মিছরিতে খাদ্যগুণ বেশি থাকে। এই মিছরিতে ব্লাড সুগার বাড়ানোর জন্য দায়ী গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের (GI) পরিমাণ অন্যান্য মিষ্টিজাতীয় পদার্থ থেকে কম (৩৫%)। এতে আছে প্রচুর পরিমাণে প্রয়োজনীয় ভিটামিনস, মিনারেলস (ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, আয়রন, জিংক, ফসফরাস ইত্যাদি) এবং অ্যামাইনো এসিড।

খাবার গ্রহণের পর মিছরি খেলে দেহের শক্তি তাত্ক্ষণিক বৃদ্ধি পায়। অনেকে মাউথ ফ্রেশনার হিসেবে খাবারের পর মিছরি খান। রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে নিদ্রাহীনতা বা অ্যানিমিয়া, চোখে ঝাপসা দেখা, দুর্বলতা, ক্লান্তি বোধের মতো নানা সমস্যা দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে মিছরি বেশ উপকারী ভূমিকা রাখে। এটি শুধু রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণই বাড়িয়ে দেয় না, পাশাপাশি রক্তের প্রবাহও ঠিক রাখে। ঠাণ্ডার কারণে কফ ও গলা ব্যথা হলে গোলমরিচের গুঁড়ার সঙ্গে ঘি ও মিছরি মিশিয়ে পেস্ট করে খেলে উপকার পাওয়া যায়। এ ছাড়া একটি বাটিতে গোলমরিচ গুঁড়া ও মিছরির গুঁড়া কুসুম গরম পানির সঙ্গে গুলিয়ে রাতে পান করলে কফ দূর হয়। তবে যাদের ডায়াবেটিস আছে তারা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া মিছরি না খাওয়াই উত্তম।       

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল



সাতদিনের সেরা